১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ক্যাডেটের ডায়েরি


‘ক্যাডেটের ডায়েরি’ লেখকের ক্যাডেট কলেজের জীবন থেকে নেয়া কিছু ক্ষণ, ঘটনা, অভিজ্ঞতা আর অনুভূতির সমষ্টি এবং দলিল। এই ডায়েরি লেখকের মনের আনন্দ, সংকল্প, বেদনা, গর্ব, হতাশা, দুঃখ-কষ্ট, ফেলে আশা মা-বাবা আর পরিজনদের নিয়ে উৎকণ্ঠা, আর বিভিন্ন মিশ্র অনুভূতির বহির্প্রকাশ। ডায়েরির সময়কাল ১৯৮০-১৯৮৩, যখন লেখকের বয়স ১৪ থেকে ১৭ বছর। ৬ বছরের ক্যাডেট কলেজ জীবনের নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর সময়ের গল্প।

ডায়েরিটি পড়ে সে সময়ের ক্যাডেটের দৈনিক জীবন, কলেজের রুটিন, রুটিন বহির্ভূত জীবন, নিয়মনীতি সম্বন্ধে ধারণা পাওয়া যায়। তৎকালীন ক্যাডেটের জীবনে বিস্মৃত প্রায় ‘কাগুজে চিঠি’ লেখার অভ্যাস লক্ষণীয়। অনেক স্থানেই তা বিধৃত হয়েছে। ‘পড়াশোনায় মন দিতে হবে’। ‘সব মার্ক দেওয়া হয়ে গেছে। এবার সেভেনথ হলাম’। বেশিরভাগ ক্যাডেটের মত, পড়ালেখার ব্যাপারে লেখককেও খুব সচেতন দেখা যায়। এ ব্যপারটি খুব বেশি চোখে পড়ে। ‘লাঞ্চে ডেয়ারিংনেস দেখালাম, টাই পরিনি’, কিংবা, ‘আজ প্রথম বারের মতো রাতের বেলা কলেজ থেকে পালিয়ে ফৌজদারহাট বাজারে গেলাম’, বা ‘আজ ডাব চুরি করতে গিয়েছিলাম’Ñ ইত্যাদির বর্ননা একটা শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনেও মানুষের মাঝে যে শৃঙ্খল ভাঙ্গার সহজাত প্রবণতা কাজ করে, তা সাবলীলভাবে উঠে এসেছে।

ডায়েরিটিতে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়ার হত্যা ও তৎপরবর্তী কিছু রাজনৈতিক তথ্য, এরশাদের ক্ষমতা দখল, কলেজের এ্যাডজুটেন্টের আত্মহত্যার বিষয়গুলোও উঠে এসেছে। প্যারেড, পিটি, ক্লাস, পরীক্ষা, ভ্রমণ, শিক্ষা সফর, প্যারেন্টস ডে, সাপ্তাহিক সিনেমা, লুকিয়ে টিভি দেখা, কলমবন্ধুত্ব করা, ক্যাডেটদের রস-বোধ ইত্যাদি বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার আলোচিত হয়েছে।

ক্যাডেটের ডায়েরি একজন ক্যাডেটের ব্যক্তিগত দলিল। ক্যাডেট কলেজ জীবনের মধ্যভাগের একজন কিশোরের দিনলিপির বর্ণনা একজন পাঠক এর মাঝে খুঁজে পাবেন। মাসুম রহমানের সুন্দর প্রচ্ছদের ভেতর ঝকঝকে কাগজে প্রকাশিত বইটি, লেখকের সহপাঠী, পরিচিত, সমসাময়িক অন্যান্য ক্যাডেট কলেজের ক্যাডেটদের দৃষ্টি কাড়বে সন্দেহ নেই।

মোহাম্মদ ফজলে রাব্বী