ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১

ইংল্যান্ডকে আটকানো মুশকিল হবে

প্রকাশিত: ২৩:৪৫, ২০ জুন ২০২৪

ইংল্যান্ডকে আটকানো মুশকিল হবে

রকিবুল হাসান

প্রিয় পাঠক, গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়ার শঙ্কায় পড়েছিল টি২০ বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ পরিত্যক্ত ও অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে যাওয়ায় রীতিমতো খাদের কিনারায় চলে গিয়েছিল ইংলিশরা। সেখান থেকে অনেক নাটকীয়তা শেষে সুপার এইটে এসেছে জস বাটলারের দল। আমি আগেই বলেছিলাম, ইংলিশরা যদি সেরা আটে পৌঁছে যায়, তাহলে তাদেরকে আটকানো মুশকিল হয়ে যাবে অন্য প্রতিপক্ষের জন্য। 
সে প্রমাণ দিতে দেরি করেনি ইংল্যান্ড। বৃহস্পতিবার স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তো তারা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে আট উইকেটের বড় জয় পেয়েছে। ক্যারিবীয়দের ১৮০ রান তারা টপকে গেছে মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে তাও আবার ১৫ বল হাতে রেখে। খেলাধূলার ক্ষেত্রে একটি কথা বেশ প্রযোজ্য। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে কোনো দল যদি রেসে ফিরে আসে, তাহলে তাদেরকে থামানো কঠিন হয়ে যায়। গত বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপে ঠিক এমনই করেছিল অস্ট্রেলিয়া। সেবার ভারতে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচেই হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের শঙ্কায় পড়েছিল অজিরা।

শেষ পর্যন্ত তারা ছন্দে ফিরে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট পরে। এবারের টি২০ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের পথচলাও একইভাবে হচ্ছে। সুপার এইটে প্রথম বড় ম্যাচেই উইন্ডিজকে হারিয়ে তারা কিন্তু সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে গেছে। 
প্রিয় পাঠক, গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের খেলা কাউকেই খুশি করতে পারেনি। আমারও ভালো লাগেনি। বিশেষ  করে তাদের ব্যাটারদের তেমন ছন্দ ছিল না। কিন্তু উইন্ডিজের বড় রান তাড়া করতে গিয়ে এই প্রথম তাদের ব্যাটারদের সাবলীল দেখা গেছে। ওপেনার সল্ট খেলেছেন ৪৭ বলে অপরাজিত ৮৭ রানের ঝক ঝকে ইনিংস। আগের ম্যাচগুলোতে সেট হওয়ার পরও তিনি আউট হয়ে গিয়েছিলেন। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার দারুণ ইনিংস খেলেছেন। টপঅর্ডারে এমন ইনিংস কেউ খেললে সেই দলের জয়ের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

ইংলিশদের মিডলঅর্ডারের অন্যতম ভরসা জনি বেয়ারস্ট্রো। দীর্ঘকায় এই খেলোয়াড়ও গ্রুপ পর্বে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। তবে আসল জায়গায় তিনি সফল। উইন্ডিজদের হারানোর ম্যাচে তার অবদানও কম নয়। মাত্র ২৬ বলে বেয়ারস্ট্রো খেলেছেন হার না মানা ৪৮ রানের ইনিংস। ইংল্যান্ডের জন্য এমন পারফর্মেন্স স্বস্তিকর। কেননা, সঠিক সময়েই তাদের ব্যাটাররা জ্বলে উঠেছেন। 
সুপার এইটের আরেক ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রত্যাশিত জয় পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে প্রোটিয়াদের সহজে ছেড়ে দেয়নি চমক দেখানো মার্কিন ক্রিকেটাররা। দক্ষিণ আফ্রিকার ১৯৪ রানের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র করেছে ১৭৬ রান। ওপেনার গাউস ৪৭ বলে ৮০ রান করে অপরাজিত থাকেন। টুর্নামেন্টে ব্যক্তিগত রান সংগ্রাহকের তালিকায় তিনি এখন ওপরের সারিতে। গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত খেলা জোন্স এ ম্যাচে রান করতে পারেননি। তার ব্যাট জ্বলে উঠলে কি হতো বলা মুশকিল।

তবে প্রোটিয়াদের বড় রান তাড়ায় যেভাবে খেলেছে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রশংসা করতেই হচ্ছে। গ্রুপ পর্বের মতো সুপার এইটে শুধু বোলাররা সুবিধা পাবেন না বলেই মনে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্যও এই পর্বটা খুব চ্যালেঞ্জের। কেননা আমাদের ব্যাটারদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন আছে। কিন্তু বোলাররা অসাধারণ বোলিং করে দলকে সেরা আটে নিয়ে এসেছেন। এখন উইকেট স্পোর্টিং কিংবা ব্যাটিং উপযোগী থাকলে শান্ত-সাকিবদের তেমন সম্ভাবনা দেখছি না। তারপরও টাইগারদের নিয়ে আমি আশাবাদী। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ব্যাটে-বলে-ফিল্ডিংয়ে লড়াই করুক। সেরাটা খেলতে পারলে জয়ও অসম্ভব না। শান্তদের জন্য শুভকামনা রইল।
অনুলিখন : জাহিদুল আলম জয়।

×