ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১

ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে চলেছে ভারত

প্রকাশিত: ২৩:৪৯, ১৩ জুন ২০২৪

ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে চলেছে ভারত

রকিবুল হাসান

প্রিয় পাঠক, এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট ভাবা হয়েছিল নিউজিল্যান্ডকে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও কিউইররা ধারাবাহিকভাবে যে কোনো বিশ্ব আসরের সেমিফাইনাল ও ফাইনালে খেলে থাকে। কিন্তু চলমান টি২০ বিশ্বকাপে তারা নিদারুণ ব্যর্থতার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। আফগানিস্তানের কাছে বাজেভাবে হেরে মিশন শুরু করা কিউইরা বৃহস্পতিবার হেরে গেছে সহ-আয়োজক ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছেও। 
টানা দুই হারে কেন উইলিয়ামসনের দেশ রীতিমতো খাদের কিনারায় চলে গেছে। তারা আসরের ‘সি’ গ্রুপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তিন ম্যাচের সব জিতে সুপার এইটে খেলা প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে। আফগানরাও দুই ম্যাচে সব জিতেছে। পাপুয়া নিউগিনির সঙ্গেও তারা জিতবে বলে মনে হয়।

সেক্ষেত্রে উইন্ডিজ ও আফগান দুদলের ভা-ারেই ৬ পয়েন্ট করে জমা হবে। কিন্তু কিউইরা দুটিতেই হেরে এখনো কোনো পয়েন্ট পায়নি। শুক্রবার সকালে আফগানরা তাদের ম্যাচ জিতে গেলেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ঘণ্টা বেজে যাবে কিউইদের। 
যে কারণে নিউজিল্যান্ডের এবার গ্রুপ পর্ব থেকেই তল্পিতল্পা গুটিয়ে দেশে ফেরা সময়ের ব্যাপার মাত্র। দুটি ম্যাচেই কিউইদের টপঅর্ডার নিদারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। বোলারদের পারফরমেন্সও প্রত্যাশামতো নয়। উইন্ডিজের বিরুদ্ধে ১৪৯ রান তাড়ায় যেভাবে ব্যাটিং করার দরকার ছিল সেটা করতে পারেনি উইলিয়ামসনের দল। মিডলঅর্ডারে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা হলেও টপঅর্ডার ব্যর্থ হয়েছে।

গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে কিউইদেরে ফাইনালে নেওয়ার অন্যতম রূপকার ছিলেন রাচিন রবীন্দ্র। কিন্তু এবার তিনি এখনো জ্বলে উঠতে পারেননি। অধিনায়ক উইলিয়ামসনও প্রত্যাশা মেটাতে পারছেন না। উইন্ডিজের বিরুদ্ধে তিন পেসার ভালো করলেও স্পিনার মিচেল সান্টনার দুই ওভারে ২৭ রান দিয়ে দলকে ডুবিয়েছেন। এই ভরাডুবি থেকে তাদের বের হয়ে আসার আর তেমন সম্ভাবনা দেখছি না।

প্রিয় পাঠক, চমক দেখানো যুক্তরাষ্ট্র অবশেষে থেমেছে। তাদের থামিয়েছে ফেভারিট ভারত। মার্কিনিরা হারলেও কিন্তু হাল ছেড়ে দেইনি। শেষ পর্যন্ত তারা লড়াই করেছে। এটা অত্যন্ত ইতিবাচক দিক। এমন মানসিকতা অনেক দলের মধ্যেই দেখা যায় না। পেসার আর্শদীপ সিং রীতিমতো আগুন ঝরিয়েছেন। আগের ম্যাচে জাসপ্রিত বুমরাহ নাকাল করেছিলেন পাকিস্তানকে।

ভারতের জন্য এটা অত্যন্ত ইতিবাচক দিক। তাদের অনেক ম্যাচ উইনার আছে। প্রতিটি ম্যাচে দুই একজন জ্বলে উঠলেই সাফল্য সম্ভব। আর্শদীপ তেমনই করেছেন। ভারতের হয়ে টি২০ বিশ্বকাপেই সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়েছেন। 
ব্যাটিংয়ে রোহিত-কোহলিরা সফল না হলেও সেটা মিডলঅর্ডারে পুষিয়ে দিয়েছেন সূর্যকুমার যাদব। এটা ভালো দিক। গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারতের মিডলঅর্ডার কিংবা লোয়ার অর্ডারকে কিছুই করতে হয়নি। কারণ টপঅর্ডার প্রতি ম্যাচেই সফল হয়েছিল। কিন্তু ফাইনালে টপঅর্ডার ব্যর্থ হলে মিডল অর্ডার ও লোয়ার অর্ডার খেই হারিয়ে ফেলে।

কারণ তার আগে একটা ম্যাচেও এমন অবস্থায় পড়তে হয়নি ভারতকে। কথাগুলো এজন্যই বলছি, এবার আগেভাগেই মিডলঅর্ডারকে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। যেটা ভালো দিক বলে আমি মনে করি। আমার মনে হয় গত ওয়ানডে বিশ্বকাপের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার এগিয়ে চলেছে ভারত।
অনুলিখন : জাহিদুল আলম জয়।

×