ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ০৩ মার্চ ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০

রূপকথা লেখা হলো না জর্দানের, শিরোপা কাতারের

​​​​​​​স্পোর্টস রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২২:৫০, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

রূপকথা লেখা হলো না জর্দানের, শিরোপা কাতারের

সেরা খেলোয়াড় কাতারের আকরাম আফিফ

বিগত কয়েক বছর ধরেই এশিয়ান ফুটবলে দুর্দান্ত খেলে চলেছে জর্দান। ধারাবাকিতায় এবার এশিয়ান কাপ ফুটবলের ফাইনালে উঠে আসে দেশটি। প্রথমবার শিরোপার মঞ্চে এসে প্রথম ট্্রফি জয়ের স্বপ্নে বিভোর ছিল তারা। কিন্তু শনিবার রাতে কাতারে হওয়া ফাইনাল মহারণে সেটা হতে দেয়নি স্বাগতিক কাতার। বলা যায় দেশটির ফরোয়ার্ড আকরাম আফিফ লিখতে দেননি জর্দানের রূপকথা। তিনি পেনাল্টি থেকে কাতারের হয়ে তিন গোল করেন। ফলশ্রুতিতে জর্দানকে - গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার এশিয়ান ফুটবলের সেরা হয়েছে ২০২২ বিশ্বকাপের সফল আয়োজক কাতার।

২২ মিনিটে আফিফ স্পট কিক থেকে স্বাগতিক কাতারকে এগিয়ে নেয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে জর্ডানকে সমতায় ফেরান ইয়াজান আল নিয়ামাত। তিনি গোলটি করেন ৬৭ মিনিটে। এরপর আফিফের আরও দুই পেনাল্টি  গোলে (৭৩ ৯০+ মিনিট) সাফল্যের গল্পে নতুন পাতা যোগ করে কাতার। আর রূপকথা লিখতে না পারার বেদনায় কাতর হয় জর্দান। পঞ্চম দল হিসেবে এশিয়ান কাপে একাধিকবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কীর্তি গড়েছে কাতার। এর আগে কৃতিত্ব আছে কেবল জাপান, সৌদি আরব, ইরান দক্ষিণ কোরিয়ার। দুইবারের চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ কোরিয়াকে সেমিফাইনালে হারিয়ে আসা জর্ডান প্রথমার্ধে ছিল সাদামাটা। ম্যাচের সপ্তম মিনিটে প্রথম আক্রমণটি শাণায় কাতার। আফিফের নেয় শট ফেরান জর্দান গোলরক্ষক আবু ইয়াজিদ। ১৬ মিনিটে ইয়াজান আল নিয়ামাতের দূরপাল্লার জোরালো শট সরাসরি যায় কাতার গোলরক্ষক  মেশাল বারশামের কাছে। ম্যাচের ২১ মিনিটে আফিফকে ডি বক্সে পেছন থেকে আব্দল্লাহ নাসিব ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। পরের মিনিটে সফল স্পট কিকে কাতারকে এগিয়ে নেন আফিফ। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সমতায় ফেরার ভালো সুযোগটি নষ্ট হয় জর্দানের। আলি ওয়ানের আড়াআড়ি ক্রসে মৌসা টামারির প্লেসিং শট মোহাম্মদ ওয়াদের গায়ে লেগে প্রতিহত হয়। কাতারের রক্ষণে চাপ ধরে রেখে ৬৭ মিনিটে সমতায় ফেরে জর্দান। ডান দিক থেকে হাদ্দাদের বাড়ানো ক্রস প্রথম ছোঁয়ায় দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন আল নিয়ামাত। জর্দানের স্বস্তি শেষ হয়ে যায় ছয় মিনিট পরই। বক্সে মোহাম্মাদ ইসমাইলকে মাহমুদ আল মুরাদি ফাউল করলে ভিএআর দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। ফের লক্ষ্যভেদ করেন আফিফ।

ম্যাচের যোগ করা সময়ে আবার পেনাল্টি পায় কাতার। এবারো গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করেন আফিফ। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, অনেকে বলতে পারেন পেনাল্টি থেকে সব গোল করেছি। কিন্তু আমার কাছে এটা ব্যতিক্রম নয়। আমি দলের হয়ে গোলগুলো করতে পেরেছি। আমি খুব খুশি যে আমার দেশ টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। দলের হয়ে ভূমিকা রাখতে পেরে আমি গর্বিত। ২৭ বছর বয়সী আফিফ আরও বলেন, আমরা কঠোর পরিশ্রমে ফসল পেয়েছি। আশা করছি ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব হবে। অন্যদিকে শেষটা সুন্দর না হলেও নিজেদের নিয়ে গর্বিত জর্দান।

 

×