ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

সেমিফাইনালে অভিজ্ঞ ও তারুণ্যের লড়াইয়ে মুখোমুখি নোভাক জোকোভিচ ও কার্লোস আলকারাজ

ফাইনালের আগে ফাইনাল

জিএম মোস্তফা

প্রকাশিত: ০০:৫০, ৯ জুন ২০২৩

ফাইনালের আগে ফাইনাল

নোভাক জোকোভিচ ও কার্লোস আলকারাজ

বিশ্ব টেনিসের অন্যতম সেরা তারকা নোভাক জোকোভিচ। সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসাধারণ পারফর্ম্যান্স উপহার দিয়ে ইতোমধ্যেই নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। সার্বিয়ান তারকা এবার চলমান ফ্রেঞ্চ ওপেনেও হট ফেভারিট। খেলছেনও দুর্দান্ত। শুরু থেকেই দাপুটে খেলে রোঁলা গ্যারোঁর সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন ২২ গ্র্যান্ডস্লামের মালিক। ফাইনালে উঠার লক্ষ্যে আজ আবারও কোর্টে নামছেন নোভাক জোকোভিচ। যেখানে তার প্রতিপক্ষ কার্লোস আলকারাজ। সময়ের সেরা তরুণ প্রতিভাবান এই স্প্যানিশ টেনিস তারকাও কোর্টে দাপট দেখাচ্ছেন। প্রত্যাশিতভাবে নিজের সেরাটা ঢেলে দিয়েই সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। যে কারণে প্যারিসে আজকের এই সেমিফাইনালকেই টেনিসবোদ্ধারা বিবেচনা করছেন ফাইনালের আগে ফাইনাল হিসেবে।

ফ্রেঞ্চ ওপেনের ড্র ঘোষণার পরই জানা যায় সবকিছু সঠিকভাবে এগুলে সেমিফাইনালেই মুখোমুখি হবেন নোভাক জোকোভিচ এবং কার্লোস আলকারাজ। শেষ পর্যন্ত সেটাই হলো। নিজেদের বাধা পেরিয়ে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে আজ একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছেন তারা। আলকারাজের আগেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেলন জোকোভিচ। কোয়ার্টার ফাইনালে কারেন খাচানোভকে হারিয়ে টুর্নামেন্টের শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করেন সার্বিয়ান তারকা। বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের সাবেক নাম্বার ওয়ান তারকা কোয়ার্টার ফাইনালে ৪-৬, ৭-৬ (৭/০), ৬-২ এবং ৬-৪ গেমে কাচানোভকে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেন। পরে স্টেফানোস সিসিপাসকে হারিয়ে টেনিসপ্রেমীদের টুর্নামেন্টের হেভিওয়েট ম্যাচ দেখার সুযোগ করে দেন আলকারাজ। শেষ আটের ম্যাচে তিনি সরাসরি সেটে ৬-২, ৬-১ এবং ৭-৬ (৭-৫) ব্যবধানে পরাজিত করেন গ্রিক তারকাকে। 
আলকারাজ বর্তমান বিশ্ব টেনিসের এক নম্বর খেলোয়াড়। অন্যদিকে জোকোভিচ নেমে গেছেন তিন নম্বরে। কিন্তু তথাপি সার্বিয়ান তারকা দীর্ঘদিন শাসন করেছেন টেনিস বিশ্বকে। স্প্যানিশ টেনিস তারকা আলকারাজ যখন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গ্র্যান্ডস্লাম জেতার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে জোকোভিচের সামনে ২৩তম গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের হাতছানি। এবারের আসরে আগের পাঁচটি রাউন্ডে মাত্র একটি সেট খুইয়েছেন আলকারাজ। জোকোভিচও একটিই সেট হেরেছেন। বাকি সব ম্যাচে সরাসরি সেটে জিতেছেন তাঁরা। এই পরিসংখ্যান বলে দিচ্ছে, এ বারের প্রতিযোগিতায় কতটা দাপট দেখিয়েছেন দুই তারকা। ফলে লড়াইটাও হবে সমানে সমানে।

সেমিফাইনালে শুধু শারীরিক লড়াই হবে না, হতে মানসিক প্রতিযোগিতা। টেনিসবোদ্ধাদের ধারণা ফিলিপে শাতিয়েঁর কোর্টে যে খেলোয়াড় আজ ঠান্ডা মাথায় নিজের খেলা খেলতে পারবেন, তিনিই ম্যাচ বের করে নিবেন। আলকারাজ এবং জোকোভিচের বয়সের পার্থক্য অনেক। স্পেনের আলকারাজের বয়স মাত্র ২০ বছর। সার্বিয়ার জোকোভিচের বয়স ৩৬। ১৬ বছরের পার্থক্য টেনিসে অনেক বেশি। কিন্তু জোকোভিচকে দেখে সেটা বোঝা যাচ্ছে না। নিজের থেকে ছোট প্রতিদ্বন্দ্বীদের হেলায় হারিয়েছেন। তবে বয়স বেশি হওয়ার সুবিধাও পাচ্ছেন জোকার। তা হল অভিজ্ঞতা। এত বছর ধরে এত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলেছেন। গ্র্যান্ডস্লামের সেমিফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবেন জোকোভিচ। সেই অভিজ্ঞতার বিরুদ্ধে লড়তে হবে আলকারাজকে।

দীর্ঘ ১৯ বছর পর এবারের আসরে নেই রাফায়েল নাদাল। আর সেই সুযোগে লাল দুর্গের রাজাকেই ছাড়িয়ে যাওয়ার হাতছানি দিচ্ছে জোকোভিচকে। তবে কোর্টে নামার আগে আলকারাজের প্রশংসায় পঞ্চমুখ জোকোভিচ। তিনি বলেন, ‘কোর্টে নিজেকে দারুণ ভাবে মেলে ধরতে পারে আলকারাজ। কোর্টের ভিতরে এবং বাইরে ও মানুষ হিসাবে দারুণ। কোর্টে ওর মতো প্রতিদ্বন্দ্বী পাওয়া মুশকিল। ওর দেশেরই একজন খেলোয়াড়ের কথা মনে  পড়ে যায় যে বাঁ হাতে খেলে।’ মুখে না বললেও তিনি নাদালের কথাই বোঝাতে চেয়েছেন এখানে। 
অন্যদিকে সেমিফাইনালের কঠিন চ্যালেঞ্জ খেলতে মুখিয়ে রয়েছেন আলকারাজ। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ম্যাচই তো সবাই দেখতে চায়। সত্যি বলতে, এই ম্যাচ খেলার জন্যে এবং দেখার জন্যে মুখিয়ে থাকে সবাই। আমি মন থেকে এই ম্যাচটা খেলতে  চেয়েছিলাম। আমিও বিশ্বাস করি, সেরাদের হারাতে হলে নিজেকে সেরা হতে হয়। জোকোভিচ এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়।  তাই আমার কাছে এটা কঠিন এক চ্যালেঞ্জ। তবে মুখিয়ে আছি এই ম্যাচে খেলার জন্যে।’ 
এর আগে এক বারই মুখোমুখি হয়েছেন জোকোভিচ ও আলকারাজ। ২০২২ সালে মাদ্রিদ মাস্টার্সের সেই ম্যাচে আলকারাজ হারিয়েছিলেন সার্বিয়ান তারকাকে। আজ তাই জোকোভিচের সামনে প্রতিশোধ নেওয়ারও সুযোগ।

×