ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১

বিশাল জয়ে প্রিমিয়ার লিগ শুরু আবাহনীর

যেন শেষ থেকেই আবার শুরু বিজয়ের

স্পোর্টস রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০০:৫০, ১৭ মার্চ ২০২৩

যেন শেষ থেকেই আবার শুরু বিজয়ের

এনামুল হক বিজয়

গত বছর লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে রানের বিশ^ রেকর্ড গড়েন টপঅর্ডার এনামুল হক বিজয়। এক মৌসুমে সর্বাধিক ১১৩৮ রান করেন ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে (ডিপিএল)। প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে ৩ সেঞ্চুরি ও ৯ অর্ধশতক হাঁকিয়েছিলেন। এবার দল-বদলে ঐতিহ্যবাহী আবাহনী লিমিটেড তাকে টেনে নিয়েছে। আর শুরুটা যেন গত বছর যেখানে শেষ করেছিলেন, সেখান থেকেই করলেন বিজয়।

ব্যাটে চলা রান বন্যার প্রবাহ ধরে রেখে এবার ডিপিএলের প্রথম ম্যাচেই দুর্দান্ত সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। ১১৮ বলে ১২৩ রান করেন তিনি। এর ফলে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ৬ হাজার রানের মাইলফলক পেরিয়েছেন তিনি। তার এই শতকে ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে ১২৪ রানের বিশাল জয়ে ডিপিএলে শুভ সূচনা করেছে আবাহনী। বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৭২ রান করে আবাহনী। এটি মিরপুরে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। জবাবে ব্রাদার্স নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৪৮ রান করতে সক্ষম হয়।

ডিপিএলের গত মৌসুমে রানের ফোয়ারা ছুটেছে বিজয়ের ব্যাটে। তাই লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে সব রেকর্ড ভেঙে দেন। ৩ সেঞ্চুরি ও ৯ হাফ সেঞ্চুরিতে তিনি ১১৩৮ রান করে বিশ্বরেকর্ড গড়েন। সে কারণে দীর্ঘ প্রায় ৪ বছর পর আবার বাংলাদেশ জাতীয় দলে ফেরেন। এরপর ৩ ফরম্যাটেই বেশ কিছু ম্যাচ খেলেছেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে না পেরে আবার ছিটকে গেছেন জাতীয় দল থেকে।

সর্বশেষ দুই সিরিজেও খেলেননি এবং আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজের দলেও ডাক পাননি। তাই যেন এবার প্রাইম ব্যাংক ছেড়ে আবাহনীতে এসে প্রথম ম্যাচেই জ¦লে উঠেছেন ব্যাট হাতে। ব্রাদার্সের বিপক্ষে ম্যাচে প্রথম থেকে তিনি দেখেশুনে খেলেছেন। অপরপ্রান্তে মোহাম্মদ নাইম শেখ ছিলেন বেশ আক্রমণাত্মক। তবে অর্ধশতক হাঁকানোর পর দ্রুতগতিতে ব্যাট চালাতে শুরু করেন বিজয়। একের পর এক বড় শট খেলে ব্রাদার্সের বোলারদের শায়েস্তা করতে থাকেন।

ফলে বিশাল সংগ্রহের ভিত পেয়ে যায় আবাহনী। ২৬তম ওভারে ১৫৭ রানের বিশাল উদ্বোধনী জুটি ভেঙে যায়। নাইম ৭৪ বলে ১২ চার, ১ ছয়ে ৮৫ রানে সাজঘরে ফেরেন। দুই ওভার পরেই মাহমুদুল হাসান জয় (৪) আউট হয়ে যান। কিন্তু এরপর আফিফ হোসেন ধ্রুবর সঙ্গে মাত্র ৭৩ বল থেকে ১০১ রানের জুটি গড়ে তোলেন বিজয়। ক্যারিয়ারের ১৬তম সেঞ্চুরি পেয়ে যান তিনি। 
লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ৬ হাজার রান পূর্ণ করতে মাত্র ৬৭ রান দরকার ছিল বিজয়ের। সেই মাইলফলক পেরিয়ে যান তিনি অনায়াসে। সেঞ্চুরির পর আরও দ্রুতবেগে ব্যাট চালাতে থাকেন। তবে ৪০তম ওভারে তাকে থামিয়েছেন মোহর শেখ। বিজয় ১১৮ বলে ৬টি চার ও ৬টি ছক্কায় ১২৩ রান করে বিদায় নেন আনিসুল ইসলাম ইমনকে ক্যাচ দিয়ে। বিজয়ের বিদায়ের পর আফিফ ও অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত তা-ব শুরু করেন। তবে জুটিটি বেশি বড় হয়নি। আফিফ ৪৭ বলে ৫ চার, ২ ছয়ে ৬৫ রানে বিদায় নেন মানিক খানের পেসে।

মানিক ২৭ বলে ৬ চার, ১ ছয়ে ৪৬ রান করা মোসাদ্দেককেও ফিরিয়ে দেন। শেষদিকে জাকের আলী অনিক ১১ বলে ৩ ছক্কায় ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন। ৬ উইকেটে ৩৭২ রান তোলে আবাহনী। মিরপুরে এটিই লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। আর লিস্ট ‘এ’ ডিপিএলের ইতিহাসে এটি চতুর্থ সর্বোচ্চ দলীয় ইনিংস। ৯ ওভার বোলিং করে সাব্বির হোসেন ৭৫ রানে ৩টি ও মানিক খান ৭১ রানে ২টি উইকেট নেন।

জবাব দিতে নেমে ব্রাদার্স দ্রুতই তানজিদ হাসান (৮) ও সাব্বিরের (৫) উইকেট হারালেও অধিনায়ক মিজানুর রহমান ও মাইশুকুর রহমান রিয়ালের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে দারুণ জবাব দিতে থাকে। তবে মিজানুর ১১৬ বলে ১১ চার, ২ ছক্কায় ১০২ রানে সাজঘরে ফিরলে ১২২ রানের তৃতীয় উইকেট জুটি ভেঙে যায়। মাইশুকুরও ৯৯ বলে ৬ চার, ২ ছয়ে ৭৩ রানে রিপন ম-লের শিকার হন। আর কেউ ভালো ইনিংস খেলতে পারেননি। ফলে ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৪৮ রানেই থেমেছে ব্রাদার্স। তানভীর ইসলাম ও রিপন ২টি বরে উইকেট নেন। 
স্কোর ॥ আবাহনী লিমিটেড ইনিংস- ৩৭২/৬; ৫০ ওভার (বিজয় ১২৩, নাইম ৮৫, আফিফ ৬৫, মোসাদ্দেক ৪৬; সাব্বির ৩/৭৫, মানিক ২/৭১)।
ব্রাদার্স ইউনিয়ন ইনিংস- ২৪৮/৬; ৫০ ওভার (মিজানুর ১০২, মাইশুকুর ৭৩; তানভীর ২/২৭, রিপন ২/৬৩)।
ফল ॥ আবাহনী লিমিটেড ১২৪ রানে জয়ী। 
ম্যাচসেরা ॥ এনামুল হক বিজয় (আবাহনী)।

×