ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২

বিরোধী দলের ওয়াকআউট নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১৮:৫৬, ১২ মার্চ ২০২৬

বিরোধী দলের ওয়াকআউট নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ চলাকালে বিরোধী দলের ওয়াকআউট ও প্রতিবাদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুখ খুলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বিরোধী দলের এই অবস্থানের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘এই রাষ্ট্রপতিই ৫ ও ৬ আগস্ট তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং তার কাছেই অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা শপথ নিয়েছেন। তাদের দু-একজন এই সংসদেও আছেন। তাহলে এখন এই বিরোধিতা কেন?’
 

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে সংসদ অধিবেশন মুলতবি হওয়ার পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।


বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তারা ৫ আগস্টের বিকেল বেলা এবং ৬ আগস্ট আলাপ-আলোচনা করেছেন, যাদের উপস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নিয়েছে–সেই রাষ্ট্রপতিকে আজ কেন অস্বীকার করা হচ্ছে? তাদের দলের (বিরোধী দল) দু-একজন তো এই সংসদের সদস্য হিসেবেও শপথ নিয়েছেন। এই স্ববিরোধিতা কেন, সেটা তাদেরই জিজ্ঞেস করা উচিত।’


তবে সংসদীয় গণতন্ত্রে ওয়াকআউটকে একটি স্বাভাবিক সংস্কৃতি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক কালচারে ওয়াকআউট নতুন কোনো ঘটনা নয়, তারা এটি করতেই পারেন।’
 

আরও পড়ুন: শহীদের রক্তের ওপর তাঁবেদার ও ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে: রাষ্ট্রপতি


সংসদ কেমন হবে–এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘অবশ্যই সংসদ অর্থবহ হবে। এটি হবে জাতীয় সব সমস্যা ও ইস্যুর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। আমরা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে হাঁটব। ফ্যাসিবাদবিরোধী যে জাতীয় ঐক্য আমাদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে, সেই ঐক্য আমরা ধরে রাখব এবং জাতীয় যে কোনো ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাব।’


এর আগে, বিকেলের অধিবেশনে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ যখন রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেয়ার আহ্বান জানান, তখনই জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বিরোধীদলীয় সদস্যরা ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’, ‘গণতন্ত্র চাই, ফ্যাসিজম নয়’–এমন স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ শুরু করেন। হট্টগোলের একপর্যায়ে তারা সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন।


বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংসদ থেকে বের হয়ে অভিযোগ করেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের সময় রাষ্ট্রপতি নীরব ছিলেন এবং তিনি ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের সহযোগী’ ছিলেন। তাই সংসদে তার ভাষণ দেয়ার নৈতিক অধিকার নেই।
 

বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার লিখিত ভাষণ পাঠ করেন। তিনি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার দল বিএনপিকে অভিনন্দন জানান। রাষ্ট্রপতি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের প্রত্যাশা করেন।

মিমিয়া

×