ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৯ মে ২০২৪, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

স্মার্ট দেশ গড়তে একশ’ কোটি

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ৬ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা বাড়ছে

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২৩:১৪, ১ জুন ২০২৩

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ৬ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা বাড়ছে

২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বেড়েছে

২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বেড়েছে। প্রাথমিক, মধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা এবং কারিগরি শিক্ষাসহ সব সেক্টরে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বাজেটে শিক্ষায় এবার বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ৮৮ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। এ ছাড়া গবেষণা,  উদ্ভাবন ও তরুণ জনগোষ্ঠীকে উৎসাহ দিতে ১০০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাজেট বরাদ্দের বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল শিক্ষা খাতে বাজেট বক্তব্য থেকে এ তথ্য জানা গেছে। চলতি অর্থ বছরের তুলনায় আসন্ন অর্থ বছরে মোট ৬ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই দুই মন্ত্রণালয়ের জন্য আসন্ন অর্থবছরে মোট ৮৮ হাজার ১৬২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা গত অর্থবছরে ছিল ৮১ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা।
জানা যায়, স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও ডিজিটালাইজ করা হচ্ছে। ৫০ হাজার স্কুলে ৫৯ হাজার ল্যাপটপ, ইন্টারনেট ও সাউন্ড সিস্টেম সরবরাহ করা হয়েছে। প্রাথমিকের কোমলমতি শিশুদের পড়াশোনার পরিবেশ আনন্দঘন করতে প্রাক-প্রাথমিক নতুনভাবে সাজানো হবে। এর আওতায় একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। এটি জুলাই ২০২৩-জুন ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। এর ফলে ১০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাক-প্রাথমিক সাজানো হবে। মেয়ে শিক্ষার্থী ও নারী শিক্ষকের জন্য প্রতিটি স্কুলে আলাদা টয়লেট স্থাপন করা হবে। এবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য  ৩৪ হাজার ৭২২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল ৩১ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা। 
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবার মডেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, বিজ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার বিষয়ে বাজেটে জোর দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পাঠ্য বইয়ে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বেশকিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য ৪২ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা চলতি বছর ছিল ৩৯ হাজার ৯৬১ কোটি টাকা। 
২০১০ সালে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থী ভর্তির হার ছিল মাত্র ১ শতাংশ। বর্তমানে যা প্রায় ১৮ শতাংশ। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার ৩০ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এই প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য ১০ হাজার ৬০২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যেখানে চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ করা হয়েছিল ৯ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা।
তরুণ-তরুণীদের জন্য ১০০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ ॥ স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের চালিকাশক্তি হিসেবে তরুণ-তরুণী ও দেশের যুবসমাজ। এই জনগোষ্ঠীকে প্রস্তুত করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আগামী বাজেটে ১০০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হবে। গবেষণা, উদ্ভাবন ও উন্নয়নমূলক কাজে আগামী বাজেটে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি দেশে-বিদেশে তরুণ-তরুণীদের কাজের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।প্রথাগত কর্মসংস্থানের ধারণা থেকে বের হয়ে এসে তরুণ-তরুণীরা বিভিন্নমুখী ও উদ্ভাবনী উদ্যোগে নিজেদের নিয়োজিত করবে। এর আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ ও ইনোভেশন সেন্টারের মাধ্যমে ৮০ হাজার তরুণ-তরুণীকে অগ্রসর প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। 
দেশের জনসংখ্যার ৬৬ শতাংশ কর্মক্ষম। এরমধ্যে মোট জনগোষ্ঠীর ২৮ শতাংশ তরুণ। তরুণ-তরুণীসহ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষা- স্বাস্থ্য-প্রশিক্ষণ-দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক, দক্ষ ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী মানবসম্পদে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

×