ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ৩১ মে ২০২৩, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০

সাংবাদিকদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

র‌্যাব হেফাজতে নারীর মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না

কূটনৈতিক রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২৩:৫২, ২৯ মার্চ ২০২৩; আপডেট: ১২:৩৩, ৩০ মার্চ ২০২৩

র‌্যাব হেফাজতে নারীর মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‌্যাব ও এলিট ফোর্সটির ৭ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সংস্থাটির হেফাজতে সুলতানা জেসমিনের মৃত্যুর অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না মনে করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
র‌্যাবের ওপর থেকে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ওঠেনি। এর মধ্যে র‌্যাব হেফাজতে সুলতানা জেসমিনের মৃত্যু হয়েছে। এক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের প্রভাব ফেলবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নিশ্চয়ই না। এ ধরনের দুর্ঘটনা আমেরিকায় প্রতিদিনই হচ্ছে। এ সপ্তাহে স্কুলে বাচ্চা মেরে ফেলেছে। এ নিয়ে কারও সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হচ্ছে? এ ধরনের ঘটনা হঠাৎ করে হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার সকাল ১০টার দিকে নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড় এলাকা থেকে রাজশাহী র‌্যাব-৫ এর একটি দল সুলতানা জেসমিনকে আটক করে। একটি অভিযোগের ভিত্তিতে জেসমিনকে আটক করে এলিট ফোর্সটি। দুই দিন পর শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ওই নারীর মৃত্যু হয়। 
সুলতানা জেসমিন নামে ওই নারীর মৃত্যুর খবর গণমাধ্যম থেকে জেনেছেন বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, পত্রিকার মাধ্যমে ঘটনাটা জানলাম। সত্য-মিথ্যা জানি না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও র‌্যাব বলতে পারবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ড. মোমেন আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্র নিয়ে সমস্যা। দেশটির গণতন্ত্র দুর্বল। তাই দেশটি গণতন্ত্রকে আরও সোচ্চার করতে দেশে-বিদেশে চেষ্টা করছে।
বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লেখা চিঠিতে গণতন্ত্র ও নির্বাচন প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন। এ বিষয়ে সরকারের উদ্বেগ রয়েছে কী না, এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভূ-রাজনৈতিক কারণে আমাদের ইমেজ বেড়েছে। সবাই এখন আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে চায়, ব্যবসা বাড়াতে চায়। আমরা চাই স্বচ্ছ ও সুন্দর নির্বাচন হোক। যুক্তরাষ্ট্রও চায়। তাদের দেশে গণতন্ত্র নিয়ে সমস্যা। গত নির্বাচনে (মার্কিন নির্বাচন) তাদের দেশের অন্য দল বিশ্বাসই করেনি, আমেরিকার নির্বাচন স্বচ্ছ হয়েছে। 
মোমেন বলেন, তারা গণতন্ত্রকে আরও জোরদার করতে দেশে-বিদেশে চেষ্টা করছে। আমরাও চেষ্টা করছি। এসব যদি তারা বলেন, নাথিং রং। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হওয়ার জন্য আমরা স্বচ্ছ ইনস্টিটিউশন তৈরি করেছি। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স তৈরি করেছি, ছবিযুক্ত ভোটার আইডি করেছি।
গণতন্ত্রের জন্য বাংলাদেশের অন্যের কাছ থেকে সবক নিতে হবে না বলেও মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের জন্য আমাদের অন্যের কাছ থেকে সবক নিতে হবে না। কারণ, আমরাই একমাত্র দেশ যারা গণতন্ত্রের জন্য, ন্যায়বিচারের জন্য মানবিকতার জন্য ৩০ লাখ লোক প্রাণ দিয়েছি। এটা অনেকে ভুলে যান, অন্য কেউ এত প্রাণ দেয় নাই।

বাংলাদেশের গণতন্ত্র অত্যন্ত পরিপক্ব। শেখ হাসিনার কারণে বাংলাদেশের গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হয়েছে। এ সময় মন্ত্রী বিএনপি সরকারের আমল তথা ২০০১-০৬ শাসন আমলে দেশে গণতন্ত্র ছিল না বলেও অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ২০০১-০৬ সালে গণতন্ত্র ছিল না। তখন জিহাদী ছিল, সন্ত্রাসী ছিল।
আগামী নির্বাচন স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হওয়ার বার্তা দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, গত ১৪ বছরে শেখ হাসিনা সরকারে অধীনে অনেক নির্বাচন হয়েছে, সেগুলো স্বচ্ছ হয়েছে। এক হাজারের মধ্যে পাঁচটা হয়ত প্রশ্নবিদ্ধ, আর সব স্বচ্ছ হয়েছে। আমরা আশা করি, আগামীতেও আমাদের নির্বাচন স্বচ্ছ, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য হবে। শেখ হাসিনা সরকার সুন্দর ও স্বচ্ছ নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর।
তবে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সরকারের একার পক্ষে করা সম্ভব নয় বলেও মনে করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা সরকারের একার দায়িত্ব নয়। যারা ভোটার তাদের দায়িত্ব, বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী যারা নেতৃত্বে থাকবেন তাদের দায়িত্ব। আরও বড় দায়িত্ব হলো রাজনৈতিক দলের।
সৌদি আরবে ওমরা পালন করতে গিয়ে বাস দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া বাংলাদেশীদের মরদেহ দেশে ফেরানো নিয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে মোমেন বলেন, সরকার তো সবার মরদেহ নিয়ে আসে। যারা অস্বচ্ছল তাদের মরদেহ সরকার দেশে নিয়ে আসে।
ওমরা পালন করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় নিহতের লাশ সরকারি ব্যবস্থায় ফেরানোর প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা আমি এখন বলতে পারব না। আমাকে জেনে জানাতে হবে। সাধারণত বিদেশে মারা গেলে অস্বচ্ছলদের সরকারি পয়সায় মরদেহ নিয়ে আসি।