ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ০৫ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯

বগুড়ায় বনায়নের গাছ কাটার মহোৎসব

প্রকাশিত: ০৪:১০, ২২ জানুয়ারি ২০১৬

বগুড়ায় বনায়নের গাছ কাটার মহোৎসব

সমুদ্র হক ॥ বগুড়ায় সামাজিক বনায়নের গাছগুলো অজ্ঞাত রোগে মারা যাচ্ছে। এ রোগ শনাক্ত করতে পারছে না বন বিভাগ। অন্যদিকে এই গাছই গোপনে কাটা হচ্ছে কোন নিয়ম না মেনে। কখনও ঝড়ে ভেঙ্গে পড়লে তা নিয়ে যাচ্ছে এলাকার লোক। বিশেষ করে দুপচাঁচিয়া, শাজাহানপুর ও ধুনট উপজেলা এলাকায় সামাজিক বনায়নের গাছ কাটা হচ্ছে বেশি। কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছেন যে গাছগুলো রোগাক্রান্ত হচ্ছে সেগুলোই কাটা হচ্ছে। গাছ কাটা, মরে যাওয়া ও ভেঙ্গে যাওয়ার পর নতুন করে কোন গাছ রোপিত হচ্ছে না। পরিবেশ রক্ষা এবং গ্রামীণ জীবনমান উন্নয়নে দারিদ্র্য বিমোচন ও নারী উন্নয়নে ১০ থেকে ১৫ বছর আগে দুপচাঁচিয়া ও ধুনট এলাকায় সামাজিক বনায়ন কর্মসূচীর আওতায় বৃক্ষ রোপিত হয়। দুপচাঁচিয়ার ধাপ-মোলামগাড়ি সড়কের দুই ধারে, ধাপ থেকে পাথাট্টি ৭ কিলোমিটার সড়ক চৌমুহনী থেকে তালুচ সড়ক, সাহারপুকুর-অর্জুননগর সড়ক, চৌমুহনী-আলতাফনগর সড়কের দুই ধারে শিশু মেহগনি রেইনট্রি আকাশমনি ও আয়বর্ধক বেশকিছু গাছ লাগানো হয়। বগুড়া সদর ও ধুনটের কয়েকটি এলাকায় দারিদ্র্য বিমোচনে নারী উন্নয়নে এসব গাছ লাগান হয়। ধুনটের কয়েকটি এলাকায় বেসরকারীভাবে এই কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়। তবে তা বন বিভাগের নজরদারিতেই থাকে। এসব গাছ পরিচর্যা ও দেখভাল করার দায়িত্ব পায় গ্রামের দরিদ্র জনগোষ্ঠী। বিশেষ করে দরিদ্র নারী। এদের নাম দেয়া হয় উপকারভোগী। প্রতি কিলোমটার সড়ক ধারে ৫ জন করে উপকারভোগী নির্বাচিত হয়। চুক্তি করা হয় গাছগুলো বেড়ে উঠলে তা বিক্রি করে নতুন করে গাছ লাগান হবে। প্রতিটি গাছ বিক্রির ৫৫ শতাংশ পাবে উপকারভোগী। এই গাছ বিক্রির অর্থই দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ; বছরের পর বছর ধরে গাছগুলো বেড়ে উঠে নতুন গাছ রোপণের সময় হওয়ার পরও বন বিভাগ এ গাছগুলো না কেটে পথের ধারেই রেখে দেয়। কোন সময়ে গ্রামের প্রভাবশালীরা এই গাছ প্রকাশ্যে কেটে নেয়। তখন বলা হয় বন বিভাগের কাছ থেকে নিলামে এই গাছ কেনা হয়েছে। কিভাবে এ গাছ কেনা হলো উপকারভোগীরা জানতে পারল না কেন, নির্ধারিত হারে বিক্রির অর্থ কেন পেল না তার কোন উত্তর মেলে না। এসব কারণে গ্রামের উপকারভোগীরা গাছ দেখভাল করা ছেড়েই দিয়েছে। একই কারণে নতুন করে বৃক্ষ রোপণ হচ্ছে না। এ অবস্থার মধ্যে পুরনো গাছগুলো এক ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়ে মরে যাচ্ছে। প্রথমে গাছের শাখা প্রশাখার পাতা ঝরে পড়ে। তারপর গাছের খালবাকল খসে পড়তে থাকে। এক পর্যায়ে এই গাছ মরে যায়। এলাকার প্রভাবশালীরা গাছ মরা শুরু হলে তা বুঝতে পারে। কিভাবে বোঝে তাও রহস্যজনক। পরে সেই গাছ কিনে নেয়ার অজুহাতে কাঠুরিয়াকে ডেকে এনে কেটে ফেলা হয়। এই গাছ বিক্রির অর্থ কোথায় যায় সে খবর কেউ রাখে না নেয়ও না। বগুড়া সদরের বিভিন্ন এলাকায় গাছ মরে যাওয়া ও গাছ কাটার মহোৎসব শুরু হয়েছে এভাবেই। শরণখোলায় লুট স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট থেকে জানান, শরণখোলার সোনতলা এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পোল্ডারের বেড়িবাঁধের দুই পাশে রোপণকৃত সামাজিক বনায়নের গাছ লুটে নিচ্ছে দুর্বৃত্তরা। রাতের আঁধারে বিভিন্ন প্রজাতির বড় বড় গাছ কেটে পাচার করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি পাচারকারী চক্র এ গাছ পাচারে জড়িত বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা সামাজিক বনায়ন রক্ষার কাজে নিয়োজিত আবুল হারেজসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবন সংলগ্ন দাসের ভারানী থেকে শরণখোলা রেঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকার রাস্তার উভয় পাশের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লুট করছে। ওই চক্রটি এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পারছে না। তারা গভীররাতে নির্বিচারে গাছ কেটে বনায়ন উজাড় করে চলেছে। বনায়নের গাছ চেরাই করে নৌকা ও ট্রলার তৈরির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি এলাকার বাইরেও ট্রলার বোঝাই করে পাচার হয়ে যাচ্ছে বনায়নের এসব গাছ। মাঝে মধ্যে দু-একজন পাচারকারী ধরা পড়লেও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারছে না বনবিভাগ। উপজেলা সামাজিক বনায়নের কর্মকর্তা ফোরকানুল আলম গাছ লুটের কথা স্বীকার করে বলেন, ১৯ জানুয়ারি সোনাতলা এলাকা থেকে দুর্বৃত্তদের ফেলে যাওয়া দুটি গাছ জব্দ করা হয়েছে। বিষয়টির তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।