প্রতি বছর ৮ মার্চ বিশ্বব্যাপী পালিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস। ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ ৮ মার্চকে নারী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে এবং এর পর থেকেই প্রতিটি দেশ অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দিবসটি পালন করে আসছে।
শুরুটা ছিল ১৮৫৭ সালে। যুক্তরাষ্ট্রের নারীরা মজুরিবৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরোধিতা করে প্রথম রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায়। সেই মিছিলে হামলে পড়ে সরকারি লেঠেল বাহিনী। ১৯০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জার্মান রাজনীতিবিদ ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে নিউইয়র্কে প্রথম নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর পরের বছর ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে ১৭টি দেশের ১০০ জন নারী প্রতিনিধির উপস্থিতিতে অনু্ষ্িঠত হয় ২য় নারী সম্মেলন এবং এখানেই ক্লারা ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের প্রস্তাব করেন। ১৯১৪ সাল থেকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করে বেশ কয়েকটি দেশ এবং সূচনাটা সেখান থেকেই। ১৯৭৫ সালে খোদ জাতিসংঘ সকল সদস্য রাষ্ট্রকে আহ্বান জানায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করার জন্য।
বাংলাদেশ ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা লাভের পূর্ব থেকেই নারী দিবস পালন করছে। প্রতি বছর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও দিবসটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে পালন করে। নারী দিবস পালনের শত বছর পার হলেও নারীর সম-অধিকার কতটা নিশ্চিত করা গিয়েছে তা আলোচনার খোরাক জোগায় বটে। এখনো নারীদের যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয় অপরিণত বয়স থেকেই, কর্মস্থলে মানসিক নির্যাতনের বিষয়ে প্রায়ই মুখ খোলেন অনেক নারী বিশেষ করে যারা বেসরকারি খাতে চাকরি করেন। সরকারি চাকরিজীবী নারীদের সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলক সন্তোষজনক হলেও বেসরকারি খাত নিয়ে প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট সুযোগ আছে।
নারীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আরও বেশি কাজ করার সুযোগ রয়েছে। থানাগুলোতে নারী ও শিশু ডেস্ক চালুর বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজে এমন এমন উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা হয়।
শিক্ষায় নারীরা এগিয়ে থাকলেও চাকরির মাঠে নারীরা এখনো পিছিয়ে। এর কারণগুলো খুঁজে বের করে জরুরি ভিত্তিতে সমাধান খোঁজ করা জরুরি। রাজনীতিতে নারীরা যথেষ্ট পিছিয়ে আছে। সদ্য সমাপ্ত হওয়া জাতীয় নির্বাচনে নারী এমপি প্রার্থীদের মনোনয়ন হার এবং মন্ত্রিসভায় নারীর স্বল্প উপস্থিতি তেমনই বার্তা দেয়।
কর্মক্ষেত্রে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার, আধুনিক ডে-কেয়ার সেন্টার, প্রশিক্ষিত বেবি কেয়ার গিভারের অভাবসহ নানা কারণে কর্মজীবী মায়েরা কর্মক্ষেত্রে নিজের সর্বোচ্চ দক্ষতা প্রদর্শন করতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন। গবেষণা, লেখালেখি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত কাজে সম্পৃক্ততা, রাজনীতি, সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে তাদের উপস্থিতি আরও বেশি কাম্য।
আজও গৃহস্থালি সামলানোর মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজকে মর্যাদার চোখে দেখা হয় না। তেমনি নেই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিও। তবে, সুখের বিষয় অতি সম্প্রতি বর্তমান সরকার ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছেন যেখানে গৃহিণী নারীদের বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা আছে। বলা বাহুল্য এই উদ্যোগ নারীদের ক্ষমতায়ন ও মর্যাদা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।
পুরুষশাষিত সমাজ বলে পরিচিত বৈষম্যমূলক শব্দটির মূলোৎপাটন করে সম-অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব পুরুষদেরও কম নয়। একুশ শতকের এই আধুনিক বিশ্ব হোক নারী-পুরুষের সম-অধিকারের বিশ্ব। নারীদের ক্ষমতায়নের পথ সুগম হোক সেই প্রত্যাশা এবারের নারী দিবস ঘিরে।
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার
মানিকগঞ্জ সদর, মানিকগঞ্জ
প্যানেল/মো.








