ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০

প্রবাসী স্ত্রীর টাকা চুরি করে দেশে গিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে

প্রকাশিত: ২১:৩৭, ৬ ডিসেম্বর ২০২৩

প্রবাসী স্ত্রীর টাকা চুরি করে দেশে গিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে

ইকবাল উদ্দিন। 

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন প্রবাসী প্রথম স্ত্রীর ৯ লাখ টাকা চুরি করে দেশে গিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন ইকবাল উদ্দিন (২৬)। এ ঘটনায় প্রবাসী ইকবালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

রবিবার (৩ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে ইকবালকে জেল হাজতে পাঠায়। গত ২৪ নভেম্বর নিজ এলাকা চুয়াডাঙ্গা থানায় ইকবালের প্রথম স্ত্রী ইয়াসমিন সুলতানা মামলা দায়ের করেন। 

অভিযোগে থেকে জানা যায়, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানার দক্ষিণ ইদিলপুর গ্রামের মো. ইকরামুদ্দিনের ছেলে ইকবাল উদ্দিন ২০১২ সালে অভিবাসী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। প্রায় ৩ বছর পর দেশে গিয়ে ২০১৫ সালের ২৬ জানুয়ারি চুয়াডাঙ্গা থানায় সাদেক আলী মল্লিক পাড়ার মৃত আব্দুল ওহাবের মেয়ে ইয়াসমিন সুলতানাকে বিয়ে করেন। ইয়াসমিনের আগের বিয়ে এবং দুটি সন্তানের কথা জেনেই তার পরিবারের সম্মতিতেই তাদের বিয়ে হয়। পরে ইয়াসমিন যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর থেকেই ইকবালের মা ও বোনেরা তাকে নিয়মিত আগের বিয়ে ও সন্তানের কথা বলে খোটা দিতে থাকেন। তাদের সব মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করেও ২০১৫ সাল থেকে ইকবালের সঙ্গে সংসার করছিলেন ইয়াসমিন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর থেকেই কোনো কাজ করত না ইকবাল। পুরো সংসার চালাত তার স্ত্রী। এমনকি ইয়াসমিনের কাছ থেকে নিয়মিত পকেট খরচও নিত ইকবাল। 

একপর্যায়ে ৫ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য চাপ দিয়ে থাকেন ইয়াসমিন ও তার পরিবারকে। মাঝে মধ্যে ইয়াসমিনকে তালাক দেওয়ার হুমকি দেন। টাকা দিতে অস্বীকার করলে ইকবাল ইয়াসমিনের সঙ্গে নানা ছলচাতুরী ও অভিনয় করতে থাকে। কিছুতেই কাজ না হলে ইকবাল কৌশলে তার স্ত্রীর জমানো ৮ হাজার ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯ লাখ টাকা) চুরি করে গত ৭ আগস্ট ২০২৩ বাংলাদেশে পালিয়ে যান।

এরপর গত ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশে ছুটে যান ইয়াসমিন। ওইদিন বিকেলে ইয়াসমিনের ভাতিজা তৌহিদ আলম ইয়াসমিনের পক্ষে চুয়াডাঙ্গা থানা পুলিশের কাছে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মামলাটি আদালতে পাঠালে গত ১ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গা সদর কোর্টের বিজ্ঞ বিচারক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের কাছে পাঠান। পরে ৩ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে ইকবালকে জেল হাজতে পাঠায়।

ইকবালের প্রবাসী স্ত্রী ইয়াসমিন সুলতানা জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর থেকেই কোনো কাজ করত না ইকবাল। নানা অজুহাতে বোস্টনের বাংলাদেশিদের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে ইকবাল। সে ঢাকা ও সীতাকুণ্ড এলাকার বেশ কয়েক যুবককে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে যাবার কথা বলে মোট অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ পেয়েছেন। বোস্টনের বেশ কিছু মেয়ের সঙ্গেও তার অবৈধ সম্পর্ক ছিল। 

 

এম হাসান

×