ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

বরাদ্দ ৪০কেজি, জেলেরা চাল পায় ৩০কেজি 

ইউপি সদস্যদের পেটে গরিবের চাল 

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাউফল, পটুয়াখালী

প্রকাশিত: ১৪:৫৩, ২৬ মার্চ ২০২৩

ইউপি সদস্যদের পেটে গরিবের চাল 

চালের বস্তা

মানবিক কর্মসূচির আওতায় নিবন্ধনকৃত দরিদ্র জেলেদের জন্য ৪০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হলেও  জেলেদের মাঝে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। বরাদ্দের বাকি চাল লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও সদস্যদের বিরুদ্ধে।  

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে  জাটকা আহরণে বিরত থাকা দরিদ্র জেলেদের জন্য মানবিক কর্মসূচির আওতায় নাজিরপুর ইউনিয়নের ৬৮৩জন নিবন্ধন জেলেদের  ৪০ কেজি হারে ২৭.৩২০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।ওই চাল বিতরণ কালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের পাশে ধানদী কামিল মাদ্রাসা মাঠে চাল বিতরণ করছেন ইউপি সদস্যরা। জেলেদের নাম প্রতি ৪০ কেজি চাল বরাদ্দ থাকলেও  বিতরণ করা হচ্ছে ৩০কেজি করে চাল। পাশেই বসে আছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার ও ইউপি সচিব।  সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে দৌড়ঝাপ শুরু করেন ইউপি সচিব আবু বকর। 

চাল নিয়ে ফেরার পথে ৭নম্বর ওয়ার্ডের জেলে মো. রেজাউল করিম (৪৩) বলেন, আগে ৪০ কেজি করে চাল পেতাম। এবার দিছে ৩০ কেজি। তবে বস্তা দেখে মনে হয় ৩০ কেজিরও কম। পরিষদের পাশে এক দোকানে মাপ দিয়ে দেখা যায় চাল আছে ২৩কেজি ৯শ গ্রাম।

জেলেদের চাল বিতরণে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যানের ভাই ও ইউপি সদস্য আহসান হাবিব মিন্টু সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করে বলেন, এবারের জন্য মাফ করেন। সংবাদ প্রকাশ করার দরকার নেই।

৬নং ওয়ার্ডের জেলে আ. রহমান, মো. শাজাহান সরদার ও ফারুক মৃধা চাল নিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন। তাদের সাথে কথা হলেও তারও জানান, ‘ আগে ৪০ কেজি করে চাল দেওয়া হত, এবার ৩০ কেজি করে দেওয়া হয়েছে। 
ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের নিবন্ধনকৃত জেলে মো. জাকির হোসে ও  ২ নং ওয়ার্ডের জেলে মো. ফিরোজ জানান, তাদেরকেও ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে।  

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ব্যবসার কাজে ইউপি চেয়ারম্যান এস.এম মহসিন দেশের বাহিরে অবস্থান করছেন। চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে চাল বিরতণ নিয়ে চেয়ারম্যানের  ভাই ও  ইউপি সদস্য আহসান হাবিব মিন্টু সকল ইউপি সদস্যদের নিয়ে  গোপন বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে জেলের ৪০ কেজির চালের পরিবর্তে ৩০ কেজি করে চাল বিরতণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।  

৬৮৩ জন নিবন্ধনকৃত জেলেদের ১০ কেজি করে চাল কম দিলে তাতে প্রায় ৭মেট্রিক টন চাল অবশিষ্ট থাকে। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা। ওই টাকা  ইউপি সদস্যরা খচর  হিসেবে ভাগ করে নিবেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ওই বৈঠকে। 

এ বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য মো. আলম হোসেন বলেন, ৬৮৩ জনের নামে বরাদ্দ পাইছি। জেলে সংখ্য ৭৫৩জন। তাই সকল জেলেদের চাল দিতে ৩০ কেজি করে দেওয়া হয়েছে।  ৭৫৩ জন জেলেকে ৩০ কেজি করে চাল দিলেও  ৫মেট্রিক টন চল বাকি থাকে। সেই চাল কোথায় জানতে চাইলে কোনো উত্তর দিতে পারেনি প্যানেল চেয়ারম্যান আলম হোসেন।  

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাজিরপুর ইউনিয়নের দায়িত্ব প্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার মনিরুজ্জামান বলেন, বরাদ্দ কম, তাই বাকি জেলেদের সাথে সমন্বয় করতে চালও কম দেয়া  হচ্ছে।  একই কথা বলেন ইউপি সচিব মো. আবু বকর। 

এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র সহকারী মৎস্য অফিসার মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আল আমিন বলেন, জেলে পরিবার প্রতি যা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তাই বিরতণ করতে হবে। কম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

টিএস

×