নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, ভার্জিনিয়ায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদর দফতরে হামলার ২০ বছর পার হলেও এর ছক কষা ও পরে বাস্তবায়নের অভিযোগে গ্রেফতার ৫ সন্দেহভাজনের বিচারপূর্ব শুনানিই এখনও শেষ হয়নি। কিউবার গুয়ানতানামো বের সুরক্ষিত সামরিক আদালত কক্ষে ৯ বছর ধরে মামলাটি চলছে। কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে দেড় বছর পর গত সপ্তাহ থেকে সশরীরে উপস্থিত শুনানির কার্যক্রম ফের শুরু হয়েছে। কিন্তু কবে যে এই পর্ব শেষ হবে, তার সদুত্তর নেই কারও কাছেই। কর্মকর্তা বদল, আদালতে অনিষ্পন্ন অবস্থায় পড়ে থাকা কয়েকডজন ইস্যু- এসবের মাঝে ২০ বছর আগের ১১ সেপ্টেম্বরে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত প্রায় তিন হাজার মানুষের পরিবারের সদস্যদের ন্যায়বিচার পাওয়ার আকুতি আটকা পড়ে আছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সিএনএন।
২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির পর সশরীরে উপস্থিত শুনানির প্রথম সপ্তাহের বেশিরভাগ সময়জুড়ে দুই পক্ষের আইনজীবীরাই মামলার দায়িত্বে আসা সর্বশেষ বিচারকের অভিজ্ঞতা এবং হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যুদণ্ডের সাজাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন করে সময় কাটিয়েছেন। সপ্তাহের শেষ শুনানির দিন শুক্রবার অবশ্য তারা অনিষ্পন্ন একটি বিষয় নিয়ে তর্ক বিতর্কে অংশ নিয়েছেন। ‘ব্ল্যাক সাইটস’ নামে পরিচিত সিআইএর বিভিন্ন গোপন আস্তানায় বন্দীদের আটক ও জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা মার্কিন সরকারের কাছ থেকে কী পরিমাণ তথ্য পাবেন, তা নিয়েই আদালতে এই ‘মোশন’ চলছে। যে ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে এই শুনানি চলছে, তাদের মধ্যে খালিদ শেখ মোহাম্মদও আছেন, যাকে বলা হয় ৯/১১ হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’। সিআইএ-র গোপন আস্তানায় ব্যাপক নির্যাতনের ফলে ৫ সন্দেহভাজনই নানাবিধ স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন বলে অভিযোগ তাদের আইনজীবীদের। বারাক ওবামা প্রশাসনের আমলে, ২০১২ সালে এই ৫ জনকে প্রথম আদালতে তোলা হয়েছিল। এরপর বাদী ও আসামিপক্ষের আইনজীবীর তালিকায় কয়েকদফা পরিবর্তন এসেছে। কেবল তাই নয়, বিচারকও বদলেছে কয়েকবার। এখন দায়িত্বে আসা কর্নেল ম্যাথু ম্যাককলের আগে আরও তিনজন সশরীরে শুনানিতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন।
সামরিক কমিশনে মামলা চলায় এখানে নির্ধারিত সময়ের জন্য বিচারকদের নিয়োগ দেয়া হয়, বিচারক নিয়োগ দেয় সামরিক বাহিনী। বিচারকদের সামরিক বাহিনীর সদস্যও হতে হয়। ম্যাককল মার্কিন বিমান বাহিনীর সদস্য। তাকে গত বছরের অক্টোবরে প্রথম এ মামলায় বিচারক করা হয়েছিল। সামরিক কমিশনে বিচারকের দায়িত্ব পালন করতে দুই বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন; তা না থাকায় আইনজীবীরা সেসময় তার নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুললে ম্যাককল নিজেকে সরিয়ে নেন। বিচারক হিসেবে ২ বছরের অভিজ্ঞতা অর্জিত হওয়ার পর চলতি বছরের আগস্টে সামরিক বাহিনী তাকে ফের এই মামলার দায়িত্ব দেয়। গত সপ্তাহে শুনানির বেশিরভাগ সময়জুড়ে বাদী ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা মামলার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ম্যাককলের জানাশোনা কেমন তা জানতে চান। একেবারে শেষদিকে এসে তাদের বিতর্কে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সিআইয়ের বন্দীশালায় সন্দেহভাজনদের থাকা ও জিজ্ঞাসাবাদ সংক্রান্ত কী পরিমাণ তথ্যপ্রমাণ পেতে পারেন, তা স্থান পায়। এরকম আরও অনেকগুলো অনিষ্পন্ন ‘মোশন’ পড়ে আছে, বিচার শুরু করতে হলে এ সব ‘হার্ডল’ পার হতে হবে। ‘কবে বিচার হবে, সে সম্বন্ধে অনুমান করা ছেড়ে দিয়েছি আমি।




