ছবি: সংগৃহীত
পুরুষদের শারীরিক গঠন, শক্তি, কর্মক্ষমতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে টেস্টোস্টেরন হরমোন। কিন্তু আধুনিক জীবনধারা ও কিছু ক্ষতিকর অভ্যাসের কারণে এই হরমোনের মাত্রা কমে যাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসক ড. নোবেল জানান, টেস্টোস্টেরন হ্রাসের পিছনে কয়েকটি সাধারণ কিন্তু গুরুতর কারণ রয়েছে। নিয়মিত রাত জাগা শরীরে স্ট্রেস বাড়ায়, যা সরাসরি হরমোন উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা বেড়ে গেলে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়ে, ফলে টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ কমে যায়। এছাড়া অতিরিক্ত ওজন শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে টেস্টোস্টেরন হ্রাস করে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত পুরুষের শরীরেও হরমোনের মাত্রা কমতে দেখা যায়।
ড. নোবেল আরও সতর্ক করেন, মোবাইল ও ইন্টারনেটে অতিরিক্ত অশ্লীল কন্টেন্ট দেখা ডোপামিন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, যা টেস্টোস্টেরনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, “এই কারণগুলোর কোনোটি যদি আপনার জীবনধারায় থেকে থাকে, তবে এখনই সচেতন হওয়া জরুরি। সময়মতো অভ্যাস পরিবর্তন না করলে ভবিষ্যতে শারীরিক ও মানসিক জটিলতা বাড়তে পারে।”
টেস্টোস্টেরন হরমোনের স্বাভাবিক উৎপাদন বজায় রাখতে সুষম খাদ্যাভ্যাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু ভিটামিন বিশেষভাবে সহায়ক:
-
ভিটামিন এ: ডিম, দুধ, মাংস, হলুদ ও কমলা রঙের ফল এবং শাকসবজি যৌন হরমোন ও শুক্রাণু উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ।
-
ভিটামিন সি: সাইট্রাস ফল ও শাকসবজি শরীরের শক্তি ও কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
-
ভিটামিন ই: তৈলাক্ত মাছ, ডিম ও দুগ্ধজাত খাবার রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক।
-
ভিটামিন বি কমপ্লেক্স: বাদামি চাল, সামুদ্রিক খাবার, সবুজ শাক ও গোটা শস্য শক্তি উৎপাদন ও স্নায়ুর কার্যকারিতায় সহায়তা করে।
-
ভিটামিন ডি: সূর্যের আলো এবং কিছু খাবার থেকে পাওয়া যায়; এর ঘাটতি শারীরিক সক্ষমতা কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, সুষম খাদ্য ও সুস্থ জীবনধারা অনুসরণের মাধ্যমে টেস্টোস্টেরন হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব।
এ.এইচ








