ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০

শাহরিয়ার কবিরের ‘ভয়েস অব কনশেন্স’ উদ্বোধনী প্রদর্শনী কাল

সংস্কৃতি প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:২৯, ৭ ডিসেম্বর ২০২৩

শাহরিয়ার কবিরের ‘ভয়েস অব কনশেন্স’ উদ্বোধনী প্রদর্শনী কাল

‘ভয়েস অব কনশেন্স’ প্রামাণ্য চিত্রের একটি দৃশ্য

১৯৭১-এর গণহত্যার ওপর প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির। আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস উপলক্ষে ‘ভয়েস অব কনশেন্স’ নামের এ প্রামাণ্যচিত্রের উদ্বোধনী প্রদর্শনী রাজধানীর আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের মূল মিলনায়তনে আগামীকাল শনিবার বিকেল ৪টায়। প্রদর্শনী সকলের জন্য উন্মুক্ত।                                                                                                      
শাহরিয়ার কবিরের বর্তমান প্রামাণ্যচিত্রে পাকিস্তানের সেই সব বিবেকবান রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী এবং মানবাধিকার কর্মীদের বয়ান তুলে ধরা হয়েছে, যারা ১৯৭১ সালে এই গণহত্যার প্রতিবাদ করে কারানির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের নিগ্রহের শিকার হয়েছিলেন। এই ছবিতে তারা ’৭১-এ পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর নৃশংস গণহত্যার বিবরণ দিয়েছেন। এর পাশাপাশি পাকিস্তানের বর্তমান প্রজন্মের লেখক ও গবেষকরা কীভাবে এই গণহত্যার স্বীকৃতির জন্য পাকিস্তানে জনমত সৃষ্টি করছেন- সে সব বিষয় বর্ণিত হয়েছে ভিন্নধর্মী এই প্রামাণ্যচিত্রে। গণহত্যার প্রতিবাদকারী কয়েকজন পাকিস্তানি রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবী সরকারি নির্যাতনের কারণে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, তাদের কয়েকজনের বক্তব্যও রয়েছে এই প্রামাণ্যচিত্রে।
২০১৭ সালে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আমন্ত্রণে পাকিস্তানের তিনজন প্রবীণ ও নবীন লেখক আহমেদ সেলিম, আনাম জাকারিয়া ও হারুণ খালেদ বাংলাদেশে এসেছিলেন ’৭১-এর গণহত্যা সম্পর্কে আরও জানার জন্য। তারা গণহত্যার ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেছেন, ’৭১-এর কয়েকটি বধ্যভূমি পরিদর্শন করেছেন এবং বিভিন্ন সেমিনারে এ বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করেছেন।  দেশে ফিরে আনাম জাকারিয়া এ বিষয়ে চার শতাধিক পৃষ্ঠার একটি বই লিখেছেন ‘নাইন্টিন সেভেন্টি ওয়ান’ নামে, যেটি ২০১৯ সালে পেঙ্গুইন থেকে প্রকাশিত হয়েছে। এই বই লেখার কারণে লেখক দম্পতি আনাম জাকারিয়া ও হারুণ খালিদকে পাকিস্তান ত্যাগ করতে হয়েছে। শাহরিয়ার কবিরের নতুন এই প্রামাণ্যচিত্রে ’৭১-এর গণহত্যার কয়েকজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে এই লেখক দম্পতির কিছু মর্মস্পর্শী দৃশ্য রয়েছে।
দীর্ঘ দশ বছর সময়ে নির্মিত শাহরিয়ার কবিরের ৪৫ মিনিট দৈর্র্ঘ্যরে এই প্রামাণ্যচিত্র বাংলাদেশের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে কাজ করবে। এর আগে শাহরিয়ার কবির বাংলাদেশের গণহত্যা সম্পর্কে ‘আর কতদিন’ (২০০০), ‘যুদ্ধাপরাধ ৭১’ (২০০৮) ও ‘জার্নি টু জাস্টিস’ (২০১৮) শিরোনামে তিনটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন।

×