ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৪ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১

‘হাইকোর্টের রায় অমান্য বুটেক্স উপাচার্যের, বছরের পর বছর ছাত্রী হয়রানি’ শীর্ষক সংবাদের বিষয়ে বুটেক্সের ব্যাখ্যা

প্রকাশিত: ১৮:৫০, ১৩ জুন ২০২৪; আপডেট: ১৯:৪১, ১৩ জুন ২০২৪

‘হাইকোর্টের রায় অমান্য বুটেক্স উপাচার্যের, বছরের পর বছর ছাত্রী হয়রানি’ শীর্ষক সংবাদের বিষয়ে বুটেক্সের ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় । ছবি বুটেক্সের ওয়েবসাইড থেকে

দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে ‘হাইকোর্টের রায় অমান্য বুটেক্স উপাচার্যের, বছরের পর বছর ছাত্রী হয়রানি’ শীর্ষক একটি সংবাদ গত ১২ জুন ২০২৪ খ্রি. তারিখে প্রকাশিত হয়েছে। যা বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। 

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি পরিচালক (পাবলিক রিলেশন)  মো. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ১৩ জুন ২০২৪  তারিখে পাঠানো বক্তব্যে বলা হয়েছে, প্রকাশিত সংবাদে যেসব ছবি ব্যবহার করে শিক্ষার্থী ইওরমা শায়েরের অভিযোগগুলো তুলে ধরা হয়েছে তা অনেক আগের। বুটেক্সের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবুল কাশেম স্যারের সময়ের শিক্ষার্থী ইওরমা শায়েরের রিট নং- ৪৬২/২০২৩ পরিপ্রেক্ষিতে একটি একতরফা রায় হয়, যা সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে। সেসব ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তিনি ওই রিটের শুনানি না করে নতুন করে আরো একটি পিটিশন দায়ের করেন। যার নম্বর: ১৪০০৪/২০২৩। 

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেখানে অংশগ্রহণ করেন এবং শুধুমাত্র একজন শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের রুলস এবং রেগুলেশনে যেন পরিবর্তন করা না লাগে সে বিষয়ে আদালতের কাছে আবেদন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২৯/০৪/২০২৪ তারিখে মাননীয় হাইকোর্ট থেকে যে রায় দিয়েছে সেখানে স্পষ্ট করে বলা আছে ‘ফেল করা কোনো শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কোনো প্রকার চাপ দেওয়া যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর ব্যাপারে তার নিয়ম অনুযায়ী, ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।’ 

আরও পড়ুনঃ হাইকোর্টের রায় অমান্য বুটেক্স উপাচার্যের, বছরের পর বছর ছাত্রী হয়রানি

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক বিধিতে বলা আছে, কোনো শিক্ষার্থী প্রতি লেভেলে যদি চারটি কোর্সের বেশি অকৃতকার্য হয় তাহলে তাকে পরবর্তী লেভেলে উত্তীর্ণ বা ভর্তি দেওয়া যাবে না। ইওরমা শায়েরের লেভেল-৩ টার্ম-২ পর্যন্ত  অকৃতকার্য হওয়া কোর্সের সংখ্যা ১০টি। মাননীয় হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী, তাকে স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উদারতার পরিচয় দিয়েছেন। 

তারপরও ইওরমা শায়ের বর্তমান বুটেক্সেও বর্তমান মাননীয় উপাচার্যের নামে যারপর্ণাই মিথ্যাচার করে সংবাদিকদের ভিন্নপথে পরিচালিত করার অপচেষ্টা করছেন। ইওরমা শায়েরের কাছ থেকে প্রাপ্ত রিট পিটিশনের যে ছবিগুলো ব্যবহার করা হয়েছে তা মূলত সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবুল কাশেম স্যারের সময়ের ঘটনা।

প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে ইন্টার্ণশীপ করতে দিচ্ছে না। প্রকৃত বিষয় হলো- লেভেল-৩ টার্ম-২ পর্যন্ত সর্বোচ্চ চারটি কোর্সে অকৃতকার্য থাকলে তাকে  লেভেল ৪, টার্ম-১ এ উন্নীত করা যাবে না এবং ইন্টার্ণশিপ করতে দেওয়ার নিয়ম নেই। ইওরমা শায়েরের অকৃতকার্য হওয়া কোর্সের সংখ্যা সেখানে ৫টি। 

প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের ৩ ঘণ্টার পরীক্ষা দেড় ঘণ্টা নেওয়া হয়েছে। প্রকৃত বিষয়টি হলো- কোনো শিক্ষার্থী যদি ৩ ঘণ্টার পরীক্ষার ৩০ মিনিট অতিবাহিত হওয়ার পর পরীক্ষার হলে উপস্থিত হয় তাতে পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্বরত শিক্ষক তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ারও এখতিয়ার রাখেন। সেখানেও অভিযোগকারী শিক্ষার্থীকে সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে তাকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সে দেড় ঘণ্টা পরীক্ষা দিতে পেরেছে।

সংবাদে আরো বলা হয়েছে, মাননীয় উপাচার্য পরীক্ষার হলে উপস্থিত থেকে তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে দেড় ঘণ্টা পরীক্ষা নিয়েছে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কখনো পরীক্ষার হলে দায়িত্বে থাকেন না। শুধুমাত্র পর্যবেক্ষণ করার উদ্দেশ্যে সামান্য সময়ের জন্য পরীক্ষার হল পরিদর্শনে গিয়ে থাকেন। 

সংবাদে বলা হয়েছে, ইওরমা শায়ের এ্যাাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মেধা তালিকায় তৃতীয় স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থী। পারতপক্ষে সে বুটেক্সের ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগ পেয়েছে তৃতীয় শিক্ষার্থী হিসেবে অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন। বিভাগে তার রোল নম্বর ০৩-২০১৭। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর লেভেল-১, টার্ম-১এ ৫টি কোর্সে এবং লেভেল-১, টার্ম-২তে ৬টি কোর্সে অকৃতকার্য হয়। প্রথম লেভেলে দুইবার  অকৃতকার্য হওয়ার  কারণে তৃতীয়বার ৪৫তম ব্যাচের সাথে অনলাইন পরীক্ষা  (কোভিড-১৯ কালীন সময়ে) দিয়ে তিনি ২য় লেভেলে উত্তীর্ণ হন।

বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার তার পরিবার এবং তার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আলোচনা করেও তাকে ক্লাসে কিংবা পড়ার টেবিলে ফেরানো সম্ভব হয়নি। মূলত ইওরমা শায়ের নিজের দুর্বলতা ঢেকে রাখার জন্য একজন দেশ বরেণ্য অধ্যাপকের নামে অপবাদ ও অপপ্রচার করার হীন প্রচেষ্টায় লিপ্ত। 

বুটেক্স সাম্য ও ন্যায্যতায় বিশ্বাস করে। প্রতিটি শিক্ষার্থী এখানকার শিক্ষকদের কাছে সন্তানের সমতুল্য। কোনো শিক্ষার্থীকে ইচ্ছাকৃতভাবে ফেল করানো, সেমিস্টার ক্রাস কিংবা লেভেল ক্রাসের নজির অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই।  শিল্প কলকারখানায় পর্যাপ্ত চাহিদা থাকা সত্বেও প্রয়োজনীয় প্রকৌশলী যেখানে যোগান দেওয়া দুঃসাধ্য সেখানে এই ধরনের সংবাদ সত্যিকার অর্থেই একজন অধ্যাপককে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে বলেই বুটেক্স কর্তৃপক্ষ বিশ্বাস করে।  
 

 

এসআর

×