ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাস

কোরবানির ঈদের আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হবে না

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০০:০৯, ২২ মে ২০২৪

কোরবানির ঈদের আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হবে না

ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হবে না

আসন্ন কোরবানির ঈদের আগে নিত্যপণ্য ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু। ডলারের দাম বাড়ার অজুহাতে আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা সব ধরনের ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। এরই অংশ হিসেবে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে কিছুটা বেড়ে গেছে তেলের দাম।

কিন্তু বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী দাবি করেছেন, ডলারের বর্তমান রেটের চেয়ে বেশি মূল্য দিয়ে ব্যবসায়ীরা ইতোপূর্বে ঋণপত্র (এলসি) নিষ্পত্তি করেছেন। সেই সময় তারা প্রতি ডলারের বিপরীতে খরচ করেছেন ১২০-১২২ টাকা পর্যন্ত। আর এখন তাদের গুনতে হচ্ছে প্রতি ডলারে ১১৭ টাকা। ওই হিসাব বিবেচনায় নিলে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

বিশেষ করে কোরবানি ঈদের আগে ভোজ্যতেলের দাম সমন্বয় করা হবে না। বাড়ানো হবে না ভোজ্যতেলের দাম। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সুযোগ সন্ধানীদের কোনো সুযোগ দেবে না সরকার। 
মঙ্গলবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু এ কথা বলেন। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে ডলারের দাম বাড়লেও কোরবানির ঈদের আগে দেশের বাজারে  ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হবে। বরং ভোক্তাদের স্বার্থে ইতোমধ্যে কঠোরভাবে বাজার মনিটরিংয়ের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, আমদানিনির্ভর পণ্য বিশেষ করে ভোজ্যতেলের কোনো অ্যাডজাস্টমেন্ট (সমন্বয়) করবো না। আশ করছি, উৎপাদনকারী ও আমদানিকারক যারা আছেন, ঈদ পর্যন্ত নতুন করে কোনো মূল্য বেঁধে দেবে না। পুরোনো মূল্যেই তারা সরবরাহ করতে পারবেন। ডলারের দাম বাড়লেও  ভোক্তাদের সুবিধার্থে পণ্যের দাম একই পর্যায় রাখবো।

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডলারের অ্যাডজাস্টমেন্টটা হলো ১০ টাকা থেকে ১৭ টাকা। এতে ভোক্তা পর্যায়ে কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কারসাজি করেছে অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। মেঘনা, সিটি, টিকে, বসুন্ধরাসহ মোট আট প্রতিষ্ঠান দেশে ভোজ্যতেল আমদানি ও বাজারজাতকরণ করে থাকে। এর সঙ্গে কিছু পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরাও দাম বাড়ানোর অপচেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।  
উল্লেখ, বর্তমান সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে ভোজ্যতেল। কোরবানি সামনে রেখে ভোজ্যতেলের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সরকারি বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যমতে, মঙ্গলবার খুচরা বাজারে প্রতিলিটার খোলা সয়াবিন মানভেদে ১৪৫-১৫৫, পাঁচলিটারের ক্যান ৭৯০-৮১৫, একলিটারের বোতল ১৬০-১৬৫, পামওয়েল খোলা ১২৫-১৩৫, পামওয়েল সুপার ১৩৫-১৪৫, রাইস ব্র্যান পাঁচলিটার ৮৫০-৮৮০, রাইস ব্র্যান একলিটার ১৭০-১৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কেন ভোজ্যতেলের দাম বাড়বে না সেই ব্যাখ্যা দিয়ে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, কারণ আমদানিকারকরা তখনই অভিযোগ করছিলেন যে ব্যাংক থেকে তারা সরকারি নির্দিষ্ট রেটে ডলার পাচ্ছিলেন না, তারা তখনই ১২০ টাকা, ১২২ টাকা, একেকজন একেকভাবে প্রাইভেটলি সেটলড (নিষ্পত্তি) করছিলেন। তিনি বলেন, এখন সরকার সমন্বয় করার কারণে সরকারি রেটেই তারা আমদানি করতে পারবেন। 
কাজেই আমদানিনির্ভর পণ্য বিশেষ করে  ভোজ্যতেলের কোনো অ্যাজাস্টমেন্ট (সমন্বয়) করা হবে না। তিনি আরও বলেন, আগে যে দাম নির্ধারণ করে  দেওয়া হয়েছিল, ঈদের আগ পর্যন্ত নতুন কোনো দাম নির্ধারণ করা হবে না। পুরোনো দামেই তারা সরবরাহ করতে পারবেন।

তবে যদি আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যায়, তাহলে তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা চিন্তা করব। আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, রমজানের পর বাজার স্থিতিশীল ছিল। সামনে আবার  কোরবানির ঈদ। ঈদ এলে আমাদের দেশের কিছু লোক আছে, যারা সুযোগ সন্ধানী, সরবরাহ ঠিক থাকার পরও জিনিসপত্রের দাম দুয়েক জায়গায় বেড়ে যায়।

সেই লক্ষ্যে গত রোজার ঈদের সময় যেভাবে মনিটরিং করেছি, প্রধানমন্ত্রী আমাকে আবারও সেটা করতে বলেছেন। ঈদে যাতে ভোক্তারা কোনো অসুবিধায় না পড়েন, ন্যায্যমূল্যে জিনিসপত্র পান, সেজন্য দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এটা আমাদের কাজের জন্য সহায়ক হয়েছে, কাজে গতি পাবে।

তিনি আরও বলেন, মনিটরিং আবার সচল করব, যেন ঈদ সামনে রেখে বাজার  থেকে কেউ সুযোগ-সুবিধা নিতে না পারেন। এটা নিয়মিত মনিটরিং। একটা স্বাভাবিক গতিতে কার্যক্রম চলে, আরেকটি বিভিন্ন পরিস্থিতিতে রমজানে, ঈদে আমাদের বিশেষ ব্যবস্থা থাকে। আমাদের অভিভাবক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন। তাহলে আমাদের কার্যক্রম জোরদার হবে, দৃশ্যমান হবে।
বাজার নিয়ন্ত্রণে বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন,  দেশে পণ্যের কোনো ঘাটতি নেই। আগামী ঈদ পর্যন্ত কোনো পণ্য ঘাটতি থাকবে না। আমরা তো বাজার নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি না।

বাজার যাতে সঠিকভাবে কার্যকর থাকে, চাহিদা ও জোগান অনুসারে যাতে মূল্যটা নির্ধারিত হয় এবং আমদানিকৃত পণ্যের দাম যাতে নির্দেশক মূল্যের কাছাকাছি থাকে, এটাই আমাদের চেষ্টা থাকে। আমরা তো ন্যায্যমূল্যের দোকান খুলিনি। এটা তো মুক্তবাজার অর্থনীতি।
১৮২ কোটি ৪০ লাখ টাকার সয়াবিন তেল কিনবে সরকার ॥ স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ১ কোটি ১০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য ব্যয় হবে ১৮২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। আর প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম পড়বে ১৫২ টাকা ৪৫ পয়সা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে সুপার অয়েল রিফাইনারি লিমিটেড থেকে এই সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব মো. মাহমুদুল হোসাইন খান জানান, সরকার ১ কোটি পরিবারকে যে সাপোর্ট দিচ্ছে তার আওতায় ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য ১  কোটি ১০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়া হয়েছে।

×