শুক্রবার ৪ আষাঢ় ১৪২৮, ১৮ জুন ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

করোনাকালে অনিশ্চিত শিক্ষা ব্যবস্থা

  • সানজিদা কবির তাসপি

২০২০ সালের ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। ১৮ মার্চ থেকে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়, তারপর থেকে সব শ্রেণীর সব শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনে অব্যাহত রাখা হয়, পিএসসি, জেএসসি, এইচএসসি পরীক্ষায় এমনকি সব শ্রেণীর সব শিক্ষার্থীকে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো অটোপাস দেয়া হয় যা আমাদের সবার ভবিষ্যতের জন্য বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে একটি মেধাহীন জাতিতে পরিণত হবে আমদের আগামীর ভবিষ্যত যা বড়ই উদ্বেগের কারণ বলে মনে করছি আমরা।

বর্তমানে অনলাইনে যে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে, এটি কোনভাবেই আমাদের সাধারণ শিক্ষা কার্যক্রমের মতো হতে পারে না। কারণ সরাসরি শ্রেণী কক্ষে ছাত্র-শিক্ষক যেভাবে মুখোমুখি জ্ঞানার্জন করত এখন তা আর সম্ভব নয়। বাংলাদেশ যেহেতু এই পদ্ধতিতে একেবারাই নতুন তাই এই অনলাইন সিস্টেম এ রয়েছে নানাবিধ সমস্যা । আমাদের দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ৬৯.৫ শতাংশ শিক্ষার্থী দুরশিক্ষণে অংশ নিতে পারেনি। আমদের পর্যাপ্ত পরিমাণ কম্পিউটার ও ইন্টারনেটে দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোকের অভাব রয়েছে। শুধু তাই নয় মফস্বলের স্কুলগুলোতে ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াও তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষায় ডিভাইসের সঙ্কটও রয়েছে প্রচুর পরিমাণে। এমনকি ইন্টারনেট সংযোগ ও পর্যাপ্ত বিদ্যুতের অভাবে ঢাকাতেও অনেক এলাকায় শিক্ষার্থীরা অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তা ছাড়া আরও অনেক মৌলিক কারন রয়েছে যা এড়িয়ে যাওয়ার কোন উপায় নাই আর তা হলো এই করোনাকালীন সময়ে অর্থনৈতিক অভাবের কারণে অনেকেই শহর থেকে গ্রামে চলে গিয়েছে। যেখানে শহরে থাকতে নানাবিধ সমস্যা ছিল সেখানে একটা শিক্ষার্থী কিভাবে গ্রামে গিয়ে সেই সুযোগ আশা করতে পারে।

শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যাওয়ার কারণে নতুন নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়ায় অনেকেই আর স্কুল এ আর ভর্তি হতে পারেনি এবং ধীরে ধীরে ভাল ভাল শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ে যাকে (উৎড়ঢ় ড়ঁঃ) বলা হয়। এ ছাড়াও শিক্ষাপ্র্রতিষ্ঠানে সাধারণত আমাদের যেভাবে পাঠ দান দেয়া হয়, নতুন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা সেগুলোর কোন সুযোগই পাচ্ছে না।

বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক থাকা অবস্থায় সরকার স্কুল খোলার একটি উদ্যোগ নিলেও পরে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার কারণে তা সম্ভব হয়নি। আমাদের সরকার, আমাদের পরিবার সকলেই চায় আমরা সবাই নিরাপদে থাকি। এই সময়ে সকলের নিরাপত্তার দিকটাই আগে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে, তাই এই পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কথা থাকলেও তা আর সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের সকলকেই এখন যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, নিয়মিত মাস্ক ব্যবহার করতে হবে, প্রয়োাজন মতো সচেতন থাকতে হবে, প্রয়োাজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়া যাবে না, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করতে হবে, সরকারের দেয়া আদেশ-নিষেধ, লকডাউন, আমাদের কঠোরভাবে মানতে হবে। আমাদের শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও মানসম্পন্ন করার জন্য আমার কিছু প্রস্তাবনা রয়েছে যেগুলো অনুসরণ করলে আমরা খুব দ্রুত শেণী কক্ষে ফিরে যেতে পারব :

১. অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও আকর্ষণীয় করতে হবে।

২. এবারের বাজেটকে গণমুখী ও সবার জন্য শিক্ষা-এই চিন্তা মাথায় রেখে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিতে হবে।

৩. অনলাইনে ক্লাস, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের যে পদ্ধতি এবার প্রয়োগ করা হয়েছে তাতে অনেক ত্রুটিবিচ্যুতি রয়েছে তা আরও উন্নত করতে হবে।

৪. ঝরে পড়ে শিক্ষার্থীদের ফিরিয়া আনার উদ্যোগ নিতে হবে।

৫. বাল্যবিবাহ বন্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে।

৬. অর্থনৈতিক সঙ্কট ও খাবারের অভাবে যে সব শিশু বিদ্যালয়ে আসছে না তাদের ফিরিয়া আনতে হবে এবং শিশুশ্রম বন্ধে কঠোর হতে হবে।

৭. প্রত্যেক টিভি চ্যানেলে এক ঘণ্টা করে রুটিনমাফিক পাঠদান বাধ্যতামূলক করতে হবে। টাইম সিডিউল পত্রপত্রিকার মাধ্যমে জানিয়া দিতে হবে।

৮. প্রত্যেক স্কুলের নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি বাধ্যতামূলক করতে হবে।

৯. মফস্বলের প্রত্যেকটি স্কুলকে শক্তিশালী মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে হবে।

পরিশেষে বলতে চাই শিক্ষা আমার মৌলিক অধিকার। আমি যেমন পড়তে চাই তেমনি আমার অন্য বন্ধুরা ও শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হোক তা আমি চাই না। কারণ যে জাতি যত উন্নত সে জাতি তত শিক্ষিত। সুতরাং গত এক বছর থেকে বিদ্যুত চলে গেলে যেমন অন্ধকার তেমনি আমরাও শিক্ষার অভাবে অন্ধকারে হাবুডুবু খাচ্ছি। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জে মোকাবেলা করতে হলে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হলে আমাদের শিক্ষার সুযোগ দেয়ার জন্য সরকার ও আমাদের অভিভাবকমণ্ডলীকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। আমি যেমনিভাবে সবার শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে চাই তেমনি [Quality Education] মানসম্পন্ন শিক্ষার অধিকার চাই। আমার উপরোক্ত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করার জন্য মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীকে এগিয়ে আশার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। তবেই দারিদ্র্য, ক্ষুধামুক্ত, বিশ্ব মানের আগামীর আলোকিত শিক্ষিত জাতি গঠন করতে পারব। তাই বলতে হচ্ছে- আমরা করব জয় একদিন ওহো বুকের গভীরে...।

শীর্ষ সংবাদ:
বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারীতে প্রাণহানি ৪০ লাখ ছাড়িয়েছে         চার স্বপ্ন বাস্তবায়ন ॥ মহাপরিকল্পনা উন্নত জীবনের         বিনামূল্যে জমি ও ঘর দেয়ার ঘটনা বিশ্বে এই প্রথম         ৫৫ হাজার রোহিঙ্গা ভোটার তোলপাড়         ’২৬ সালে ঢাকায় চলবে পাতাল রেল         মদ-জুয়া-বার ইস্যুতে সংসদ উত্তপ্ত, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য         ড্যান্স বারের আড়ালে নারী পাচারের ফাঁদ         পেঁয়াজের আমদানি মজুদ ও সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ         পরীমনির অভিযোগকে প্রাধান্য দেয়ার আর সুযোগ নেই         করোনায় আরও ৬৩ জনের মৃত্যু         করোনা মোকাবেলায় আশার আলো- বিজ্ঞানীদের নিরন্তর চেষ্টা         প্রহসনের নির্বাচনের সংস্কৃতি চালু করেছিলেন জিয়া         রাজশাহী ও সাতক্ষীরায় ফের এক সপ্তাহ লকডাউন         পশুরহাটে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে উদ্যোগ নেয়া হবে ॥ তাপস         প্রাইভেটকারে তুলে হাত-পা বেঁধে সর্বস্ব ছিনতাই         অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ করতে দেয়া হবে না ॥ তাজুল         বিদেশে কর্মসংস্থান প্রত্যাশীদের সতর্ক করলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী         আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ায় কমার সুযোগ নেই : বাণিজ্যমন্ত্রী         করোনা : গত ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু ৬৩, নতুন শনাক্ত ৩৮৪০         বিশ্ব শান্তি সূচকে বাংলাদেশের সাত ধাপ উন্নতি