ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯

জাহিদুল আলম জয়

ধারাভাষ্যের কিংবদন্তি আলফাজউদ্দিন আহমেদ

প্রকাশিত: ২১:১৮, ২৮ অক্টোবর ২০২০

ধারাভাষ্যের কিংবদন্তি আলফাজউদ্দিন আহমেদ

বাংলাদেশের ক্রীড়া ধারাভাষ্যের জগতে আলফাজউদ্দিন আহমেদ জীবন্ত কিংবদন্তি। এ দেশের ‘বাংলা’ ক্রীড়া ধারাভাষ্য অঙ্গনে তিনি যুক্ত করেছন ভিন্ন মাত্রা। ১৯৬০-৭০ দশকের জাতীয় ভলিবল খেলোয়াড়, ক্রিকেটার, ক্রীড়া সংগঠক, বেতার ব্যক্তিত্ব, নাট্যজন ও সংবাদ পাঠক আলফাজউদ্দিন বিশেষায়িত স্টাইলিশ কমেন্ট্রি দিয়ে বাংলা ভাষাভাষী প্রতিটি মানুষের মন জয় করেছেন। এদেশের বাংলা ক্রীড়া ধারাবর্ণনাকে শিল্পের পর্যায়ে পৌঁছে দিতে অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন আলফাজউদ্দিন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ক্রীড়া ধারাবর্ণনার ক্ষেত্রে বেশকিছু উজ্জ্বল নক্ষত্রের সমাবেশ ঘটেছে। এর মধ্যে অন্যতম শীর্ষ নাম সদা হাস্যোজ্জ্বল, বিনয়ী ও নিরহঙ্কার আলফাজউদ্দিন। বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজ ও প্রাঞ্জলভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। ছেলেবেলা থেকেই আলফাজউদ্দিন আহমেদ ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। ভলিবল, ক্রিকেট, ফুটবল, ব্যাডমিন্টন ও টেবিল টেনিস খেলতেন নিয়মিত। পারিবারিক আবহেই তিনি ক্রীড়া ও সংস্কৃতির চর্চা করার সুযোগ পেয়েছিলেন। শৈশব থেকেই খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর মেধা ও দক্ষতার প্রমাণ রাখতে শুরু করেন। খেলাধুলা করার সুবাদে খেলা দেখা এবং খেলার ধারাবর্ণনা শোনার আগ্রহও তৈরি হয়। কিন্তু কখনোই মনে হয়নি তিনি ধারাভাষ্যকার হবেন। নিয়মিত বেতারে নাটকে অভিনয় করতেন। ১৯৮০ সালে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়ে ধারাভাষ্যকার হিসেবে অভিষেক হয় আলফাজদ্দিনের। অডিশনে প্রথম স্থান অধিকার করে বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুক্ত ক্রীড়া ভাষ্যকার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। সেই শুরু, আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি এই গুণীজনকে। বছরের পর নিষ্ঠার সঙ্গে ধারাভাষ্য দিয়ে চলা এই মানুষটি এখন সবার শ্রদ্ধাভাজন, এক কথায় যাকে বলা হয় ‘ধারাভাষ্যের ওস্তাদ’। জনকণ্ঠে’র সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অনেক বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন আলফাজউদ্দিন। নিজের ধারাভাষ্যে আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তখন আমি রূপালী ব্যাংকে চাকরি করতাম। রেডিওতে নাটকের শিল্পী ছিলাম। ১৯৮০ সালের শেষের দিকের কথা। একদিন বেতারের কর্মকর্তা, আমার বন্ধু প্রয়াত মোঃ সালাউদ্দিনের সঙ্গে আগারগাঁও বেতার ভবনে দেখা করতে গেলাম। তার টেবিলের সামনে অনেকক্ষণ আমি বসা। কিন্তু সে কাজে খুবই ব্যস্ত। কিছুক্ষণ পর সে তার টেবিলে ফিরলে আমি তাঁকে বলি ‘আমি অনেক দূর থেকে তোমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছি অথচ তুমি একটু সময় দিচ্ছ না।’ জবাবে সে বলে ‘আগামীকাল একটা গুরুত্বপূর্ণ অডিশন আছে, যেটার আয়োজন আমাকে করতে হচ্ছে। কমেন্টেটরদের অডিশন। কমেন্টেটরদের তো রোজ রোজ পাওয়া যায় না’। জবাবে আমি বললাম ‘একজন ভাল কমেন্টেটর তোমার সামনে বসা, কিন্তু তুমি তো তাকে পাত্তাই দিচ্ছ না।’ সে বলল ‘দেখ, এটা ঠাট্টার বিষয় না, আসলেই কমেন্টেটর পাওয়া যায়না।’ আমিও উত্তরে বললাম ‘আমিও ঠাট্টা করছিনা। আমি ভাল কমেন্ট্রি করতে পারি।’ তখন সে নিজেই অডিশন এর জন্য একটা দরখাস্ত লিখে আমার স্বাক্ষর নিয়ে সেটা জমা করে দিয়ে বললেন, ‘আগামীকাল সকাল ১০টায় অডিশন, তুমি সময়মতো চলে এসো’। পরদিন হাজির হলাম অডিশনে। আমার অডিশন হলো সবার শেষে। এরপর সালাউদ্দিনের টেবিলের সামনে অপেক্ষা করছি। কিছুক্ষণ পর হাসিমুখে সালাউদ্দিন ফিরে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলল, ‘বন্ধু কেবলমাত্র তুমি এবারের অডিশনে পাস করেছ। বাকি সবাই ফেল।’ এর পর ১৯৮১ সাল থেকে মাইক্রোফোনের সামনে বসা। ইতোমধ্যে ৪০ বছর পার হয়েছে; এখনও চলছে।’ নিজের প্রথম ধারাভাষ্যের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে আলফাজ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ঢাকা ফুটবল লীগে আবাহনী-মোহামেডানের ম্যাচ ছিল। কানায় কানায় পূর্ণ গ্যালারি। বেতারের ধারাভাষ্য কক্ষে আমি মাঝখানে বসা। আমার দুইপাশে দুজন মহারথি। একজন আবদুল হামিদ, অন্যজন মনজুর হাসান মিন্টু ভাই। আমি খুবই উত্তেজিত, কিন্তু খুব বেশি নার্ভাস ছিলাম না। স্বাভাবিক থাকতে চেষ্টা করেছি এবং অনেকটা পেরেছিও। আমার বলার পালা এলে সাবলীলভাবেই শুরু করি, কিছুক্ষণ পর দেখি হামিদ ভাই পিঠে হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। আর আমাকে ক্রমাগত সাহস দিয়ে বলছেন- হচ্ছে, চালিয়ে যাও। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।’ ভারতের অজয় বোস, বাংলাদেশের আব্দুল হামিদকে অনুপ্রেরণা হিসেবে নেয়া আলফাজ একজন আদর্শ ধারাভাষ্যকারের গুণাবলী সম্পর্কে বলেন, ‘ধারাবর্ণনা করতে হলে চরিত্রগতভাবে একজনের সামনে যা কিছু ঘটবে তা প্রমিত বাংলায় অনর্গলভাবে বলে যাওয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে। তাৎক্ষণিকভাবে সেই খেলার উপযোগী শব্দ চয়ন ও সুন্দর বাক্য গঠনের ক্ষমতা থাকতে হবে। এছাড়া যে খেলার ধারাবর্ণনা করতে ইচ্ছুক সেই খেলার আইন-কানুন, খেলার মাঠের মাপ, ব্যবহৃত সামগ্রী সমূহের মাপ ও ওজন ইত্যাদি সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা ও জ্ঞান থাকতে হবে। আমার মনে হয়, স্নাতক বা তার বেশি বেসিক শিক্ষা থাকা অতীব প্রয়োজন’। নতুন বা পরবর্তী প্রজন্মের ধারাভাষ্যকারদের এসব বিষয়ে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন আলফাজ। তবে ধারাভাষ্যকাররা প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদা না পাওয়ায় ভীষণ হতাশ আলফাজ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কাজের স্বীকৃতি যে কোন মানুষকে উৎসাহিত করে। কিন্তু ধারাভাষ্য সেক্টরটা এদিক দিয়ে খুবই উপেক্ষিত। অর্থাৎ ধারাভাষ্য যে খেলাধুলা জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে, খেলাধুলা উন্নয়নের ক্ষেত্রে, যে কোন নতুন খেলা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে তা কেউই মনে করছেন না। এ কারণে ধারাবর্ণনার ক্ষেত্রে স্বীকৃতি বা পুরস্কার দেয়ার বিষয়টি জাতীয় বা উচ্চপর্যায়ে একেবারেই উপেক্ষিত।’ ধারাভাষ্যকারদের সম্মানী বা পারিশ্রমিকের বিষয়টিও মানসম্পন্ন নয়। এ বিষয়ে মনে ব্যথা নিয়ে আলফাজ বলেন, ‘ধারাভাষ্যকারদের সম্মানী অতি নগণ্য। এটা কোনভাবেই বর্তমান বাজার অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সরকারী বা বেসরকারী কর্মকর্তাদের বর্তমান বেতন, বাজার মূল্য, যাতায়াত খরচ ইত্যাদির তুলনায় প্রদত্ত সম্মানী একেবারেই নগণ্য। বেতার, টেলিভিশনে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ধারাভাষ্যকারদের সম্মানী বৃদ্ধির কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। একই রকমভাবে বেসরকারী টিভি ও রেডিও স্টেশনগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন চ্যানেল, ভিন্ন ভিন্ন স্টেশন তাদের নিজেদের মনগড়া অংক সম্মানী হিসেবে প্রদান করে আসছেন। এ বিষয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রী’র দ্রুত দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।’ চৌকস ও মোধাবী আলফাজউদ্দিন শুরু থেকেই তাঁর দক্ষতা দিয়ে মুগ্ধ করতে পেরেছিলেন সংশ্লিষ্ট সকলকে। দুই গণমাধ্যমেই ক্রীড়া ভাষ্যকার হিসেবে নিজেকে অপরিহার্য করে তোলেন। টানা ৪০ বছর ধরে বাংলাদেশে বাংলা ক্রীড়া ধারাবর্ণনার জগতে অন্যতম সেরাদের কাতারে অবস্থান করছেন। বেতার ও টিভিতে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ইভেন্টের প্রায় সাত শতাধিক ম্যাচে লাইভ কমেন্ট্রি করেছেন। বলে রাখা ভাল, তাঁদের শুরুর দিকে এখনকার মতো এত বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পেত না বাংলাদেশ ক্রিকেট, ফুটবল কিংবা হকি দল। তবে সে সময় নিয়মিত ঘরোয়া লীগ বা টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো বেতার ও টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হতো। ক্রীড়া ধারাবর্ণনা একটি দুর্লভ শিল্প। গান, নাটক, সিনেমা ইত্যাদি সেক্টরে প্রচুর পারফরমার পাওয়া যায়। কিন্তু মানসম্মত ক্রীড়া ভাষ্যকার তেমন নেই। আর এই শিল্পীদের অত্যাবশ্যকীয় গুণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো-সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া ইভেন্ট সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান, সঠিক শব্দ চয়ন এবং মানানসই কণ্ঠস্বর। এসব গুণের সমাহার আলফাজের মধ্যে বিদ্যমান। শুধু ধারাভাষ্যকার হিসেবেই সফল নন আলফাজউদ্দিন আহমেদ। তিনি ছিলেন একজন চৌকস ও কৃতি ক্রীড়াবিদ। তিনি একই সঙ্গে ভলিবল, ক্রিকেট, ফুটবল, ব্যাডমিন্টন, টিটি এবং ক্যারম খেলতেন। এরমধ্যে ভলিবল ও ক্রিকেট ছিল তাঁর মূল ইভেন্ট। তখনকার দিনে মৌসুম অনুযায়ী সবাই সব খেলাই খেলত। পারিবারিক আবহে শৈশবেই বিভিন্ন ইভেন্টের সঙ্গে তাঁর সখ্য গড়ে উঠে। তাঁর বাবা ছিলেন কুষ্টিয়া এ্যাথলেটিক ক্লাবের আজীবন সদস্য। সেই ক্লাবের মাধ্যমেই খেলাধুলার শুরু আলফাজের। পাশেই ছিল দুলাল চক্রবর্তীর (পূর্ব পাকিস্তান দলের ক্রিকেটার) মোহিনী মিলস ক্রিকেট ক্লাব। সেসময় এই দু’দলের ফ্রাইডে ক্রিকেট খুব জমজমাট ছিল। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে কুষ্টিয়া জেলা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দলের হয়ে ভলিবল ও ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় সাফল্যের সঙ্গে খেলেছেন আলফাজ। ১৯৬৫ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত দাপটের সঙ্গে ভলিবল খেলেছেন ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে। পরে বাংলাদেশ জাতীয় ভলিবল দলের হয়েও মাঠ মাতিয়েছেন। শুধু তাই নয়, উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিকেট খেলেছেন রূপালী ব্যাংক এবং কুষ্টিয়া জেলা দলের হয়ে। ১৯৭৪-১৯৭৫ মৌসুমে তিনি রূপালী ব্যাংক দলের অধিনায়কত্ব করেন। সেই দলের সদস্য ছিলেন গোলাম নওশের প্রিন্স, ফারুক আহমেদ, সুরু, বেলাল, শাহনেয়াজ শহীদ শানুসহ অনেক তারকা ক্রিকেটার। আলফাজউদ্দিনের পুরো পরিবারই খেলাধুলায় বিখ্যাত। মঈন, নিজাম এবং আলফাজ তিনভাই একসঙ্গে খেলেছেন জাতীয় ভলিবল দলে। আবার এমনও দেখা গেছে চারভাই একসঙ্গে কুষ্টিয়া জেলা দলের হয়ে ক্রিকেট এবং ভলিবল খেলেছেন। ছোটভাই নিজামউদ্দিন আহমেদ মেধাবী ফুটবলার ছিলেন। সত্তর-আশির দশকে খেলেছেন ঢাকা আবাহনীতে। পরে তিনি জাতীয় দলেও সুযোগ পান। অনেকেই জানেন না, আলফাজউদ্দিনের বড় ভাই আহমেদ শরীফ এ দেশের বিখ্যাত চলচিত্র অভিনেতা (খলনায়ক)। তিনিও সবধরনের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত ছিলেন। বিশেষ করে ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন দারুণ খেলতেন আহমেদ শরীফ। আহমেদ শরীফ, আলফাজ, মঈন ও নিজাম এই চার ভাই একসঙ্গে কুষ্টিয়া জেলা ক্রিকেট দলের হয়ে খেলেছেন। নিজাম ঢাকা আবাহনীর গোলরক্ষক হিসেবে সুনামের সঙ্গে খেলেছেন ১৯৭৬ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত। সে সময় ওই টিমে ছিলেন বর্তমান বাফুফে সভাপতি কাজী মোঃ সালাউদ্দিন, আশরাফউদ্দিন আহমেদ চুন্নু, নান্নুসহ আরও অনেক তারকা ফুটবলার। ছাত্রজীবনে প্রচুর খেলাধুলা করেছেন আলফাজ। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ভলিবল দলের অধিনায়ক হিসেবে অনেক ম্যাচে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। নিয়মিত ইন্টার স্কুল এবং ইন্টার কলেজ ভলিবল, ক্রিকেট এবং ফুটবল খেলেছেন সাফল্যের সঙ্গে। পড়াশোনা শেষে ১৯৬৯ সালেই ব্যাংকার হিসেবে রূপালী ব্যাংকে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে এই ব্যাংকের ডিজিএম হিসেবে অবসরে যান। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ স্পোর্টস কমেন্টেটর্স ফোরামের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ঢাকাস্থ কুষ্টিয়া জেলা সমিতির আজীবন সদস্যও তিনি। বেতার ও টেলিভিশনের সিনিয়র ক্রীড়া ভাষ্যকার মোঃ সামসুল ইসলাম আলফাজউদ্দিন আহমেদ সম্পর্কে বলেন, ‘আলফাজউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশে বাংলা ধারাভাষ্য জগতের একজন জীবন্ত নক্ষত্র। ধারাভাষ্যে তিনি আধুনিকতা নিয়ে এসেছেন। তাঁর উচ্চারণ, বাচনভাঙ্গ, শব্দচয়ন, ম্যাচ বিশ্লেষণ ক্ষমতা, স্পোর্টস সেন্স এ্যান্ড নলেজ এর যথাযথ প্রয়োগ, সব মিলিয়ে তার তথ্যসমৃদ্ধ ও সুললিত কণ্ঠের ধারাভাষ্য শোনার জন্য অপেক্ষা করেন শ্রোতা দর্শককুল। তিনি নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান। ধারাভাষ্যে তাঁর ৪০ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি প্রতিনিয়ত আমাদের বিলিয়ে যাচ্ছেন। এতে আমরা খুব সমৃদ্ধ হচ্ছি। তিনি সব বয়সী সহ-ভাষ্যকারদের সঙ্গে খুবই বন্ধুবৎসল। কমেন্ট্রি বক্সে তাঁর উপস্থিতি আমাদের খুব বেশি অনুপ্রাণিত করে। আমি তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।’ গত ১৫ অক্টোবর ছিল আলফাজউদ্দিনের ৭৩তম জন্মদিন। ওইদিন কিংবদন্তি এই ধারাভাষ্যকারকে শুভকামনা, ভালবাসা, শ্রদ্ধা জানিয়েছেন অনেকে। বেতার ও টেলিভিশনের ক্রীড়া ধারাভাষ্যকার মোঃ ফারুকুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশে ক্রীড়া ধারাভাষ্যের পথিকৃতদের একজন আলফাজউদ্দিন। যাদের হাত ধরে বাংলা ক্রীড়া ধারাভাষ্য জননন্দিত ও শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছে তাদের অন্যতম আলফাজ। প্রয়াত নূর আহমেদ, বদরুল হুদা চৌধুরী, নিখিল রঞ্জন দাস, আব্দুল হামিদ, মনজুর হাসান মিন্টুদের পর বাংলা ক্রীড়া ধারাবর্ণনা যারা শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন তাদের মধ্যে খোদা বক্স মৃধা, মোহাম্মদ মুসা, আলফাজউদ্দিন আহমেদ, শামিম আশরাফ চৌধুরী, চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত, ড. সাঈদুর রহমানের নাম উল্লেখযোগ্য।’ এক নজরে আলফাজ নাম : আলফাজউদ্দিন আহমেদ (ডাক নাম : আলফাজ) জন্ম : ১৫ অক্টোবর ১৯৪৭ সাল, কিরণ কুটির, থানাপাড়া, কুষ্টিয়া পিতার নাম : প্রয়াত আশরাফউদ্দিন আহমেদ ( বিশিষ্ট ব্যবসায়ী) মাতার নাম : প্রয়াত কানিজ রসুল পরিবারের সদস্য : ৪ ভাই ও ১ বোনের মধ্যে ২য় সংসার : স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে সংগঠক : সভাপতি, বাংলাদেশ স্পোর্টস কমেন্টেটর্স ফোরাম কর্মক্ষেত্র (সাবেক) : ডিজিএম, রূপালী ব্যাংক কর্মক্ষেত্র (বর্তমান) : এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, স্টারলিং গ্রুপ পছন্দের ফুটবলার (দেশে) : শেখ মোঃ আসলাম পছন্দের ফুটবলার (বিদেশ) : লিওনেল মেসি পছন্দের ক্রিকেটার (দেশ) : সাকিব আল হাসান পছন্দের ক্রিকেটার (বিদেশ) : শচীন টেন্ডুলকার, মুত্তিয়া মুরালিধরন পছন্দের ক্রীড়া ভাষ্যকার (দেশে) : প্রয়াত আবদুল হামিদ, মনজুর হাসান মিন্টু, খোদা বক্স মৃধা, মোহাম্মদ মুসা, শামিম আশরাফ চৌধুরী, ড. সাঈদুর রহমান, মোঃ সামসুল ইসলাম পছন্দের ক্রীড়া ভাষ্যকার (বিদেশ) : প্রদীপ রায়, হার্শা ভোগলে, রিচি বেনো, ওমর কোরেশি প্রিয় লেখক : শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায়। প্রিয় অভিনেতা : উত্তম কুমার, দিলীপ কুমার, অমিতাভ বচ্চন প্রিয় সঙ্গীতশিল্পী : মান্না দে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, সুবীর নন্দী ও সাবিনা ইয়াসমিন প্রিয় ব্যক্তিত্ব : হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) প্রিয় উক্তি : ‘সময়ের কাজ সময়ে করে নেয়া ভাল’।