মঙ্গলবার ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০২ জুন ২০২০ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

রাজার কবরে একদিন

  • ড. মো. আনিসুজ্জামন

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী রাজা রামমোহন রায় (১৭৭২-১৮৩৩) আধুনিক ভারতবর্ষের অগ্রনায়ক। বঙ্গীয় রেনেসাঁসের তিনি ছিলেন প্রাণপুরুষ। পাঠশালা, চতুষ্পাঠী বা টোল ও মক্তবে অল্প বয়সে তিনি আরবী, ফার্সি, সংস্কৃত ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন। পরিণত বয়সে তিনি হিন্দি, বাংলা, ইংরেজী, হিব্রু, লাতিন এবং গ্রিক ভাষায় পড়তে ও লিখতে পারতেন। ইংরেজী ভাষায় তিনি গ্রন্থ রচনা করেছেন। সংবাদকৌমুদ এবং মিরাট আল আকবার নামে দুটি সাপ্তাহিক পত্রিকা তিনি ফার্সি ভাষায় সম্পাদন করতেন। ১৮১৫ সাল থেকে ১৮২০ সালের মধ্যে রামমোহন রায়ের বেদান্ত দর্শনের অনুবাদ, ১৮১৫; বেদান্তসার এবং কেন ও ঈশোপনিষদের অনুবাদ, ১৮১৬; কঠ, মু-ক ও মা-ুক্যোপণিষদের অনুবাদ এবং হিন্দু একেশ্বরবাদ সম্বন্ধীয় গ্রন্থ ইংরেজী ও বাংলাতে, ১৮১৭; সতীদাহ সম্বন্ধীয় বিচার পুস্তক, বৈষ্ণব গোম্বামীর সহিত বিচার পুস্তক, গায়ত্রীয় ব্যাখ্যা পুস্তক এবং সতীদাহ সম্বন্ধীয় পুস্তকের ইংরেজী অনুবাদ, ১৮১৮; সতীদাহ সম্বন্ধীয় পুস্তক, ম-ুক ও সতীদাহ সম্বন্ধীয় পুস্তকের ইংরেজী অনুবাদ, ১৯১৯ সালে প্রকাশিত হয়। ফার্সি ভাষায় রচিত তুহ্ফাত্-উল্-মুআহ্হিদীন (একেশ্বর বিশ্বাসীদিগকে উপহার) এবং আরবি ভাষায় রচিত মানাজারাতুল আদিয়ান তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। ১৮৩২ সালে লন্ডন থেকে রাজা রামমোহন রায়ের ঔঁফরপরধষ ধহফ জবাবহঁব ঝুংঃবস ড়ভ ওহফরধ প্রকাশিত হয়।

উনবিংশ শতকে বাঙালীর ভাব-সংঘাত ও সমন্বয়ের যুগে রাজা রামমোহন রায় আধুনিক বিজ্ঞানমনস্ক ইউরোপীয় চিন্তা চেতনা দিয়ে প্রভাবিত হয়ে বঙ্গীয় রসায়নে উপস্থাপন করেছেন। তিনি ইউরোপকে গ্রহণ করেছে কিন্তু বাংলার চিরায়ত চিন্তা চেতনা বিসর্জন দিয়ে নয়। ফলে রাজার নামের সঙ্গে খুব শক্তভাবে যুক্ত হয়েছে সমাজ সংস্কারক। ভারতবর্ষের স্থবির সমাজ ব্যবস্থায় তিনি আধুনিকতার ছোঁয়া ফেলেছেন। রাজাকে দিয়ে আধুনিক ভারতবর্ষের সূচনা। রাজ রামমোহন রায়ের মধ্য দিয়ে প্রাচ্য এবং প্রাশ্চাত্যের মিলনমেলা সংগঠিত হয়। ভারতবর্ষের চিরায়ত ধারণা রাজার মাধ্যমে ইংল্যান্ডে পৌঁছে। রাজা রামমোহন রায় ধর্মী কুসংস্করের বিরুদ্ধে লড়েছেন কিন্তু ধর্মকে বিসর্জন দিয়ে নয়। ধর্মের আনুষ্ঠানিকতা তাঁর কাছে ছিল খুব গৌণ। তিনি ধর্মকে ধারণ করেছেন। রামমোহন রায় ইংরেজী শিক্ষার পৃষ্ঠপোষকতা করতেন কিন্তু ধর্মহীন শিক্ষাকে পছন্দ করতেন না। এ-সম্পর্কে প্রচলিত গল্পে আছে, একদিন কোনো একজন রাজা রামমোহন রায়কে এসে বললেন, ‘দেওয়ানজি, অমুক আগে ছিল চড়ষুঃযবরংঃ, তারপর হইয়াছিল ফরবংঃ, এখন হইয়াছে ধঃযবরংঃ, রামমোহন রায় হাসিয়া বলিলেন, - শেষে বোধ হয় হইবে নবধংঃ।’ রাজা রামমোহন রায়ের তুহ্ফাত্-উল্-মুআহ্হিদীন গ্রন্থকে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের গ্রন্থ হিসেবে অভিহিত করা হয়। এই গ্রন্থের ভূমিকায় তিনি লিখেছেন, ‘আমি পৃথিবীর বহু দূর দেশে গিয়েছি। কখনো সমতল ভূমিতে, কখনো বা পার্বত্য প্রদেশের নানা স্থানে বেড়িয়েছি। সর্বত্রই দেখেছি যে সে সকল দেশের লোকেরা একটি বিষয়ে একমত এই যে এই জগতে সব কিছুরই আদি কারণ ও তার বিধাতারূপে (মড়াবৎহড়ৎ) এক পরম সত্তা বিদ্যমান আছেন।’ ঈশ্বরকে তিনি সর্বশক্তিমান হিসেবে অভিহিত করেছেন। ঈশ্বর জগতের আদি কারণ। এ সম্পর্কে তিনি লিখেছেন, ‘সর্বশক্তিমান একমাত্র ঈশ্বরে বিশ্বাসই প্রত্যেক ধর্মের মূলসূত্র। জাতি বর্ণ ও ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষের হৃদয় পরস্পরের প্রতি প্রীতি ভালবাসা দিয়ে জয় করাই প্রকৃতির সৃষ্টিকর্তা একমাত্র ঈশ্বরের নিকট গ্রহণীয় বিশুদ্ধ পূজা।’ রামমোহন রায় খ্রীস্টধর্মের একেশ্বরবাদ ও নীতিকথার অনুরাগী ছিলেন। তিনি একেশ্বরবাদ প্রচার করেছেন। রামমোহন রায় বেদান্তদর্শনে রামানুজের অনুসারী। শঙ্করাচার্যের মতো তিনি জগতকে মিথ্যা বলেননি। তাঁর দৃষ্টিতে জগৎ বাস্তব। জগৎ মায়া নয়। ইউরোপিয়ান সমাজতন্ত্রী চার্লস ফুরিয়ে, রবার্ট ওয়েন দ্বারা প্রভাবিত রামমোহন রায় জগতের উন্নয়নের জন্য পাশ্চাত্য ধরনের আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করতে চেয়েছেন। রামমোহন রায় ছিলেন ভাববাদী দার্শনিক। তাঁর ভাববাদকে বস্তুগত ভাববাদ (ড়নলবপঃরাব রফবধষরংঃ) হিসেবে অভিহিত করা হয়।

রাজা রামমোহন রায় ১৮০৪ সালে মুর্শিদাবাদের রেজিস্ট্রার উডফোর্ড সাহেবের মুন্সি হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। এই সময়ে তাঁর তুহ্ফত্-উল-মুওয়াহিদ্দিন গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থটি ১৮০৪ সালেই ইংরেজী ভাষায় অনুবাদ করেন ঢাকা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মৌলভী ওবেদুল্লা। ১৮০৫ সালে রাজা রামমোহন রায় জন ডিগবীর অধীনে বাংলাদেশে রংপুর জেলায় কালেক্টর হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। ডিগবীর সংস্পর্শে থাকার সময়ে তিনি ইংরেজী ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন এবং ইউরোপীয় জ্ঞান বিজ্ঞান এবং রাজনীতির সঙ্গে পরিচয় হয়। ইউরোপের খবরের কাগজের সঙ্গে রাজার রংপুরে থাকার সময়ে পরিচয় ঘটে। তাঁর নেতৃত্বে রংপুরের প্রগতিশীল মানুষের একটি মিলন কেন্দ্র গড়ে উঠেছিল। ১৮১৪ সাল পর্যন্ত তিনি রংপুরে ছিলেন। রংপুর থেকে চাকরি ছেড়ে দিয়ে তিনি চলে যান কলকাতায়। জীবনের বেশির ভাগ সময় রংপুরে রাজা অবস্থান করলেও রামমোহনের কোনো স্মৃতিচিহ্ন রংপুরে নেই। ব্রিস্টলে তিনি অল্পদিন ছিলেন কিন্তু ইংল্যান্ড রাজার কদর করেছে। রাজাকে তারা রাজার সম্মানে রেখেছে।

রাজা রামমোহন রায় রংপুরে অবস্থান কালে তাঁর ভাই জগমোহন রায়ের মৃত্যু হয়। জগমোহনের সঙ্গে তার স্ত্রী অলকমঞ্জরী দেবীর সহমরনে যেতে বাধ্য হন। ভাবীর করুণ মৃত্যু সংবাদ শুনে রাজা বিচলিত হন এবং সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে সচেতনামূলক কাজ শুরু করেন। রাজার উদ্যোগের ফলে ভারতবর্ষ থেকে সতীদাহের নামে নির্বিচারে নারী হত্যা বন্ধ হয়। হিন্দু ধর্মের প্রচলিত বিশ্বাসগুলো সম্পর্কে রাজা প্রশ্ন উত্থাপন করেন। ফলে ধর্মান্ধ হিন্দু সমাজে তিনি নিন্দিত ছিলেন। নিন্দা শুনে তিনি থেমে যান নেই। রাজা ভারতর্ষকে কুসংস্কার থেকে মুক্তির সূচনা করেন।

রাজা রামমোহন রায় ১৮১৪ সালে চাকরি থেকে অবসর নিয়ে কলকাতায় এসে বসবাস শুরু করেন। তাকে আর নতুন চাকরির সন্ধান করতে হয়নি। রংপুরে থাকার সময়ে যথেষ্ট অর্থবৃত্তের মালিক হয়েছিলেন। তিনি কলকাতার মানিকতলায় লোয়ার র্সাকিউলার রোডে থাকার জন্যে সুন্দর একটি বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। বাড়িটি ইংরেজ সাহেবদের বাড়ির মতো ছিল। এছাড়া কলকাতায় তাঁর আরো ছয়টি বাড়ি ছিল। রাজার জমিদারি ছিল। তিনি ১০০০০ টাকা দিয়ে জমিদারি কিনেছিলেন। বাড়ি ভাড়া আর জমিদারি থেকে আয় দিয়ে তিনি স্কুল গড়েছেন এবং সভাসমিতি পরিচালনা করেছেন। পত্রপত্রিকা প্রকাশ করেছেন বাড়ি ভাড়া আর জমিদারি থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে। শিবনাথ শাস্ত্রী রামমোহন রায়ের কলকাতায় অবস্থানের বর্ণনা দিয়ে লিখেছেন, ‘তিনি কলকাতাতে পদার্পণ করিবা মাত্রই অগ্রসর, উদার, চিন্তাশীল ও সংস্কার-প্রয়াসী কতিপয় ব্যক্তি তাঁহার সহিত সম্মিলিত হইলেন।’ রাজা রামমোহন রায় সংস্কারপন্থী এই সকল ব্যক্তিদের নিয়ে ১৮১৫ সালে ‘আত্মীয়-সভা’ স্থাপন করেন। প্রথমদিকে এ সভার অধিবেশন রামমোহনের বাড়িতে অনুষ্ঠিত হতো। কলকাতা শহরের ধনীদের মিলন কেন্দ্রে পরিণত হয় রামমোহনের রায়ের আত্মীয়-সভা। এই সভায় বৈদান্তিক আলোচনার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হতো। আত্মীয় সভায় শিবপ্রসাদ মিশ্র বেদ পাঠ করতেন এবং গোবিন্দ মালা ব্রহ্মসঙ্গীত করতেন। লোকনিন্দার ভয়ে অনেকে আত্মীয় সভা ত্যাগ করেছিলেন। সমালোচকরা আত্মীয় সভার সদস্যদের নাস্তিক হিসেবে অভিহিত করতো। সমালাচনা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর, ব্রজমোহন মজুমদার, হলধর বসু, নন্দকিশোর বসু প্রমুখ রামমোহন রায়ের সঙ্গে ছিলেন।

রামমোহন রায়কে দ্বিতীয় আকবার রাজা উপরাধী দিয়ে ভারতবর্ষের প্রতিনিধি হিসেবে ১৮৩১ সালে ইংল্যান্ডে প্রেরণ করেন। ইংলান্ডে অনেক শহর তিনি ভ্রমণ করেন। শেষে ব্রিস্টলে কার্পেন্টার পরিবারে তিনি ছিলেন পরম আত্মীয়ের মতো। ১৮৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ব্রিস্টলে রাজার মৃত্যু হয়। বই পত্রে পড়েছি রাজা রামমোহন রায়ের সমাধি ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল শহরে আর্নস ভ্যাল সেমেট্রিতে (অৎহড়ং ঠধষব ঈবসবঃবৎু)। বহুদিন থেকে রাজার কবর দেখার শখ ছিল। আমার সে শখের বাস্তবায়ন ঘটে স্ত্রী প্রতীতি শিরীনের কল্যাণে। প্রতীতি শিরিন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইওই (ওঙঊ) তে কমনওয়েথ বৃত্তি নিয়ে এম এ পড়ছিল। প্রতীতির থিসিস জমা শেষে আমার অনুভূতি ব্যক্ত করায় সে কোনো কথা না বলে গুগল দিয়ে রাজার কবরের ঠিকানা বের করে ট্রেনের টিকেট কেটে আমরা সেন্ট্রাল লন্ডন থেকে চলে গেলাম ব্রিস্টলে। লন্ডন থেকে আড়াই ঘন্টার ট্রেন জার্নি। ছোট সাজানো গোছানে শহর ব্রিস্টল। রেল স্টেশন থেকে দশ মিনিটের পথ আর্নস ভ্যাল সেমেট্রি। সেমেট্রিতে যাওয়ার পথে দ্বিপ্রহরে কয়েকজনকে জগিং করতে দেখলাম। একটি মেয়ে আমাদের পাশ দিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে চলে গেল। হার জিরজিরে। ও আবার ফিগারের কি কমাতে চায়? জিরো ফিগারে রয়েছে। ব্রিটিশরা দিনের যে কোনো সময় জগিং করে। আমাদের মতো হাঁটার জন্যে সকাল সন্ধ্যার প্রয়োজন হয় না। কিছুদূর যাওয়ার পর রাস্তার পাশে দেখি কয়েকটি আপেল গাছ। মনে হলো আপাল খাওয়ার কেউ নেই। গাছের নিচে আপেলের স্তূপ। আমাদের দেশে আমের ফলন বেশি হলে কোনো কোনো বছর রাজশাহীতে গাছ থেকে আম নামানো হয় না। ব্রিস্টলের আপেল বাগান দেখে মনে হলো কোন সময়ই গাছ থেকে এগুলো নামানো হয় না।

ব্রিস্টল রেল স্টেশন থেকে হেঁটে আমরা আর্নস ভ্যালি সেমিট্রিতে পৌঁছলাম। করস্থানে প্রবেশ পথে কয়েকটি ঘর নিয়ে সুন্দর এবং নান্দনিক অভ্যর্থনা অফিস। আমরা অভ্যর্থনা কক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় লিফলেট সংগ্রহ করে কবরস্থানের ভিতরে ঢুকে গেলাম। সাজানো গোছানো কবরস্থান। ব্রিস্টল রেল স্টেশন থেকে ১০ মিনিটের দূরত্ব। সিটি সেন্টারের উল্টো দিকে সেমেট্রি। আর্নস ভ্যাল সেমেট্রির প্রবেশ পথে রাজার সমাধি। রাজার কবরের পাশে গিয়ে এত ভালো লেগেছে, যা অনেক কিছুর মধ্যে লাগে না। কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বসে ছবি তোলার পর্ব শেষ হলো। সুন্দর করে বাঁধানো সবচেয়ে উঁচু টুমটি রাজার। মনে মনে ভাবলাম রামমোহন রায় সত্যিকারের রাজা ছিলেন। ইংল্যান্ডে মানুষ রাজাকে রাজার মর্যাদায় রেখেছে।

আর্নস ভ্যাল সেমেট্রির সব কবর সুন্দর করে বাঁধানো। কবরগুলোতে মৃতদের নাম ঠিকানা এবং সংক্ষিপ্ত পরিচিতি লেখা। কবরস্থানের ভিতর দিয়ে চলাচলের রাস্তা। মৃত মানুষগুলোকে অনেক যতেœ রেখেছে। খাবারের দোকান আছে সেমেট্রির ভিতর। অনুষ্ঠান করার জায়গা রয়েছে। খাবারের দোকানে এক কাপ কফির মূল্য আড়াই পাউন্ড। শুধু রাজাকে ভালোবাসার জন্যে আমরা এক কাপ কফি দুজনে ভাগ করে খেয়েছি। কফি শপে অনেকক্ষণ বসেছিলাম। সেমেট্রির ভিতর বসে থাকার জন্যে মৃত ব্যক্তিদের কাছাকাছি থাকার জন্যে কিছুদূর পরপর পাকা বেঞ্চি রয়েছে। বেঞ্চিতে বসে জীবনকে দেখা যায়। মৃত্যুকে দেখা যায়। নিজেকে উপলব্ধি করা যায়। সেমেট্রি কোনো ভয়ের স্থান নয় অনেকটা নান্দনিক। সবারই একদিন এখানে যেতে হবে। বর্তমান প্রজন্মের কাজ হলো চিরস্থায়ী স্থানটুকু সুন্দর করে রাখা। ব্রিটিশরা সে কাজটি ভালোভাবে করে। কার্ল মার্কক্সের কবর দেখার জন্য গিয়েছিলাম লন্ডনের হাইগেট সেমেট্রিতে। রীতিমতো চার পাউন্ড দিয়ে টিকেট কিনে ভিতরে ঢুকতে হয়েছে। কার্ল মাক্সের কবরের সামনের কবরটি হার্বাট স্পেন্সারের। একজন মুসলিমের কবরও মার্কক্সের কবরের পাশে রয়েছে। বিচিত্র হাইগেট সেমেট্রি। একটি কবরের সামনে অনেক বিভিন্ন রং এর কলম দেখেছি। মনে হলো লোকটি লেখক ছিলেন। মধ্য বয়সী এক মহিলাকে দেখলাম একটি কবর পানি দিয়ে পরিষ্কার করে কিছু ফুল দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন মনে হয় তিনি এ কাজটি করেন। তার কোনো প্রিয় মানুষের কবর হবে। এক জীবন হয়তো তার এভাবেই প্রিয় ব্যক্তিটিকে স্মরণ করে চলে যাবে।

ব্রিস্টলের অৎহড়ং ঠধষব ঈবসবঃবৎু এর প্রবেশ মুখে রাজার সমাধির উপর লেখা রয়েছে, চযরষড়ংড়ঢ়যবৎ, জবভড়ৎসবৎ, চধঃৎরড়ঃ, ঝপযড়ষধৎ, অ ভড়ঁহফবৎ ভধঃযবৎ ড়ভ ওহফরধহ জবহধরংংধহপব. অৎহড়ং ঠধষব ঈবসবঃবৎু. রাজার ক্ষেত্রে সবগুলো উপমা সঠিক। রাজার জন্মদিনে প্রতিবছর এখানে অনুষ্ঠান হয়। রাজার মৃত্যু দিনটি আর্নস ভ্যাল সেমিট্রিতে স্মরণ করে স্থানীয় জনগণ। আমরা অনেকক্ষণ ছিলাম আর্নস ভ্যালি সেমিট্রিতে রাজার কবরের পাশে। মনে হলো কোনো পরম আত্মীয়ের কবর পরিদর্শনে এসেছি। বহু অনুসন্ধানের পর বহু বছর খুঁজে শেষে পেয়েছি। এই পাওয়ার মধ্যে ভিন্ন ধরনের এক আনন্দ। আর্নস ভ্যালি সেমিট্রি থেকে হেঁটে আমরা গেলাম সিটি সেন্টারে। ব্রিস্টল ছোট শহর। হেঁটে বেড়িয়েছি। ব্রিস্টল সেন্ট্রাল লাইব্রেরির সামনে রাজা রামমোহনের বড় একটি ভাস্কর্য রয়েছে। রাজার মতো করেই তিনি দাঁড়িয়ে আছেন। লাইব্রেরি থেকে আমরা রামমোহনের হাতে লেখা দুটি চিঠি সংগ্রহ করি। এ ছাড়া আরো দুটি ডকুমেন্ট পাই। তার একটিতে লেখা রাজা খ্রিস্টান ধর্মের প্রতি অনুরাগী ছিলেন এবং ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন। অন্য ডকুমেন্টে দেখা যায় তিনি ধর্মান্তরিত হননি। তিনি ফ্রান্স জানতেন না ইত্যাদি। ব্রিস্টল সেন্ট্রাল লাইব্রেরি থেকে ঔঁফরপরধষ ধহফ জবাবহঁব ঝুংঃবস ড়ভ ওহফরধ বইটির সন্ধান পাই। কয়েক পাতা ফটো কপি করে এনেছিলাম। রাজশাহী রাব লাইব্রেরী এবং দেশের উন্নত লাইব্রেরীতে যতটুকু সম্ভব খুঁজে বইটি সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়েছি। উনবিংশ শতাব্দী নিয়ে এদেশে যারা গবেষণা করেন তাদের কাছের বইটির সন্ধান চেয়েছি।

পরবর্তী সময়ে আমার বিলাত প্রবাসী বন্ধু গোলাম রব্বানী সম্পূর্ণ বইটি সংগ্রহ করে দিয়েছেন। রাজা পর্ব শেষ করে আমরা ব্রিস্টল শহর ঘুরে বেড়ালাম। লোকজনের কোনো জটলা নেই। একটি ছোট গলি দেখার জন্যে আমার স্ত্রী কিছুদূর এগিয়ে গিয়ে ফিরে আসে। ওর আসা দেখে আমি উঁচুস¦রে হেঁসে উঠলাম। শব্দ করে হাসতে দেখে পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় একজনকে নাক কুচকে বলতে শুনলাম ‘বুলশিট’। অল্প কয়েকদিন ইংল্যান্ড বাসে আমার একটি ইংরেজী শব্দ শেখা হলো বুলশিট। হাসতে হবে মুখ টিপে টিপে, বত্রিশ পাটি দাঁত বের করে নয়। নিজের খুশি যেন অন্যের বিরক্তের কারণ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

শীর্ষ সংবাদ:
সব জেলা হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর         দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও ৩৭ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২৯১১         প্রথমবারের মত ভার্চুয়াল একনেকে ১৬২৭৬ কোটি খরচে ১০ প্রকল্প অনুমোদন         স্বাস্থ্যসেবা দিতে অবহেলা করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে : তথ্যমন্ত্রী         নিজ গৃহ এবং কর্মস্থলে সচেতনতার প্রাচীর গড়ে তুলতে হবে ॥ কাদের         ২০২০-২১ অর্থবছরে মোবাইল ফোনের কল রেট বাড়ছে         নটর ডেমসহ ৪ কলেজে নিজস্ব প্রক্রিয়ায় ভর্তির অনুমতি         বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে ৭৫৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে এডিবি         করোনা ভাইরাস দুর্বল হওয়ার প্রমাণ নেই ॥ ডব্লিউএইচও         আইসিইউতে ভর্তি মোহাম্মদ নাসিম, শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল         দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের হাতে বাংলাদেশি নিহত         ন্যাশনাল ব্যাংকের ৬০ লাখ টাকা উদ্ধার, গ্রেফতার ৪         কঙ্গোতে ছয়জনের ইবোলা শনাক্ত, চারজনের মৃত্যু         জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু শ্বাসকষ্টে হয়েছে         আরও ১১ জনপ্রতিনিধি বরখাস্ত         রাজউকের এক কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত, কক্ষ তালাবদ্ধ         হোয়াইট হাউসের সামনে সংঘর্ষ, সেনা নামানোর হুমকি ট্রাম্পের         পশ্চিম তীর দখল নিয়ে ইসরাইলকে সতর্ক করল আরব আমিরাত         উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়ল লাদাখ সীমান্তে মোতায়েন করা চীনের যুদ্ধবিমানের ছবি         রেড, ইয়েলো, গ্রীন ॥ করোনা ঠেকাতে তিন জোনে ভাগ হচ্ছে        
//--BID Records