ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯

কৃষকদের ২৪ হাজার ১২৪ কোটি টাকা ঋণ দেবে সরকার

প্রকাশিত: ১২:২০, ২৪ জুলাই ২০১৯

কৃষকদের ২৪ হাজার ১২৪ কোটি টাকা ঋণ দেবে সরকার

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ চলতি অর্থবছরে ব্যাংকগুলো কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ২৪ হাজার ১২৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা বিগত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১০.৬৬ শতাংশ বেশি। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন অর্থবছরের জন্য কৃষি ও পল্লী ঋণ এ নীতিমালা ঘোষণা করা হয়। এ সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গবর্নর এস এম মনিরুজ্জামান ও কৃষি ঋণ বিভাগের মহাব্যবস্থাপকসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে ডেপুটি গবর্নর বলেন, কৃষি ও পল্লী ঋণের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনায় চলতি অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকসমূহের জন্য ১০ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা এবং বেসরকারী ও বিদেশী বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের জন্য ১৩ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি জানান, গত অর্থবছরে মাইক্রো ফাইন্যান্স ইনস্টিটিউশন (আইএমএফ) এর মাধ্যমে ৩৫ দশমিক ১৪ শতাংশ কৃষিঋণ বিতরণ করা হয়েছে। যার পরিমাণ ৮ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা। তবে আইএমএফ থেকে নিরুৎসাহিত করতে ব্যাংকগুলোকে কৃষিঋণ সহজীকরণে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে ব্যাংক বহির্ভূত প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরতা আরও কমে আসবে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোন নীতিগত কোন সহায়তা দেয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বন্যায় কোন কৃষক যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন কৃষকদের পাশে থাকবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে যদি প্রশাসনের কেউ যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানায় তাহলে অবশ্যই আমরা তা বিবেচনায় নেব। এছাড়াও কেউ যদি ক্ষতিপূরণের জন্য ব্যাংকগুলোর কাছে আসে তাহলে ব্যাংকগুলোরও ব্যক্তিগত উদ্যোগে এগিয়ে আসা উচিত। যে কয়টি ব্যাংক কৃষি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ঋণ বিতরণ করেনি তাদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গেল অর্থবছরে কিছু দুর্বল ব্যাংক ছাড়া সবাই কৃষিঋণ বিতরণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে। তবে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান নানা সমস্যায় জর্জরিত। এছাড়াও মধুমতি ও আইসিবি ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকের অবস্থা খারাপ হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। তারপরেও কেন তারা ঋণ বিতরণ করতে পারেনি তা সঠিকভাবে বিচার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। সংবাদ সম্মেলনে জাানানো হয়, বিগত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ব্যাংকসমূহ মোট ২৩,৬১৬.২৫ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ করেছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১০৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। বিগত অর্থবছরে মোট ৩৮ হাজার ৮৩,৪২৪ জন কৃষক কৃষি ও পল্লী ঋণ পেয়েছেন, যার মধ্যে ব্যাংকসমূহের নিজস্ব নেটওয়ার্ক ও এমএফআই লিংকেজের মাধ্যমে ১৬,০১,৮৫৬ জন নারী প্রায় ৭,১৯০.৫৫ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লী ঋণ পেয়েছেন। উক্ত অর্থবছরে ২৯,৮৯,২৩৭ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষী বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ১৬,৩২২.৮৭ কোটি টাকা এবং চর, হাওড় প্রভৃতি অনগ্রসর এলাকার ৯,৯৫০ জন কৃষক প্রায় ৩১.৬১ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লী ঋণ পেয়েছেন। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলে জনসাধারণের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে উদ্ভূত সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং কৃষকদের কাছে কৃষি ঋণ সহজলভ্য করার লক্ষ্যে বর্তমান নীতিমালা ও কর্মসূচীতে বেশ কিছু সময়োপযোগী বিষয় সংযোজিত হয়েছে। এবারের নীতিমালার উল্লেখযোগ্য নতুন সংযোজিত বিষয়সমূহ হচ্ছে ঃ এমএফআই লিংকেজের ব্যবহার ক্রমান্বয়ে হ্রাস করে ব্যাংক সমূহকে নিজস্ব শাখা এবং এজেন্ট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ বৃদ্ধির নির্দেশনা প্রদান; কাজুবাদাম চাষে ঋণ প্রদান; রাম্বুটান চাষে ঋণ প্রদান; কচুরিপানার ডাবল বেড পদ্ধতিতে আলু চাষে ঋণ প্রদান; ১ টাকা হতে যে কোন অঙ্কের সকল বকেয়া শস্য ও ফসল ঋণের ক্ষেত্রে সিআইবিতে রিপোর্ট করতে হবে কিন্তু নতুন মঞ্জুরি বা নবায়নের জন্য ২.৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত শস্য ও ফসল ঋণের ক্ষেত্রে সিআইবি রিপোর্ট সংগ্রহের প্রয়োজন হবে না; ঋণ পরিশোধের স্বাভাবিক সময়সীমা (বীজ উৎপাদন ও বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের জন্য) সংযোজন; শস্য/ফসল খাতে ঋণ বিতরণের জন্য একর প্রতি ঋণ সীমা যৌক্তিক পরিমাণ বৃদ্ধিকরণ; গাভী পালন, গরু মোটাতাজাকরণ, ছাগল ও ভেড়া পালনের জন্য ঋণ নিয়মাচার সংযোজন; বাণিজ্যিকভাবে রেশম উৎপাদনের জন্য ঋণ নিয়মাচার সংযোজন; এটুআই কর্তৃক গৃহীত কৃষি ও পল্লী ঋণ সহজীকরণ সিস্টেমটির পাইলটিং কার্যক্রম বাস্তবায়ন।