ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

সংস্কৃতি সংবাদ

শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সুরমূর্ছনায় মুগ্ধ শ্রোতা

প্রকাশিত: ১১:১০, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সুরমূর্ছনায় মুগ্ধ শ্রোতা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শাস্ত্রীয় সঙ্গীতপ্রিয়দের জন্য সন্ধ্যাটি ছিলে মনোরম। মঞ্চ থেকে মাইকে ভেসে আসছে বাগেশ্রী রাগের আলাপ। দ্বৈতকণ্ঠে গাইছেন ভারতের শিল্পী প-িত নিলাদ্রী নাথ ও বাংলাদেশের খেয়ালী পংকজ বসু। দুজনই প্রখ্যাত সঙ্গীতাচার্য জয়ন্ত বোসের যোগ্য শিষ্য। পুরো মিলনায়তন যেন সঙ্গীতময় করে তুলেছেন এ শিল্পীদ্বয়। চোখে পড়ার মতো শ্রোতার উপস্থিতি না থাকলেও যারা ছিলেন হৃদয় দিয়ে উপভোগ করছেন শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের এ সুরমূর্ছনা। এমনই ভাবগাম্ভীর্যময়তা বিরাজ করছিল শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে সোমবার সন্ধ্যায়। সঙ্গীত সংগঠন বীণাকার মিউজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ আয়োজিত তিন দিনব্যাপী যুগপূর্তি এ উৎসবের শেষদিনে ছিল শাস্ত্রীয় সঙ্গীত পরিবেশনা ও আলোচনানুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিজন কামাল লোহানী। বিশেষ অতিথি ছিলেন নাট্যজন শংকর সাওজাল ও শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীত ও নৃত্য বিভাগের পরিচালক সোহরাব উদ্দিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির অধ্যক্ষ পংকজ বসু। সংগঠনের শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে ইমন রাগে বৃন্দ খেয়াল পরিবেশনা দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এরপর সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন করে চেতনা সঙ্গীত ‘ভাল মন্দ দ্বন্দ্ব রঙ্গ সব নিয়ে বাসি ভালো আমার এ দেশ বাসি ভালো’। সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অতিথিরা বলেন, শাস্ত্রীয় সঙ্গীত হচ্ছে শাস্ত্রের নিয়মাদি মেনে চলা সঙ্গীত। সঙ্গীতকে যেসব নির্দিষ্ট নিয়মের ভেতর দিয়ে চলতে হয় সেই নিয়মগুলো শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ইতিহাস অনেক পুরনো। বৈদিক যুগ থেকে এই সঙ্গীতের চর্চা চললেও ধারণা করা হয়, স্তোত্রের সুর থেকে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের বিকাশ। এই শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, উচ্চাঙ্গ, রাগ, ধ্রুপদি বা শুদ্ধ সঙ্গীত নামে পরিচিত। বাংলাদেশে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের প্রচার ও প্রসারের ব্যাপারে পণ্ডিত বারীণ মজুমদারের অবদান অনস্বীকার্য। দেশ ভাগের পর তিনি পাবনায় এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। এরপর থেকেই তিনি উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের প্রসারের লক্ষ্যে একটানা কাজ করে গেছেন। বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, কৃষ্টি, সভ্যতা বেশ প্রাচীন। সংস্কৃতির অগ্রগতির পাশাপাশি বিভিন্ন সময় চড়াই-উতরাইয়ের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশে সঙ্গীতের বিকাশ ঘটেছে। এই বিকাশ লাভ আরও সুদূরপ্রসারী হতে পারত যদি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের চর্চায় আরও অধিক সংগঠন ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ থাকত। আলোচনার পর শুরু হয় নিরীক্ষাধর্মী শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ও উপশাস্ত্রীয় সঙ্গীত পরিবেশনা। এ পর্বের শুরুতে দ্বৈত খেয়াল পরিবেশন করেন আচার্য জয়ন্ত বোসের দুই শিষ্য প-িত নিলাদ্রী নাথ(ভারত) ও খেয়ালী পংকজ বসু(বাংলাদেশ)। শিল্পীদের দ্বৈত পরিবেশনায় ছিল রাগ বাগেশ্রী। তাদের কণ্ঠের কারুকাজ ও অসাধারণ গায়কীয়তে মুগ্ধ শ্রোতা। একই সঙ্গে তাদের কণ্ঠে গমক তান ও সপাট তানে সবার হৃদয় কাড়ে। শিল্পীদের সঙ্গে তবলায় সঙ্গত করেন ভারতের শিল্পী ভোলানাথ নট্ট। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ছিল উপশাস্ত্রীয় সঙ্গীত। এ পর্বে ঠুমরী, গজল, দাদরা, চৈতি, হোরী ও কাজরী পরিবেশন করেন ভারতের শিল্পী ধৃতি চট্টোপাধ্যায়। তবলা শিল্পী ভোলানাথ নট্টের যোগ্য সঙ্গতে অনুষ্ঠানটি পূর্ণতা পায়। বীণাকার মিউজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের যুগপূর্তি উদ্যাপন উপলক্ষে এর আগে ছিল দুই দিনের সঙ্গীত বিষয়ক কর্মশালা। কর্মশালায় প্রশিক্ষক ছিলেন প-িত নিলাদ্রী নাথ ও প্রথিতযশা তবলা বাদক ভোলানাথ নট্ট।