সোমবার ৩ কার্তিক ১৪২৮, ১৮ অক্টোবর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে জিততে পারবেন না

  • সিএনএন জরিপ

মার্কিন নাগরিকের অনেকে এখন ভাবতে শুরু করেছেন যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদেও নির্বাচনে জিতে দায়িত্ব নেবেন। আর আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী হতে যাচ্ছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের করা এক সাম্প্রতিক জরিপে এমন ফল পাওয়া গেছে। খবর ওয়েবসাইটের।

নতুন জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বেশিরভাগ মানুষই দ্বিধান্বিত ছিলেন। এই জরিপে তার পক্ষে বলেছেন ৪৬ ভাগ মানুষ। আর ৪৭ ভাগ মানুষ বলেছেন, তিনি প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না। তবে এতেও ট্রাম্পের উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। গত মার্চে করা একই জরিপে ৫৪ শতাংশ প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ বলেছিলেন, ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে জিততে পারবেন না। আগের জরিপের তুলনায় নতুন জরিপে ট্রাম্পের প্রতি পুরুষদের সমর্থন ৮ শতাংশ বেড়েছে। স্বতন্ত্র ব্যক্তিদের সমর্থন ৩৯ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৭ শতাংশ। এছাড়া যারা এ বছর মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দিতে আগ্রহী তাদের সমর্থন ৩৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৬ শতাংশ হয়েছে। নতুন জরিপে দেখা গেছে, দলের মধ্যেও দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের মনোনয়ন নিয়ে দ্বিধা অনেকটাই কেটে গেছে। রিপাবলিকান দলের ৭৪ শতাংশ মানুষই তাকে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে অনুমোদন দিচ্ছে। আর ২১ শতাংশ রিপাবলিকান মনে করে, দলের পক্ষ থেকে নতুন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী দেয়া দরকার। ট্রাম্পের বিপরীতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। জরিপে ডেমোক্র্যাট ও ডেমোক্র্যাটিকপন্থী স্বতন্ত্র ব্যক্তিদের প্রশ্ন করা হয়, সম্ভাব্য ১৬ প্রার্থীর মধ্যে আগামী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে কাকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান। এর জবাবে বাইডেন ৩৩ শতাংশ মানুষের সমর্থন পেয়েছেন। ২০১৬ সালের প্রাইমারীতে দ্বিতীয় হওয়া স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স পেয়েছেন ১৩ শতাংশ মানুষের সমর্থন। সিনেটর কামালা হ্যারিস ৯ শতাংশ, সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ৮ শতাংশ, সিনেটর করি বোকার ৫ শতাংশ ও ২০০৪ সালের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জন কেরি ৫ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। সম্প্রতি ডেমোক্র্যাট হিসেবে নিবন্ধিত হওয়া নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ এই জরিপে ৪ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। বার্নি স্যান্ডার্স ২০১৬ সালে যেসব বিষয় প্রচার করেছিলেন, এবারও প্রায় একই বিষয়কে সামনে আনছেন। বিষয়টি আত্মস্বীকৃত ডেমোক্র্যাট ও বয়স্ক ভোটারদের সমর্থন কমিয়েছে। নিজেদের ডেমোক্র্যাট মনে করা ব্যক্তিদের ৩৪ শতাংশ মানুষ বাইডেন, ১১ শতাংশ হ্যারিস, ৯ শতাংশ স্যান্ডার্স ও ৮ শতাংশ ওয়ারেনকে সমর্থন করেছেন। স্বতন্ত্র ডেমোক্র্যাটদের কাছ থেকেও স্যান্ডার্স ২১ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। যেখানে এই দলটির কাছ থেকে বাইডেন পেয়েছেন ৩১ শতাংশ সমর্থন। আর অন্যরা অনেক পিছিয়ে আছে। ডেমোক্র্যাট দলের মধ্যে স্যান্ডার্সের এমন সঙ্কটে লাভবান হয়েছেন হ্যারিস। আত্মস্বীকৃত আবার নিজেদের উদারপন্থী হিসেবে দাবি করা ডেমোক্র্যাটদের ১৯ শতাংশের সমর্থন গেছে তার পক্ষে। তবে সেখানেও ২৭ শতাংশ সমর্থন পেয়ে সবার উপরে বাইডেন। আর এই দলটির মাত্র ৭ শতাংশ সমর্থন করেছে স্যান্ডার্সকে। ডেমোক্র্যাটপন্থী স্বতন্ত্র ব্যক্তিদেরও ২৮ শতাংশ বাইডেন, ১৫ শতাংশ হ্যারিস, ১৩ শতাংশ স্যান্ডার্স ও ১১ শতাংশ ওয়ারেনকে পছন্দ করেছেন। আর রক্ষণশীল ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ৩৮ শতাংশই সমর্থন করেছেন বাইডেনকে। তারপরেই ১৪ শতাংশ সমর্থন নিয়ে আছেন স্যান্ডার্স। আর কারও সমর্থনই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছায়নি। এসএসআরএস সফটওয়্যারের মাধ্যমে করা সিএনএনের নতুন জরিপটি ৪ থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত করা হয়েছে। এতে এলোমেলোভাবে ১০০৯ নাগরিককে নমুনা হিসেবে নেয়া হয়েছে। সরাসরি টেলিফোন অথবা মোবাইল ফোনে তাদের সাক্ষাতকার নেয়া হয়েছে।

শীর্ষ সংবাদ: