ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

ধর্মযাজক হত্যাচেষ্টা

দিনাজপুরে ৩ সাক্ষীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

প্রকাশিত: ০৬:১৫, ২৮ আগস্ট ২০১৮

দিনাজপুরে ৩ সাক্ষীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর ॥ ইতালি নাগরিক ধর্মযাজক ফাদার পিয়েরো পিচম হত্যা চেষ্টা মামলায় তিন সাক্ষীকে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্য দেয়ার জন্য আদালতে হাজির করতে বিচারক গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ দিয়েছেন। সোমবার এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারের জন্য দিনাজপুরের অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিশ্বনাথ ম-লের আদালতে দিন ধার্য ছিল। গত ধার্য তারিখে মামলার এজাহারকারী দিনাজপুর কসবা মিশনের ফাদার ইনচার্জ সিলাস কুজুর, সাক্ষী দিনাজপুর শহরের মির্জাপুর এলাকার গসাই দেওয়ানের পুত্র নুর ইসলাম (৬৫) ও গজন সাহার পুত্র রঞ্জিত সাহা (৫০) এর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। মামলার ভিক্টিম ধর্মযাজক পুরোহিত ডাঃ পিয়েরো পিচম, সদর উপজেলার খামার কাচাই গ্রামের আব্দুর রহিমের স্ত্রী আমিনা বেগম ও সাদেকুল ইসলামকে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য তাদের হাজির করতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। সোমবার মামলার ধার্য তারিখে ওই তিন সাক্ষী আদালতে হাজির না হওয়ায় তাদের আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর আদালতে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য হাজির করতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এদিকে এই মামলার অভিযোগপত্রের আসামি জেএমবির এহসার সদস্য শরিফুল ইসলাম ওরফে ডেনিস (২৮), মোসাব্বিরুল আলম খন্দকার (২৭), শাখাওয়াত হোসেন (৩০), সারওয়ার হোসেন সাবু (৩৩) ও রাজিবুল ইসলাম ওরফে রাজিব ওরফে সুজনকে কড়া পুলিশ প্রহরায় সোমবার দুপুর ১টায় আদালতে হাজির করা হয়। অপর আসামি আব্দুর রহমান ওরফে বাদশা (২৩) দুই মাস আগে হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে জেল হাজত থেকে মুক্তি পেয়েছে। সোমবার মামলার ধার্য তারিখে আব্দুর রহমান ওরফে পিন্টু আদালতে হাজির না হয়ে তার পক্ষে আইনজীবী হাজিরার জন্য সময়ের আবেদন করলে, বিচারক সর্বশেষ বারের মতো সময় মঞ্জুর করেন। পালিয়ে থাকা অপর দুই নব্য জেএমবি সদস্য বগুড়া শাহজাহানপুর থানার হাজী মোহাম্মদ আলীর পুত্র রাজিবুল ইসলাম ওরফে বাদল (২৫), দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার জগদল গ্রামের ইব্রাহীম আলীর পুত্র আব্দুল খালেক ওরফে খালেদ (২৮)-এর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি ও হুলিয়া পরোয়ানা জারি বহাল রয়েছে। তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার কার্যক্রম শুরু করতে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পালিয়ে থাকা নব্য জেএমবির তিন সদস্যদের অনুপস্থিতিতে মামলার বিচার কাজ চলছে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১৮ নবেম্বর সকাল সাড়ে সাতটায় দিনাজপুর শহরের মির্জাপুর বাসটার্মিনালের পাশে ইতালীয় নাগরিক ধর্মযাজক ফাদার পিয়েরো পিচমকে পেছন থেকে নব্য জেএমবির সদস্যরা মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় গুলি করে পালিয়ে যায়। পিয়েরো পিচমকে প্রথমে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করা হয়। এ ঘটনায় দিনাজপুর কসবা মিশনের ফাদার ইনচার্জ সিলাস কুজুর বাদী হয়ে জঙ্গী সদস্যদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দিনাজপুর ডিবি পুলিশের এসআই বজলুর রশিদ তদন্ত করে আট নব্য জেএমবির সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র পেশ করলে বিচার কাজ শুরু হয়।