ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

কারাগারে ৩ নেতার সাক্ষাত

প্রতিদিনই খালেদার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে ॥ ফখরুল

প্রকাশিত: ০৬:০৩, ২৯ এপ্রিল ২০১৮

প্রতিদিনই খালেদার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে ॥ ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার ॥ গুরুতর অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে সঠিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না জানিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা বিভিন্নভাবে জানতে পেরেছি বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য কারা কর্তৃপক্ষের কাছে দেয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শের ফাইলটি প্রধানমন্ত্রীর দফতরে আটকে আছে। আর এ জন্য তার চিকিৎসায় ব্যাঘাত ঘটছে। তবে উন্নত চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার খালেদা জিয়ার আছে। শনিবার দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। বিকেলে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত শেষে মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য খুবই খারাপ। কোন ওষুধ এখন আর কাজ করছে না। বিএনপি চেয়ারপার্সন সাহস ও ধৈর্যের সঙ্গে আন্দোলন চালিয়ে যেতে বলেছেন। ফখরুল বলেন, কারাগারে একজন সাধারণ নাগরিকেরও উন্নত চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার আছে। চিকিৎসা নিয়ে এদিকে সেদিক করার কোন সুযোগ নেই। অথচ দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে ভিত্তিহীন মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে তার পছন্দের হাসপাতালে সুচিকিৎসা প্রদানের দাবি জানাচ্ছি। ফখরুল বলেন, আমরা যত দূর শুনেছি, কারা কর্তৃপক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করে খালেদা জিয়াকে একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করার জন্য সুপারিশ করেছেন। জানতে পেরেছি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই ফাইল পড়ে আছে। এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং এই সিদ্ধান্তহীনতার কারণে প্রতিদিনই তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ২২ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে খালেদা জিয়ার ভাল চিকিৎসা হবে। ওই সময় আইজি প্রিজন্সও উপস্থিত ছিলেন। এখনও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সরকারের অবহেলা কিংবা সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব কোন মানবিক আচরণ হতে পারে না। এটা সম্ভবত অপরাজনৈতিক আচরণ। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জেলে থাকাকালে চোখের সমস্যার জন্য অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে তার পছন্দের স্কয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল, পরে বিদেশেও পাঠানো হয়েছিল। অথচ তিন বারের প্রধানমন্ত্রীকে চিকিৎসা না দিয়ে তার অবস্থার অবনতি ঘটানো হচ্ছে। এই সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, খালেদা জিয়াকে অসুস্থ রাখা, যাতে তাকে রাজনীতি ও নির্বাচনের বাইরে রাখা যায়। তিনি বলেন, সরকারকে জোরের সঙ্গে বলব, অবিলম্বে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় সকল দায়-দায়িত্ব সরকারকে বহন করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে নিউরো মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক সৈয়দ ওয়াহিদুর রহমান বলেন, এখন খালেদা জিয়ার বেশি সমস্যা ঘাড়ের। সব সময় ব্যথা হচ্ছে। এছাড়া হাতের আঙ্গুলগুলোতে রিউমারাইটিস আথরাইটিস আছে। তাই তার আঙ্গুলগুলো ফোলা ফোলা এবং ব্যথা রয়েছে। উনার কোমরের হাড়গুলো ক্ষয় হয়ে স্পাইনাল কর্ডগুলো চাপা পড়ে গেছে। ফলে তিনি এখন হাঁটতে পারছেন না। এসব সমস্যায় শরীর দুর্বল হয়ে যেতে পারে, প্যারালাইসিস হতে পারে, হাত-পা অবশ হয়ে যেতে পারে। তার এখন সুচিকিৎসা দরকার। এ জন্য তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা দরকার, ফিজিওথেরাপি দরকার। চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, খালেদা জিয়ার দুই চোখই অপারেশন করা। তিনি চোখের নানা সমস্যায় ভুগছেন। তার চোখ লাল হয়ে যাচ্ছে। এখন উনার যে অবস্থা উনি যদি চিকিৎসা না পান আর একবার যদি কর্নিয়া ড্রাই হয়ে যায়, তাহলে উনার এই কর্নিয়াকে ১৫ বছরেও ভাল করা যাবে না। যে কোন সময়ে উনি অন্ধ হয়ে যেতে পারেন। অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সিরাজউদ্দিন আহমেদ বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য ওয়েল ভেন্টিলেটেড এনভায়রনমেন্টের একটা কক্ষ ও পরিবেশ দরকার। ওই স্যাঁতসেঁঁতে পুরনো কক্ষে থাকলে তার সমস্যাগুলো আরও বাড়তে থাকবে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, ডাঃ এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, আবদুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ। খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিএনপির তিন সিনিয়র নেতার সাক্ষাত ॥ খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন বিএনপি মহাসচিবসহ দলের তিন সিনিয়র নেতা। শনিবার বিকেল পৌনে ৪টায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খান নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাত করেন। খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ভাল নয়, তার স্বাস্থ্য খুবই খারাপ, তাই আমরা উদ্বিগ্ন। মেডিক্যাল বোর্ডের দেয়া কোন ওষুধও এখন আর কাজ করছে না। এ অবস্থায় তিনি গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে চান। এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য দলীয় নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে সাহস ও ধৈর্যের সঙ্গে আন্দোলন চালিয়ে যেতে বলেছেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি যে হাসপাতালে যেতে চেয়েছেন, সেখানে রেখে তার চিকিৎসা প্রয়োজন। কারাগারে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আরও খারাপের দিকে গেলে এর সব দায় সরকারকেই নিতে হবে। আরেক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, আমরা খালেদা জিয়ার কাছে স্বাস্থ্যের কথাই জিজ্ঞাসা করেছি। স্বাস্থ্যের কথাই তিনি বলেছেন। তিনি ঠিকমতো খেতে পারছেন কিনা, তার পরিবেশটা পরিবর্তন করা প্রয়োজন, এসব নিয়েই কথা হয়েছে। এই পরিবেশে অসুস্থ লোক সুস্থ হতে পারে না। ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার বাম হাত আস্তে আস্তে শক্ত হয়ে যাচ্ছে। বাম হাতের ওজনও বেড়ে গেছে। বাম পা থেকে শুরু করে গোটা বাম দিক পেছনে পর্যন্ত ব্যথা বেড়ে গেছে। এখন সাধারণভাবে হাঁটাচলা করাও তার জন্য মুশকিল হয়ে পড়েছে। দুপুরে ডাক্তাররাও বলেছেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে এক সময় তার প্যারালাইসিসের মতো হয়ে যেতে পারে। ফখরুল বলেন, অবিলম্বে খালেদা জিয়া যে হাসপাতালে যেতে চেয়েছেন, সে হাসপাতালে রেখে বিশেষভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এটা সরকারের দায়িত্ব। এর যদি কোন ব্যত্যয় ঘটে বা কোনও রকমের ক্ষতি হয়, তার দায়-দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। তিনি বলেন, মেডিক্যাল বোর্ডের ডাক্তাররা খালেদা জিয়াকে দেখে যেসব ওষুধ দিয়েছেন, এসব ওষুধে তার ব্যথা কমছে না। সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে খালেদা জিয়া দোয়া ছেয়েছেন।