ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ০৭ অক্টোবর ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯

মালয়েশিয়াকে গোলবন্যায় ভাসাল বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৬:২৩, ৩১ মার্চ ২০১৮

মালয়েশিয়াকে গোলবন্যায় ভাসাল বাংলাদেশ

রুমেল খান ॥ না, দেশ ছাড়ার আগে সঠিক কথা বলে যাননি গোলাম রব্বানী ছোটন, মারিয়া মান্দা এবং আঁখি খাতুন। তিনজনই বলে গিয়েছিলেন অংশগ্রহণকারী চার দলের মধ্যে শক্তির তেমন পার্থক্য নেই। প্রতিটি দলই সমান শক্তিশালী এবং ফেবারিট। বাকি দুটি দলের সঙ্গে যেহেতু এখনও খেলা হয়নি, তাই বলা যাচ্ছে না তাদের কথা সঠিক না বেঠিক। কিন্তু একটি দলেরÑ অর্থাৎ মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে তাদের ধারণা ছিল একেবারেই ভুল। প্রমাণ চান? শুক্রবার হংকংয়ের সিউ সাই ওয়ান স্পোর্টস গ্রাউন্ডে চলমান অ-১৫ নারী ফুটবল আসর ‘জকি ক্লাব গার্লস ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ ইনভাইটেশনাল ফুটবল টুর্নামেন্টে’ নিজেদের প্রথম ম্যাচে খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ ছিল মালয়েশিয়া। পাঠক নিশ্চয়ই ধরেই নিচ্ছেন, ম্যাচে হেরে গেছে বাংলাদেশ, তাই না? উঁহু, মোটেও তা নয়। বাংলাদেশ জিতেছে। আন্দাজ করুন তো কত গোলে? ১০-১ গোলে (ভুল পড়েননি)! ম্যাচের প্রথমার্ধেই ৬-০ গোলে এগিয়ে ছিল তারা। ম্যাচে বাংলাদেশের কোন ফুটবলার হ্যাটট্রিক করেনি। তবে গোল করেছে সাত ফুটবলার! জোড়া গোল করেছে তহুরা খাতুন, শামসুন্নাহার ও আনাই মগিনি। একটি করে গোল করে সাজেদা খাতুন, আনুচিং মগিনি, নিলুফা ইয়াসমিন ও শামসুন্নাহার (জুনিয়র)। তাহলে এখন পাঠকরাই বলুন, এত বিশাল ব্যবধানে জয়ী হওয়া কিংবা প্রতিপক্ষকে শোচনীয়ভাবে হারের স্বাদ উপহার দেয়া বাংলাদেশ দলের কোচ, অধিনায়ক এবং সহ-অধিনায়কের অন্তত একটি প্রতিপক্ষ সম্পর্কে ধারণাটা ভুল ছিল কি না? মধুর এই জয়ে টুর্নামেন্টে (সিঙ্গেল লীগ পদ্ধতিতে খেলা হবে) দুরন্ত সূচনা করলো বেঙ্গল টাইগ্রেস বাহিনী। এক ম্যাচে আপাতত তাদের সংগ্রহ তিন পয়েন্ট। আজ একই ভেন্যুতে সকাল সাড়ে ৯টায় নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে খেলতে নামবে বাংলাদেশ অ-১৫ জাতীয় নারী ফুটবল দল। শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশের জালে... নির্দিষ্ট করে বললে গোলরক্ষক মাহমুদা আক্তারের জালে একটি গোল হয়। এর ফলে টানা চার ম্যাচ এবং পাক্কা ৪১৩ মিনিট পর বাংলাদেশ অ-১৫ দল ও মাহমুদা একটি গোল হজম করলো। গত বছরের ডিসেম্বরে ঢাকার কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে আয়োজিত সাফ অ-১৫ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় স্বাগতিক বাংলাদেশের মেয়েরা। সেবার তারা চার ম্যাচে করে সর্বোচ্চ ১৩ গোল এবং কোন গোল খায়নি। একে একে তারা হারায় নেপালকে ৬-০, ভুটানকে ৩-০, ভারতকে ৩-০ এবং ১-০ গোলে। শুক্রবারের ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে (৫৩ মিনিটে) মালয়েশিয়া এক গোল দিলে ৪১৩ মিনিট ও চার ম্যাচ পর গোল খায় বাংলাদেশ দল। মালয়েশিয়ার জুনিয়র এই দলের বিপক্ষে লাল-সবুজরা কখনই খেলেনি। তবে সিনিয়র টিমের সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। সিঙ্গাপুরে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে মালয়েশিয়া সিনিয়র দলের কাছে ১-২ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এবার বাংলাদেশের জুনিয়র মেয়েরা দেখিয়ে দিল তারা আগামীতে সিনিয়রদের হারাতে পারবে। হংকংয়ে খেলা হচ্ছে ঘাসের মাঠে। কিন্তু ছোটন দেশে দলকে অনুশীলন করিয়েছেন টার্ফে। এর অবশ্য কারণ আছে। বাংলাদেশ যুব গেমস, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান এবং বঙ্গবন্ধু-বঙ্গমাতা স্কুল ফুটবলের ফাইনালের কারণে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুশীলন করতে পারেনি মারিয়ারা। তাছাড়া মাঠে প্রচুর গর্ত হয়ে গিয়েছিল। এ জন্যই ঘাসের মাঠে অনুশীলন করানো সম্ভব হয়নি। এখন মাঠকে অনুশীলনের উপযোগী করতে কিছুটা সময় লাগবে। কিন্তু সেই সময় আর পাননি ছোটন। ফলে বাফুফে আর্টিফিসিয়াল টার্ফেই দলকে অনুশীলন করাতে বাধ্য হন তিনি। তাছাড়া ভয় আরেকটাও ছিল। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে মালয়েশিয়ার অবস্থান ৮০। আর বাংলাদেশ ১০২। অর্থাৎ ২২ ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ। কিন্তু বিপুলভাবে জিতে তারা বুঝিয়ে দিল র‌্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা বা ঘাসের মাঠে অনুশীলনের ঘাটতিÑ এগুলো কোন সমস্যাই নয়। এবার আসা যাক ম্যাচের গোলের প্রসঙ্গে। ১৩ মিনিটে সাজেদা খাতুনের গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। তহুরা ব্যবধান দ্বিগুণ করে ১৮ মিনিটে। দুই মিনিট পরই নিজের দ্বিতীয় গোল করে ‘মেসি’ খ্যাত ময়মনসিংহের মেয়ে তহুরা। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ালো ১৮তে। ফরোয়ার্ড শামসুন্নাহার প্রথমার্ধে দুটি গোল করে ২১ ও ৩৭ মিনিটে। মাঝে ২৪ মিনিটে আনাই মগিনির গোল। বিরতির পর আসে আরও চার গোল। ৪৬ মিনিটে আনুচিং দলের সপ্তম গোল দেয়ার পর ৫৩ মিনিটে মালয়েশিয়া একটি গোল শোধ করে (গোলদাতা জেমিন)। এরপর ৫৫ মিনিটে গোল করে মিডফিল্ডার শামসুন্নাহার। আনাই ৬৮ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করে। দুই মিনিট পর নিলুফার ইয়াসমিন নীলা মালয়েশিয়ার হারের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয়। দেশ ছাড়ার আগে বাংলাদেশ দলের কোচ ছোটন বলে গেছেন- গত ডিসেম্বরে তার দল যেভাবে খেলে সাফ অ-১৫ আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, হংকংয়ে ঠিক সেই খেলাটাই খেলতে পারলেই চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে এবং এ নিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী এবং আশাবাদী। তার লক্ষ্য হলো ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলা। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আলাদা পরিকল্পনা সাজাতে হবে। ম্যাচ বাই ম্যাচ জেতার জন্য নামবেন। সেই লক্ষ্য পূরণের পথে মালয়েশিয়া-বধে প্রথম ধাপটি পেরুনো গেছে। আজ ইরানকে হারাতে পারলে দ্বিতীয় ধাপ অতিক্রম করা যাবে। পারবে কী বাংলার বাঘিনীরা?