মঙ্গলবার ৪ কার্তিক ১৪২৮, ১৯ অক্টোবর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও আমাদের মেট্রোরেল

  • তৌফিক অপু

ও মুই নাইওর আর না যাইম

গাড়িয়াল তোমার গাড়িত চড়ি,

তোমার গাড়ির হাংড়াত বাজি

ছিড়ি গেইল মোর বিয়ার শাড়ি...

ভাওয়াই গানের এ চরণগুলো ছিল এক সময়ে বাংলাদেশের নিত্য দিনের দৃশ্য। গাড়িয়াল কিংবা গাড়িয়ালের বউয়ের খুনসুটি ছিল গরুর গাড়িকে কেন্দ্র করে। শুধু তাই নয় বিয়ের বরযাত্রী থেকে শুরু করে দূরে কোথাও যাওয়া কিংবা মালপত্র বহন করার অন্যতম মাধ্যম ছিল গরু বা মহিষের গাড়ি। খুব বেশি দিন আগের যে চিত্র এটা তাও নয়। নিকট অতীত হাতড়ালেও চোখে ভাসবে দৃশ্যগুলো। হয়ত খোঁজ নিলে এখনও দেখা মিলবে মহিষের গাড়ি, মেঠো পথে ক্যাচ ক্যাচ করে কাঠের চাকার শব্দে এগিয়ে যাচ্ছে ধান বা সরিষা বোঝাই করে। তবে সেটা এখন অনেকটাই দুর্লভ দৃশ্য বটে। বিষয়টা অনেকটা অবাক করার মতোই, নিকট অতীতের যোগাযোগ ব্যবস্থা আর এখনকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সত্যিকারের অর্থেই যেন আকাশ পাতাল তফাৎ। মেঠোপথগুলো আর মেঠো নেই হয়েছে প্রশস্ত পাকা রাস্তা, কাঠের চাকার ছাপের বদলে শো শো করে চলে যাচ্ছে অটোরিক্সা কিংবা মোটরসাইকেল। যে বাইসাইকেল একসময় গ্রাম-গঞ্জের আবাল-বৃদ্ধা-বনিতার অন্যতম বাহন ছিল এখন সেটাও হারিয়ে যাচ্ছে মোটরসাইকেলের দৌরাত্ম্যে। শহর থেকে গ্রাম কিংবা গ্রাম থেকে গঞ্জে এখন যেন চাইলেই ছুটে যাওয়া যায়। প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সঙ্গে সঙ্গে আমূল পরিবর্তন এসেছে যোগাযোগের বাহনগুলোতে। একটা সময় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে অনেক হিসাব-নিকাশ করে পথে পা ফেলতে হতো। আর এখন রাত দিন চব্বিশ ঘণ্টা যখন খুশি মিলবে বাহন, পৌঁছে যাওয়া যাবে গন্তব্যে। এত অল্প সময়ের মধ্যে একটি দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন সত্যিই চোখে পড়ার মতো।

যোগাযোগের উৎকর্ষতায় যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে জীবনগতি তেমনি বেশ কিছু সমস্যারও উদ্রেগ ঘটেছে। গ্রাম থেকে প্রচুর পরিমাণে মানুষ হয়ে পড়েছে শহরমুখী। যার ফলে শহরে বাড়ছে মানুষের চাপ, আর এ চাপ সামলাতে বেড়েছে যানবাহন। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি এবং যানবাহন এ দুয়ে মিলে সৃষ্টি করছে যানজটের। কমিয়ে দিচ্ছে ছুটে চলার গতি। রাজধানী ঢাকার একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যেতে পুরো একটা দিন চলে যায়। অথচ গতিময় জীবনে যা হওয়া উচিত ছিল মাত্র এক ঘণ্টার। অনেকের মতে ছোট্ট এ শহরে তো এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত যেতে এক ঘণ্টারও কম সময় লাগার কথা, অথচ সেখানে লেগে যায় সকাল থেকে সন্ধ্যা। যা সত্যিকার অর্থেই বিরক্তির কারণ। নগরবিদদের মতে, পর্যাপ্ত রাস্তার অপ্রতুলতা, ভাঙ্গা সড়ক, অপ্রশস্ত সড়ক, যেখানে সেখানে পার্কিং, এবং রিক্সার অবাধ যাতায়াত যানজটের অন্যতম কারণ।

ঢাকাকে রিক্সার রাজধানী নামেও পরিচিত। এখানে গড়ে প্রতিদিন চার লক্ষ রিক্সা চলাচল করে। যদিও সরকারী হিসাবমতে মাত্র ৮৫ হাজার রিক্সার নাকি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তবে একটা সুখবর হলো বেশ কিছু বড় রাস্তায় রিক্সা চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তারপরেও কমতি নেই যানজটের। তবে সুখবর হলো যানজট নিরসনে বেশকিছু উদ্যোগ মানুষের মনে প্রশান্তি যুগিয়েছে। এর মধ্যে ফ্লাইওভার, শাটল ট্রেন, মেট্রোরেল, ফোর লেন অন্যতম।

ফ্লাইওভার না দোতলা রাস্তা

যানজটের কথা চিন্তা করে পুরো ঢাকাকে ফ্লাইওভারের আওতায় আনা হয়েছে। নাগরিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্যই এই উদ্যোগ। কিন্তু কোথায় যেন বাজছে বেসুর সুর। প্রতিটি ফ্লাইওভারে গিয়ে দেখা যায় জ্যাম লেগেই আছে তাহলে দ্রুত যোগযোগ স্থাপিত হলো কি করে। এ ব্যাপারে নগরপরিকল্পনাবিদ খোন্দকার এম আনসার হোসেন বলেন, ঢাকাকে যানজন মুক্ত করতে বিভিন্ন জায়গায় বানানো হয়েছে ফ্লাইওভার। জনসংখ্যার আধিক্য এবং পরিবহন চাপের ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়। যা সত্যিকার অর্থেই প্রশংসনীয়। কিন্তু আফসোস থেকে যায় তখন যখন দেখা যায় ফলাফল প্রত্যাশানুরূপ হয় না। অর্থাৎ ফ্লাইওভারগুলো যে সুফল আমাদের দেয়ার কথা তা দিচ্ছে না। তাহলে কি পরিল্পনাতেই ভুল ছিল? আমার দৃষ্টিতে খানিকটা কিন্তু তাই। আর এ ভুলেই হয়তো এ ভোগান্তি। পৃথিবীর যেসব দেশে ফ্লাইওভার আছে খেয়াল করলে দেখা যায়, যেখানে যানজট বেশি সেখান এড়ানোর জন্য ফ্লাইওভার কিংবা ওভারপাসের সৃষ্টি। কিন্তু আমাদের দেশে তা না করে করা হয়েছে দ্বিতল রাস্তা। অর্থাৎ নিচের রুট ম্যাপ কেই উপরে তুলে ধরা হয়েছে। যে কারণে দিতে হচ্ছে সিগন্যাল বাতি, আর ফ্লাইওভার থেকে নামতে হচ্ছে তীব্র যানজট লেগেই আছে। আর নিচের পরিবহন যেগুলো ছিল সেগুলো কিন্তু রয়েই গেছে। অর্থাৎ কিছু ব্যক্তিগত গাড়ি উপরের রাস্তায় উঠানো সক্ষম হয়েছে এছাড়া অন্য কোন কাজে আমাদের ফ্লাইওভারগুলো আসছে না। অনেকেরই হয়ত ধারণা নেই আমাদের মোট ট্রিপ এর মাত্র ৬% ব্যক্তিগত গাড়ি দ্বারা কভার করা হয়। শুধু সেই গাড়িগুলোই ঠাঁই পাচ্ছে উড়াল সড়কে। কিন্তু নিচে ওই ৬% কিন্তু রিক্সা-ভ্যান কিংবা টং দোকান দিয়ে কভার হয়ে যাচ্ছে ফলে কোন জ্যাম কমার চেয়ে বেড়েই চলছে। জ্যামের জায়গা পাস করে যে গাড়িগুলো বের হয়ে যাবে সে ব্যবস্থা কিন্তু হয়নি। বরং ভিন্নরুটের কিছু গাড়ি প্রতিনিয়ত নতুন করে যোগ হচ্ছে ফ্লাইওভারগুলোতে। এ ধরনের কাজে ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানের ভূমিকা থাকে সবচেয়ে বেশি। এরপর ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ার এবং ট্রাফিক পুলিশের কনসাল্ট প্রয়োজন। কিন্তু অতীত রেকর্ড থেকে দেখা যায় ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ার এবং ট্রাফিক পুলিশের মতামতেই সিভিল ও আর্কিটেক্ট ইঞ্জিনিয়ার দ্বারা তৈরি হচ্ছে প্রকল্প। ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার পর্যন্ত যাচ্ছেই না কোন অংশ। হয়ত ছোট ভুল হওয়ার এটাও একটা কারণ। অথচ সরকার প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছে জনগণকে যানজন মুক্ত রাস্তা ঘাট উপহার দিতে। আদতে তা হচ্ছে কই। দোষটা সরকারের ঘারে চাপিয়ে না দিয়ে আঙ্গুলটা আমাদের দিকেও তোলা উচিত। এছাড়াও আরবান প্ল্যানিং কিন্তু এ মুহূর্তে খুব বেশি প্রয়োজন, কিন্তু কাউকে তো মাথা ঘামাতে দেখছি না। যখন প্রত্যেকটি মফস্বল অপরিকল্পিতভাবে বেড়ে ওঠে বিষফোঁড়ার আকার ধারণ করবে তখন হয়ত তাড়াহুড়া করে কিছু করতে দেখা যাবে আমাদের।

প্রসঙ্গ মেট্রোরেল

পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উড়াল সড়কের চাইতে মেট্রোরেল ও বিআরটি প্রকল্পের বেশি সুফল পাবেন সাধারণ মানুষ। তাছাড়া যানজট এড়াতে মেট্রোরেলের কোন বিকল্প নেই। এই প্রকল্পটিই হবে যানজট নিরসনে সবচেয়ে কার্যকর। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে রাজধানীর যানজটের বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। পাশাপাশি স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান (এসটিপি) অনুযায়ী প্রস্তাবিত সব কটি মেট্রোরেল নির্মাণের প্রস্তাব বিশেষজ্ঞদের।

রাজধানীর উত্তরায় দিয়াবাড়ি খালের দুই পাশে বিশাল জমি। এখন পর্যন্ত এই এলাকায় স্থাপনা বলতে খালের ওপর একটি সেতু মাত্র। এর উত্তর পাশে কয়েকদিন ধরে জোরেশোরে চলছে নির্মাণ কাজ। খালের দু’পাশে মাটি ভরাটের পর সমান করা হচ্ছে। কারণ, এখানেই হবে মেট্রোরেলের ডিপো। এখান থেকেই ২০১৯ সালে চলবে দেশের প্রথম মেট্রোরেল। মাত্র ৩৭ মিনিটে পৌঁছা যাবে উত্তরা থেকে মতিঝিল। উত্তরা থেকে মতিঝিলের শাপলা চত্বর পর্যন্ত ২০ কিমি দীর্ঘ মেট্রোরেলের-৬ রুটের নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রকল্পের সহায়তা হিসেবে জাইকা দেবে প্রায় ১৬ হাজার ৬শ’ কোটি টাকা। সম্পূর্ণ এলিভেটেড রুটের মেট্রোরেলের ১৬টি স্টেশন থাকবে। প্রতিঘণ্টায় উভয়দিক থেকে ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা থাকবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মেট্রোরেল রুট-৬ এর পাশাপাশি আরও দুটি রুট নির্মাণের প্রস্তুতিও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এর মধ্যে মেট্রোরেল রুট-১ (এমআরটি-১) হচ্ছে গাজীপুর থেকে ঝিলমিল প্রকল্প পর্যন্ত ৪২ কিমি দীর্ঘ। প্রথম পর্যায়ে এয়ারপোর্ট থেকে কমলাপুর এবং খিলক্ষেত হতে পূর্বাচল পর্যন্ত প্রায় ২৭ কিলোমিটারের কাজ করা হবে। এর মধ্যে প্রায় ১০ কিমি হবে আন্ডারগ্রাউন্ড।

রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেলের অবকাঠামো নির্মাণকাজ ( গ্রাউন্ড ব্রেকিং) শুরু হবে মার্চের শেষের দিকে। ২০১৯ সালে প্রকল্পের কাজ আংশিক সম্পন্ন হবে। আর ২০২১ সালে ঢাকাবাসী মেট্রোরেলে চড়ার সুযোগ পাবে।

কেমন হবে এই রেল? কী কী সুবিধা থাকছে এতে?

কামরাগুলো কেমন হবে?

মেট্রোরেলের প্রতিটি কামরা হবে সুপরিসর। সেখানে যাত্রীদের জন্য থাকবে আরামদায়ক আসন। প্রতিটি কামরা হবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত।

ট্রেন কতক্ষণ পর থামবে?

ট্রেনে ওঠা-নামার সুবিধার্থে প্রতিটি স্টেশনে থাকবে সুপরিসর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে সাড়ে তিন মিনিট পরপর ট্রেন এসে দাঁড়াবে।

ভাড়া আদায় করা হবে কীভাবে?

মেট্রোরেল ব্যবস্থায় যাত্রীদের সুবিধার্থে স্টেশনে প্রবেশের সময় মেশিনে ভাড়া সংগ্রহ করা হবে। স্বয়ংক্রিয় কার্ডের মাধ্যমে ভাড়া পরিশোধ করবেন যাত্রীরা।

ঘণ্টায় কত যাত্রী বহন করবে?

ঘণ্টায় ঢাকার দুই প্রান্তের ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহনে সক্ষম হবে এই ট্রেন। যাত্রাপথে উত্তরা নর্থ, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা সাউথ, পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, টিএসসি, প্রেসক্লাব হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করবে।

রাস্তার কোন্ পাশে হবে লাইন?

মূল রাস্তার মাঝ বরাবর মেট্রো রেলের রাস্তা নির্মিত হবে। যানজটে যাতে না হয়, সেভাবেই রাস্তা তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রায় এক কোটি ৪৫ লাখ লোকের বসবাস রাজধানী শহর ঢাকায়। বিপুল এ লোকজনের শহরে যানজট নিরসনে কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা তথা স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান নিয়েছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)।

এ পরিবহন পরিকল্পনার আওতায় ডিটিসিএর তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ সরকার ও জাইকার অর্থায়নে মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে।

ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রথমবারের মতো যুক্ত হতে যাচ্ছে মেট্রোরেল ব্যবস্থা। ২০.১ কিলোমিটারব্যাপী একটি মেট্রো রেল প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জাপান সরকারের দাতা সংস্থা জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকার সঙ্গে এক ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশের সরকার।

২০২১ সাল নাগাদ মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ শেষ হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নির্মাণকাজ শেষ হবার পর এটি ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও যানজট নিরসনে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

জাইকার সঙ্গে এই চুক্তির মধ্য দিয়ে কার্যত শুরু হল বহুল আলোচিত মেট্রোরেল স্থাপনের কার্যক্রম।

প্রায় ২২,০০০ কোটি টাকার এই প্রকল্প দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প।

চুক্তি অনুযায়ী, জাইকা প্রকল্পের ৮৫ শতাংশ ব্যয় অর্থাৎ ১৬ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা দেবে কয়েক ধাপে। এর মধ্যে প্রথমধাপে জাইকার কাছ থেকে পাওয়া যাবে ১০১৮ কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আযম, জানিয়েছেন যে জাইকার কাছ থেকে প্রথম ধাপে পাওয়া অর্থ মূলত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে ব্যয় করা হবে।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বিস্তারিত ডিজাইন ও পরিকল্পনার কাজটি করবে। আগামী জুনের মধ্যেই আশা করা যায় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ চূড়ান্ত করা যাবে। এরপরে আরেকটি চুক্তির মাধ্যমে প্রকল্পের মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টেদর মতে ২০.১ কিলোমিটারব্যপী এই রেলপথে ১৬টি স্টেশন থাকবে।

বলা হচ্ছে, ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকার যোগাযোগব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও যানজট নিরসনে মেট্রোরেল ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিশেষজ্ঞদের মতে ঢাকার বিপুলসংখ্যক যাত্রী ও যানবাহনের চাপ সামলাতে মেট্রোরেলের মত গণপরিবহনই হতে পারে একটি কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা।

মেট্রোরেল প্রতি ঘণ্টায় ৬০,০০০ যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। ফলে মেট্রোরেল স্থাপিত হলে রাস্তায় যাত্রী এবং পরিবহন উভয়ের ওপরই চাপ কমবে।

পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হবার পর মোট ২৮ জোড়া মেট্রোরেল চলাচল করবে রাজধানীতে। রাস্তার মাঝ বরাবর উপর দিয়ে উত্তরা থেকে শুরু হয়ে মিরপুর-ফার্মগেট হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত যাবে এই মেট্রোরেল। প্রতি মেট্রোরেলে ৬টি কোচ থাকবে। প্রতি স্কয়ার মিটারে ৮ জনের হিসাবে ব্যস্ততম সময়ে ১ হাজার ৮০০ যাত্রী চলাচল করতে পারবে। মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা লাগবে, যার ১৬ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকাই দেবে জাইকা। বাকি ৫ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা যোগাবে সরকার। তবে এ সুবিধার যাত্রা শুরু হতে আরও অপেক্ষা করতে হবে দুই বছরের বেশি সময়। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের একটি অংশের যাত্রা শুরুর কথা রয়েছে।

মেট্রোরেলের কিছু থেকে যাওয়া কথা

ঢাকা শহরের যানজন দূরীকরণে মেট্রোরেলের উদ্যোগ সত্যিকার অর্থেই যুগান্তকারী এক পদক্ষেপ। যোগাযোগ ব্যবস্থার যত উন্নতী ঘটবে ততই এগিয়ে যাবে দেশ। অথচ এই যোগযোগই আমাদের পিছিয়ে দিচ্ছে বহুগুণে। শুধুমাত্র রাস্তায় প্রতিদিন গুরুত্বপণর্ন কর্মঘন্টা নষ্ট হচ্ছে। সেসব সমস্য নিরসনে মেট্রোরেল আশীর্বাদ হয়ে হয়ত ধরা দেবে। এটাই এখন পর্যন্ত প্রত্যাশা সবার। কিন্তু ঘটনাটা যদি ঢাকার ফ্লাইওভারগুলোর মতো হয় তাহলে কিন্তু দুঃখের শেষ থাকবে না। দুর্ভোগ বেড়ে যাবে বহুগুণে। আর খরচের সঙ্গে যদি আয়ের সঙ্গতি না থাকে তাহলে হয়ত দেশের ঘারে ঋণের বোঝা বাড়বে বই কমবে না। ধরা যাক উত্তরা থেকে মতিঝিল যাতায়াতের কমন একটি জায়গা পড়বে ফার্মগেট। যেহেতু নির্দিষ্ট রুট অনেকেই এই মুহূর্তে মেট্রোরেলের সেবা নিবে না। কারণ তার কর্মস্থল কিংবা বাসা সেখানে নয়। তারপরেও কম করে হলেও ২০০ লোক উঠবে এবং ২০০ লোক নামবে মেট্রোরেল স্টেশনে। কিছু সময়ের জন্য এই বাড়তি ৪০০ লোকের দাড়ানো কিংবা চলাচলের পর্যাপ্ত জায়গা তৈরি করা আছে কি না? আর মেট্রো রেলের স্টেশনগুলো যদি কাঙ্খিত জায়গা থেকে দূরে হয়ে যায় সে ক্ষেত্রেও যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ বোধ করবে না। সমীক্ষায় দেখা গেছে মেট্রোরেল প্রতিদিনের ট্রিপের ১০% কভার করবে। মেট্রো আর নন মেট্রো মিলিয়ে ৩৩% ট্রিপ কভার করলেও বাকি ৬৭% এর জন্য কি কি উদ্যোগ নেয়া হবে সেটাও কিন্তু এখন থেকেই ভাবা দরকার। কারণ মেট্রো স্টেশন দূরে থাকলে যাত্রী স্টেশন থেকে বের হয়েই গন্তব্যে যাওয়ার জন্য কিছু না কিছু খুঁজবে। সেসব বাহণ স্টেশন ভেদে বৃদ্ধি করা এবং পার্কিং ব্যবস্থা তৈরি করার প্লানিংটাও এই প্রকল্পে আওতায় থাকা উচিত। তা না হলে পুরো প্রকল্পটা দেখতে অনেকটা মাকাল ফলের মতো মনে হবে। যেমন টা আমাদের কিছু অপ্রয়োজনীয় জায়গার ফুটওভারব্রিজ ও আন্ডারপাস রয়েছে।

সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব। যার ফলে কোনভাবেই আমাদেরও পিছিয়ে থাকার অবকাশ নেই। উন্নত বিশ্বের মতো ঢাকার বাইরের জেলাগুলোর সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন করার জন্য বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি), কয়েক লেন বিশিষ্ট রাস্তার মতো উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কর্মঘণ্টা যেন রাস্তায় শেষ না হয়ে যায় সে ব্যাপারে কাজ চলছে যা একটি দেশের জন্য ইতিবাচক। তারপরেও উদ্যোগগুলোর কোথায় যেন সৌন্দর্যহানি। দেখার বিষয় সর্ষের ভিতর ভূত আছে কি না? সচেতন হতে হবে নিজেদেরও, চলাচলে নিজেদেরও সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। প্রত্যাশা রইল স্বপ্নের মেট্রোরেল যেন সত্যিকারের অর্থেই যুগান্তকারী এক যোগাযোগ ব্যবস্থা হিসেবে ধরা দেয় আমাদের সামনে।

শীর্ষ সংবাদ:
পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ আফগানিস্তান দূত খলিলজাদ         ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মেয়র আতিকের বিরুদ্ধে মামলা         অস্ট্রেলিয়া-নিউ জিল্যান্ডের দারুণ লড়াই         তাসনিম ও সামিসহ ৪ জনের সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ         নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই জন নিহত         বৃষ্টি থাকবে আরও দুই দিন         সেন্টমার্টিনে আটকে থাকা পর্যটকরা টেকনাফে ফিরছেন         মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৪৭         উত্তর কোরিয়া আবারও ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করেছে         সাম্প্রদায়িক হামলা ॥ সারাদেশে ৭১ মামলা, গ্রেফতার ৪৫০         নাইজেরিয়ার বন্দুকধারীদের গুলিতে ৪৩ জন নিহত         গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় মারা গেছেন ৪ হাজার ৬৬৮ জন         আর হত্যা ক্যু নয় ॥ দেশবাসীকে ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান         বাংলাদেশের টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ         কুমিল্লা ও রংপুরের ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা         সাম্প্রদায়িক হামলা ॥ উস্কানিদাতাদের খুঁজছে পুলিশ         সাম্প্রদায়িক হামলার বিচার দাবিতে আল্টিমেটাম         পিছিয়ে পড়া চুয়াডাঙ্গা এখন উন্নয়নের মহাসড়কে         ইভ্যালি পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণে পাঁচ সদস্যের বোর্ড গঠন         শেখ রাসেল একটি আদর্শ ও ভালবাসার নাম