বৃহস্পতিবার ২৫ আষাঢ় ১৪২৭, ০৯ জুলাই ২০২০ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

সাদ্দামের ফাঁসির সময়ে কেঁদেছিলেন যে মার্কিন সেনারা

সাদ্দামের ফাঁসির সময়ে কেঁদেছিলেন যে মার্কিন সেনারা

অনলাইন ডেস্ক ॥ ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দান হোসেন মার্কিন বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার এক বছর পর ২০০৪ সালের জুন মাসে তাকে বিচারের জন্য দেশটির অন্তবর্তী সরকারের কাছে তুলে দেয়া হয়। জীবনের শেষ দিনগুলোতে এ সময় তাকে পাহারা দিয়েছিলেন ১২ জন মার্কিন সেনা। যারা সাদ্দাম হোসেনের ফাঁসির সময় কেঁদেছিলেন। এমনকি এদের একজন পরে চাকরি থেকে ইস্তফা দেন।

গ্রেফতার হওয়ার আগে তারা সাদ্দাম হোসেনের 'বন্ধু' না থাকলেও ওই ১২ জন আমেরিকান সৈন্য সাদ্দামের শেষ সময়ের বন্ধু হয়ে উঠেছিলেন। আক্ষরিক অর্থেই শেষ মুহূর্ত অবধি তাঁরাই ছিলেন সাদ্দামের সঙ্গে। মার্কিন ৫৫১ নম্বর মিলিটারি পুলিশ কোম্পানির ওই ১২ জন সেনাসদস্যকে 'সুপার টুয়েলভ' বলে ডাকা হতো।

তাঁদেরই একজন, উইল বার্ডেনওয়ার্পার একটি বই লিখেছেন, 'দা প্রিজনার ইন হিজ প্যালেস, হিজ অ্যামেরিকান গার্ডস, অ্যান্ড হোয়াট হিস্ট্রি লেফট আনসেইড' নামে। বাংলা করলে বইটির নাম হতে পারে 'নিজের প্রাসাদেই এক বন্দী, তাঁর আমেরিকান প্রহরী - ইতিহাস যে কথা বলেনি'। সেই বইটি নিয়ে বিবিসি হিন্দি সংস্করণের জন্য সেই সময়ের দিকে ফিরে তাঁকিয়েছেন রেহান ফজল। পরে বিবিসি বাংলায় সেটা প্রকাশ করা হয়। সেখানেই এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বার্ডেনওয়ার্পার স্বীকার করেছেন যে তাঁরা যখন সাদ্দাম হোসেনকে জল্লাদদের হাতে তুলে দিলেন ফাঁসির জন্য, তখন তাঁদের ১২ জনেরই চোখে পানি এসে গিয়েছিল। প্রহরীদেরই একজন, অ্যাডাম রজারসন উইল বার্ডেনওয়ার্পারকে বলেছিলেন, "সাদ্দামের ফাঁসি হয়ে যাওয়ার পরে আমার মনে হচ্ছে আমরা ওর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছি। নিজেদেরই এখন তার হত্যাকারী বলে মনে হচ্ছে। এমন একজনকে মেরে ফেললাম আমরা, তিনি যেন আমাদের খুব আপনজন ছিলেন। "

সাদ্দামের ফাঁসির পরে যখন তাঁর মরদেহ বাইরে নিয়ে আসা হয়েছিল, তখন সেখানে জমা হওয়া লোকজন মৃতদেহের ওপরে থুতু ছিটিয়েছিল। ওই ঘটনা দেখে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল আমেরিকান সেনারা। বার্ডেনওয়ার্পার লিখছেন, ওই নোংরামি দেখে হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন তারা সকলে, বিশেষ করে যে ১২ জন তাঁর শেষ সময়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।

তাদেরই মধ্যে একজন ওখানে জমা হওয়া লোকজনের কাছে হাত জোড় করে তাদের থামাতে চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু দলের বাকিরা তাকে টেনে সরিয়ে নেয়। ওই ১২ জনের অন্যতম স্টিভ হাচিনসন সাদ্দামের ফাঁসির পরেই আমেরিকার সেনাবাহিনী থেকে ইস্তফা দেন।

২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঈদুল আযহার দিনে সাদ্দাম হোসেনের ফাঁসি কার্যকর করা। এর আগে, ভোর রাত তিনটার দিকে তাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলা হয়েছিল। তাঁকে জানানো হয়েছিল যে কিছুক্ষণের মধ্যেই ফাঁসি দেওয়া হবে। এই কথাটা শোনার পরে সাদ্দামের ভেতরের সব বিশ্বাস ভেঙ্গে পড়েছিল। তিনি চুপচাপ গোসল করে ফাঁসির জন্য তৈরি হয়ে নিয়েছিলেন।

বইটিতে আরও লেখা হয়েছে, জীবনের শেষ সময়েও তাঁর একটা ভাবনা ছিল। জানতে চেয়েছিলেন, 'সুপার টুয়েলভের সদস্যরাও কি ঘুমোচ্ছে?' ফাঁসির কয়েক মিনিট আগে স্টিভ হাচিনসনকে কারাকক্ষের বাইরে ডেকে পাঠান সাদ্দাম হোসেন। লোহার শিকগুলোর মধ্যে দিয়ে হাতটা বের করে নিজের রেমন্ড ওয়েইল হাতঘড়িটা দিয়ে দেন স্টিভকে। হাচিনসন আপত্তি করেছিলেন। তবে সাদ্দাম কিছুটা জোর করেই ঘড়িটা স্টিভের হাতে পরিয়ে দেন। জর্জিয়ায় হাচিনসনের বাড়ির একটা সিন্দুকে রাখা ঘড়িটা এখনও টিক টিক করে চলেছে।

করোনাভাইরাস আপডেট
বিশ্বব্যাপী
বাংলাদেশ
আক্রান্ত
১১৭৬১০৭৩
আক্রান্ত
১৭২১৩৪
সুস্থ
৬৭৫৫৩২৪
সুস্থ
৮০৮৩৮
শীর্ষ সংবাদ:
রিজেন্টের অনিয়ম খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নিয়েছি         চিকিৎসা প্রতারক সাহেদের উত্থান বিস্ময়কর         সরকার কঠোর ॥ স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী নিয়ে দুর্নীতি         করোনা সঙ্কট উত্তরণে এখনই জোরালো বৈশ্বিক সাড়া দরকার         করোনায় আরও ৪৬ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৩৪৮৯         স্বাস্থ্যবিধি না মানার হতাশাজনক চিত্র         আসুন মনের মাঝেই দৃঢ়তার দুর্গ নির্মাণ করি         বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, তবে ভোগান্তি কমছে না         আমরা পেছনে নয়, সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই         পাহাড়জুড়ে শঙ্কা, যে কোন সময় প্রতিশোধ!         সিটি কর্পোরেশন গরু জবাইয়ের দায়িত্বে         সঙ্কটকালে তরুণরাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে         বিএনপির নিষ্ক্রিয় নেতাদের কালো তালিকা         চট্টগ্রামে করোনায় মৃত্যু ২শ’ ছাড়াল, নতুন আক্রান্ত ২৯৫         ভার্চুয়াল ডিভিশন হাইকোর্ট বেঞ্চ চালুর সিদ্ধান্ত         রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর শাখা সিলগালা         কোরবানি ঈদে বর্ধিত বোনাস সরকারী চাকরিজীবিদের         পোশাক শ্রমিকদের ৮৪ কোটি টাকা প্রদান         স্মার্ট মিটার থাকলে বিল নিয়ে সমস্যা হতো না : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী         গবর্নরের মেয়াদ বাড়াতে সংসদে বিল        
//--BID Records