ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২০ আগস্ট ২০২২, ৫ ভাদ্র ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

অবশেষে একাত্তরের শিশুর ঠাঁই হলো বৃদ্ধাশ্রমে

প্রকাশিত: ০৬:১৭, ১৬ মে ২০১৭

অবশেষে একাত্তরের শিশুর ঠাঁই হলো বৃদ্ধাশ্রমে

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ স্বাধীনতার পর ৪৬ বছর মা-বাবাকে খুঁজে ফেরা সেই নারীর আশ্রয় মিলেছে বৃদ্ধাশ্রমে। মুক্তিযুদ্ধের সময় যে শিশুটির বয়স ছিল এক বছর। আজ তিনি ৪৭ বছরের নারী। কখনও সরস্বতী, কখনও সুফিয়া নামে পরিচিত এই নারী মা-বাবা বা আপনজনের ঠিকানা না পেয়ে ঠাঁই নিয়েছেন বৃদ্ধাশ্রমে। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নেতৃবৃন্দ রবিবার বিকেলে রোটারি কেনায়েত আলী ও আনোয়ারা বেগম ওল্ড হোমে তাকে পুনর্বাসন করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বৃহত্তর যশোরের বারোবাজারের রেললাইনের পাশে হাগড়াবনের মধ্যে কাঁদছিল ১২ মাস বয়সী শিশু। এলাকার বাদেডিহি গ্রামের চায়ের দোকানদার বানছারাম পালের হৃদয় কেঁদেছিল শিশুটির কান্নায়। তিনি উদ্ধার করে বাড়ি এনে নিজের ধর্মের হিসেবে নাম রেখেছিলেন সরস্বতী। দেশ স্বাধীন হলে বানছারাম পাল তার বোন যশোদা রানীর কোলে তুলে দেন সরস্বতীকে। তিনি পাঁচ বছর লালন পালন করেন। সরস্বতী মা বলে ডাকতেন যশোদাকে। কিন্তু অভাবের সংসার হওয়ায় বানছারাম-যশোদারা শেষ পর্যন্ত সরস্বতীকে নিজেদের ঘরে রাখেননি। তারা প্রতিবেশী ইদু জোয়াদ্দারের স্ত্রী আছিয়াকে দিয়ে দেন। এরপর সরস্বতী সুফিয়া। এই পরিবারেও পাঁচ বছরের মতো ছিলেন সুফিয়া। এরপর বারোবাজারের রফিউদ্দিন মুন্সির বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতে থাকেন। ২০ বছর বয়সে তিনি নিজেকে জানতে শিখলে মা-বাবার সন্ধান ও আপনজনদের খুঁজতে থাকেন। কিন্তু কে তার মা-বাবা কী তার বংশ পরিচয় কিছুই জানতে পারেননি আজও। একপর্যায়ে সুফিয়া বারোবাজারের ডা. তাহেরের বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানে কিছুদিন থাকার পর একই এলাকার মিঠাপুকুর গ্রামের মোশাররফ হোসেনের বাড়িতে আশ্রয় নেন। এখানে থেকে আপনজনদের খোঁজ করতে করতে হাঁপিয়ে ওঠেন। এখন তার শরীরে বয়সের ছাপ পড়েছে। স্থায়ী ঠিকানার বিকল্প নেই। এ প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেই এগিয়ে আসে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। কমিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহরিয়ার কবির গত ৭ মে যশোর এলে তাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। এরই অংশ হিসেবে এই নারীকে বৃদ্ধাশ্রমে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।