ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

মতামত

বাংলার বৈশাখ

প্রকাশিত: ০৭:০৬, ২২ এপ্রিল ২০১৭

বাংলার বৈশাখ

সেই কবে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন- ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো।’ বৈশাখকে ডাকতে না ডাকতেই এসে কিছুদিন গতও হয়ে গেল। তাই বলে বৈশাখ কিন্তু এখনও ইতিহাস হয়ে যায়নি। পহেলা বৈশাখের উৎসব ও কর্মকা-ের ইতিহাস আমরা কম বেশি সকলেই জানি, তবুও বলছি। বাংলার শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্যতম সম্রাট আকবর এই দিনটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তদুপরি তিনি বৈশাখের ১ তারিখকে বছরের প্রথম দিন হিসেবে ঘোষণা করেন এবং বাংলা সনের প্রচলন করেন। সম্রাট আকবর ফসল তোলার সময়কে সমন্বয় করে নতুন বাংলা সনের সূচনা করেন। যেন কৃষকের খাজনা দিতে অসুবিধা না হয়। সেই থেকেই বাংলার বুকে ‘পহেলা বৈশাখ’ এক প্রধান জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়। বাঙালী বলতে সকলেই এই দিনটির প্রতি আসক্ত। তবে পহেলা বৈশাখের প্রধান একটি উপলক্ষ হলো হালখাতা। অর্থাৎ ব্যবসায়ীরা তাদের বকেয়া আদায়ের লক্ষ্যে জমা খরচের নতুন খাতা ব্যবহার করবে। কৃষি প্রধান এই বঙ্গদেশে ইংরেজী বা হিজরী সালের গণনা কিছুটা সমস্যাযুক্ত। এজন্যই বাংলা সনের প্রচলনও বেশি। কালের পরিক্রমায় উদযাপন পর্ষদের পরিবর্তন আসলেও উৎসব পালনে তেমন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় না। প্রভাতে ছায়ানটের অনুষ্ঠানসহ মঙ্গল শোভাযাত্রা, অনেকের পান্তা-ইলিশ উৎসব, লাল-সাদা মিশ্রিত দম্পতি অথবা কপোত-কপোতী। সন্ধ্যায় বাঙালীর সমৃদ্ধ সংস্কৃতির নানান উপজীব্য, একে একে হাজির হবে পুঁথি পাঠ, নাচ-গান, নাটক-যাত্রা ও বাদ্য-বাজনা। আরও রয়েছে বৈশাখী মেলা ও বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান। অনেক কিছুর মধ্যে মেলা বেশ জনপ্রিয়। যেথায় পুতুল নাচ, নাগরদোলা, হরেক রকম মুড়ি-মুড়কি ও বানিয়ার পসড়া সাজানো থাকে। এরপর চলে নতুন কাপড় পরিধান করে মিষ্টি সহযোগে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়ানো। এতে করে সকলের মধ্যে আত্বিক সম্পর্কের উন্নতি হয়। এই সময়ে তারা একে অপরকে উপহার দিয়ে থাকেন। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সারাদেশে এবং বিদেশে বসবাসরত সকল বাঙালী বিশেষ বিশেষ খাবারের আয়োজন করে থাকে। পিঠা, পায়েস, মিষ্টি, সন্দেশ থাকলেও আজকাল পান্তা-ইলিশ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই পান্তা-ইলিশ সংস্কৃতি ঠিক কোন সময়ে বাঙালীর পহেলা বৈশাখে স্থান করে নিল, তা সঠিকভাবে বলা যায় না। শুধু এইটুকুই বলতে চাই- আজ হতে পাঁচ দশক পূর্বেও দেশে একান্নবর্তী পরিবারের সংখ্যা বেশি ছিল। যার ফলে প্রতিটি পরিবারে খাদ্যের চাহিদা ভালভাবে পূরণে ভাত একটু বেশিই রান্না হতো। রাত শেষে তার কিছু অংশ পান্তা হয়ে যেত। আর কিছু মাছের তরকারিও থেকেই যেত। ব্যাস, এ থেকেই সকাল বেলা পান্তা-উৎসব! আজকাল অবশ্য একক পরিবার বেশি হওয়ায়, মাথা হিসাব করেই গৃহিণীরা ভাত রান্না করে থাকেন। তাই সকাল বেলা ভাত পান্তা হওয়ার সুযোগ নেই। এই কারণেই হয়ত আমরা বাঙালী আজ উৎসব করে পান্তা-ইলিশ খাই। প্রবাসী ভাই-বোনদের জন্য উড়োজাহাজে করে মাওয়া ঘাটের তাজা ইলিশ পাঠাই। এভাবেই চলে যায় বাঙালী ও বাংলার পহেলা বৈশাখ। বাসুদেব হালদার রাউজান, চট্টগ্রাম