ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

প্রিন্স হেনরি স্নাল

ইভটিজিংয়ের ভাষা

প্রকাশিত: ০৪:০৩, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬

ইভটিজিংয়ের  ভাষা

কিছুদিন কালাচাঁদপুর থেকে বনানী ফিরছিলাম। বনানী পার্কের পশ্চিম প্রবেশদ্বারে শিক্ষিত ও স্মার্ট দেখতে কিছু যুবককে দেখলাম আড্ডা দিতে একটি চা স্টলে। হঠাৎ চোখে পড়ল উল্টো দিক থেকে কিছু আদিবাসী তরুণী আসছে। একটু পরে সেই বসে থাকা যুবকদের মধ্য থেকে কিছু শব্দ আমার কানে ভেসে এলো। প্রথমে বুঝতে পারিনি। যখন ভালমতো খেয়াল করলাম তখন বুঝতে পারলাম যুবকগুলো আদিবাসী ভাষায় কিছু শব্দ এবং বাক্যাংশ আওড়াচ্ছে। অথচ তারা আদিবাসী নয়, বাঙালী যুবক। তারা যে সব শব্দ এবং বাক্যাংশগুলো আওড়াচ্ছিল সেগুলো কোনমতেই কোন সভ্য এবং শিক্ষিত ব্যক্তির মুখ থেকে আসতে পারে না। এটাও বুঝতে পারলাম তারা ওই মেয়েদের লক্ষ্য করেই কথাগুলো বলছে। ঘটনার আকস্মিকতায়, ইভটিজিংয়ের অভিনবত্ব এবং ইভটিজিংকারীদের অভিনব কৌশল দেখে অবাক হলাম। কেননা তারা যাদের ইভটিজিং করছে তারাই শুধু বুঝতে সক্ষম হচ্ছে যে কিছু নোংরা কথা দিয়ে তাদের ইভটিজিং ও নোংরা প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে তারা যে ইভটিজিং করছে সেটা কিন্তু সবাই বুঝতেও পারছে না, কারণ সেখানে উপস্থিত সবাই সে আদিবাসী ভাষা জানে না। তাই তারা ইভটিজিংয়ের দায়ে কোন প্রকার শাস্তি পাওয়ার বিপদ থেকে মুক্ত। আর তাদের যে উদ্দেশ্য- কিছু নোংরা কথা বলা, নোংরা বাক্যাংশে বিকৃত মনের খোরাক মেটানো- তা পূরণ তো হচ্ছেই সেই সঙ্গে তারা ওই আদিবাসী মেয়েদের যেমন অপমান করতে সক্ষম হচ্ছে তেমনি সমস্ত নারী জাতিকে অপমান করছে। ভাষা কখনো মন্দ হতে পারে না। হোক সে বাংলা অথবা আদিবাসী কোন কথ্য ভাষা। পৃথিবীতে কোথাও এমন নজির নেই যে শুধু ভাষার জন্য মানুষ প্রাণ দিয়েছে। শুধু আমরাই জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে মিলে বাংলা ভাষাকে রক্ষার জন্য প্রাণ দিয়েছি। পৃথিবীতে অনন্য সম্মানের স্থানে নিয়ে যেতে পেরেছি। ভাষার যদি এত গুরুত্ব থাকে এবং নিজের ভাষাকে যদি এত সম্মান করতে পারি তবে অন্যান্য ভাষাকে অবশ্যই আমাদের সম্মান এবং শ্রদ্ধা করতে হবে। সেই সঙ্গে ভাষার ব্যবহার হবে গঠনমূলক কাজের জন্য; কাউকে অসম্মান অথবা ইভটিজিংয়ের জন্য যে কোন ভাষার বিকৃত ব্যবহার কখনই কাম্য নয়। অন্যদিকে উল্লিখিত যুবকগুলোর ওই আদিবাসী ভাষা জানার কথা নয় যদি না কেউ তাদের তা শেখায়। অর্থাৎ এটা স্পষ্ট যে, ওই আদিবাসী গোষ্ঠীর কেউ না কেউ তাদের ভাষার ভাল শব্দ না শিখিয়ে বিকৃত শব্দগুলো শিখিয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো, আমরা যারা আদিবাসী, আমরাই যদি কাউকে ভাষা শেখাতে গিয়ে গঠনমূলক ভাষা না শিখিয়ে শুধু নোংরা ভাষাই শেখাই তাহলে ভাষার প্রতি এবং জাতির প্রতি আমাদের আর কি সম্মান ও শ্রদ্ধা রইল? ঘোষগাঁও, ময়মনসিংহ থেকে
ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২২
ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২২