ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২, ২১ আশ্বিন ১৪২৯

‘উন্নয়ন যদি দেখতে চাও আযীযুল হক কলেজে যাও’

প্রকাশিত: ০৪:১৭, ২৭ আগস্ট ২০১৬

‘উন্নয়ন যদি দেখতে চাও আযীযুল হক কলেজে যাও’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ইচ্ছা ছিল দেশের যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জমি আছে শিক্ষার্থীরা তা লিজ নিয়ে চাষাবাদ করে ফসল ফলিয়ে লেখাপড়ার খরচ চালাবে। এই উৎসাহ তিনি পেয়েছিলেন ১৯৭৩ সালে বগুড়া সরকারী আযীযুল হক কলেজের স্বনির্ভর সংস্থার সফল কর্মসূচী দেখে। বঙ্গবন্ধু তাঁর অনেক বক্তৃতায় সরকারী আযীযুল হক কলেজের উদাহরণ টেনে বলেন ‘উন্নয়ন যদি দেখতে চাও বগুড়া আযীযুল হক কলেজে যাও...’। মালয়েশিয়ায় ৭৭ জাতি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু এশিয়ার যুব সমাজের প্রতীক হিসেবে বগুড়া সরকারী আযীযুল হক কলেজের শিক্ষার্থীদের কথা উল্লেখ করেন। বগুড়ার এই সফল কর্মসূচীকে সামনে রেখে কুমিল্লার বার্ডের মতো বগুড়ায় প্রতিষ্ঠা করেন রুরাল ডেভেলপমেন্ট একাডেমি (আরডিএ)। বঙ্গবন্ধুর এইসব ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন বগুড়া সরকারী আযীযুল হক কলেজের সাবেক অধ্যাপক আব্দুর রউফ। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর সদ্য স্বাধীন দেশে বঙ্গবন্ধু যখন দেশ পুনর্গঠনে দিন রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন তখন বগুড়া সরকারী আযীযুল কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম (প্রয়াত) ও ওই সময়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের তরুণ লেকচারার আব্দুর রউফ গঠন করেন ‘স্বনির্ভর সংস্থা’। কলেজের ১১২ বিঘা জমিকে ফেলে না রেখে চাষাবাদের পরিকল্পনা করেন। ওই সময়ে বঙ্গবন্ধুর সবুজ বিপ্লব কর্মসূচী চলছিল। কলেজের লেকচারার আব্দুর রউফ ও অধ্যক্ষ কে এম সিরাজুল ইসলাম সিদ্ধান্ত নেন যেসব শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে এবং হলে থাকে তারা জমি লিজ নিয়ে ফসলের আবাদ করবে। উৎপাদিত ফসল বিক্রির একাংশ কলেজের উন্নয়ন ফান্ডে জমা দিয়ে বাকি অর্থে লেখাপড়ার খরচ চালাবে। উৎপাদিত এই ফসলের কিছু অংশ হলের ডাইনিংয়ে যাবে। ভাত শাক সবজি খেতে কোন অর্থ দিতে হবে না। নারী শিক্ষার্থীরা ফসলের মাঠে কাজ করে ও উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে যে অর্থ পাবে তা দিয়ে সেলাই মেশিন কিনে জামা কাপড় বানিয়ে বিক্রি করবে। এই খবর পৌঁছে যায় সরকারের ওপর মহলে। ওই সময়ে কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক ছাত্রলীগ নেতা ফেরদৌস জামান মুকুল (প্রয়াত) এই কর্মসূচীতে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৭৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ২৫ থেকে ২৭ তারিখ পর্যন্ত ইতিহাসের প্রথম কৃষক সম্মেলন হয় সরকারী আযীযুল হক কলেজ চত্বরে। প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ। বগুড়া সরকারী আযীযুল হক কলেজের সাফল্যের এই খবরটি প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কানে যায়। ১৯৭৪ সালের জানুয়ারি মাসে কলেজের অধ্যক্ষ কে এম সিরাজুল ইসলাম, লেকচারার আব্দুর রউফ ও কলেজ সংসদের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস জামান মুকুল গণভবনে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাত করেন। বঙ্গবন্ধুকে উপহার দেয়া হয় কলেজের জমিতে উৎপাদিত চাল, ফুলকপি, বাঁধা কপি আর উলের চাদর ও পোশাক। বঙ্গবন্ধু এসব পেয়ে আবেগে এতটাই আপ্লুত হন যে তিনি সেখানেই বলেন যেসব শিক্ষায়তনে নিজস্ব জমি আছে সেখানে এভাবে সবুজ বিপ্লব ঘটানো হবে। সেদিনের ঘটনার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আব্দুর রউফ বলেন, বঙ্গবন্ধু তাদের সকলকে জড়িয়ে ধরেন। Ñসমুদ্র হক, বগুড়া থেকে