বুধবার ১৫ আশ্বিন ১৪২৭, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

শিক্ষার উচ্চতা

  • সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

দেশের স্বাধীনতার জন্য যে-অসামান্য মূল্য দিতে হয়েছে তার প্রকৃত অর্থ খুঁজবো কোথায়? খুঁজতে যদি হয় তবে খুঁজতে হবে স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে নতুন জীবনের পথে অগ্রসর হবার যে-সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে সেই সম্ভাবনার মধ্যে। অগ্রসর হওয়ার পথে অন্তরায় আছে অনেক, দুস্তর অন্তরায় আছে দারিদ্র্যে ও শোষণে, কিন্তু তার চেয়েও নিকটবর্তী অন্তরায় বোধ করি যথার্থ শিক্ষার অভাব।

শিক্ষার উদ্দেশ্য হতে পারে তিনটি; চাকরিজীবী সৃষ্টি করা, সংস্কৃতিবান ভদ্রলোক সৃষ্টি করা এবং বিবেকবান ও সৃজনশীল মানুষ সৃষ্টি করা। দেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থাটি পত্তন করা হয়েছিল চাকরিজীবী সৃষ্টির উদ্দেশ্যে। কিন্তু সেই সঙ্গে উপরি পাওনা হিসাবে সংস্কৃতিবান ভদ্রলোকও পাওয়া গেছে কিছু কিছু। চাকরি এলে ভদ্রতাও আসে, না-এসে পারে না। কিন্তু শিক্ষার তৃতীয় প্রয়োজনীয়তা কতটা মিটবে; বিবেকবান ও সৃজনশীল মানুষ এই ব্যবস্থায় তৈরি হয়েছে কি-না, হলে কয়জন হয়েছে- জিজ্ঞাসা সেটাই।

চাকুরে নয়, ভদ্রলোকও নয়, মানুষ সৃষ্টি করাই যে শিক্ষার মূল কথা হওয়া উচিত এই সত্যটা সকলেই মান্য করেন, কিন্তু ওই সত্য মান্য করা আর সত্যিকার মানুষ সৃষ্টি করা এক কথা নয়। দারিদ্র্যের যে-হৃদয়হীন বন্ধনে আমরা আটকা পড়েছি তা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য আজ ভীষণভাবে দরকার কারিগরি কৌশলের; দরকার দক্ষ, কর্মনিপুণ, বুদ্ধিমান মানুষের। এই প্রয়োজনের সত্যটিকে আমাদের চোখের সামনে রাখতে হবে অবশ্যই; কিন্তু রাখতে গিয়ে খেয়াল রাখা আবশ্যক হবে যাতে মুহূর্তের জন্যও চোখ ফিরিয়ে না নিই অন্য একটি সত্য থেকে। সেটি হলো এই যে, কৌশলজ্ঞান, দক্ষতা, কর্মনিপুণতা এ সকল ব্যাপার চালুকে চালু রাখার ব্যাপার, সৃষ্টিশীলতার ব্যাপার নয়।

শুষ্ক বুদ্ধির মধ্যে বরং একটা যান্ত্রিকতা আছে। এই কথাটা ডি এইচ লরেন্স খুব উঁচুগলায় বলে গেছেন। লরেন্সের গলার উচ্চতাটা বাদ দেওয়া যায়, কিন্তু সব বাদছাদ দিয়েও এই সত্যটা অবিচলিত থাকে যে, বুদ্ধির একক ও শৃঙ্খলাবদ্ধ নির্ভুলতার মধ্যে অসদ্ভাব আছে প্রাণের। বুদ্ধি নির্মমভাবে আপন বৃত্তের মধ্যে আবদ্ধ; বুদ্ধিকে ব্যবহার করার পৌনঃপুনিক একঘেঁয়েমি থেকে বিরক্তিকর ক্লান্তি আসে, আসে বিষণœতাও। দার্শনিক কিয়ের্কেগার্ড সুন্দর করে বলেছেন, ঈশ্বর আদি পিতাকে সৃষ্টি করেছিলেন বিরক্তিকর একঘেঁয়েমিতে অতিষ্ঠ হয়ে; সেই পিতা যখন দেখলো বিরক্ত লাগছে একা একা তখন চাইলো সে হাওয়াকে; স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে বিরক্ত হলো যখন তখন খেল তারা নিষিদ্ধ ফল। সেই থেকে বিরক্তি নিরন্তর তাড়া করে বেড়াচ্ছে আমাদেরকে। বিরক্ত মানুষমাত্রই সাক্ষ্য দেবেন, কি ভীষণ এই পিছু-ধাওয়া। বুদ্ধিতেই শ্রেষ্ঠত্ব মানুষের, কিন্তু শুষ্ক বুদ্ধির বিশুদ্ধ চর্চায় উপাদান আছে বিরক্তির, আর সেই সঙ্গে, একই সঙ্গে, বিষণœতার।

এই বৃত্ত থেকে মুক্তির পথ কোথায়? পথ আছে। পথ আছে হৃদয়ের চর্চায়। হৃদয়ের গভীর থেকে উৎসারিত অনুপ্রেরণা ও উদ্দীপনা যদি ফল্গুধারার মতো এসে লাগে বুদ্ধির গায়ে, তবে শুষ্ক বুদ্ধি সৃজনী বুদ্ধিতে পরিণত হয় অনায়াসে। হেগেল মিথ্যা বলেননি। যখন বলেছেন যে, প্রচ- আবেগ ভিন্ন কোনো মহৎ সৃষ্টি সম্ভব হয়নি কোনো কালে। নিঃসঙ্গ বুদ্ধি দিয়ে সৃষ্টি হয় না, হলেও শুধু কঙ্কাল সৃষ্টিই হতে পারে। সেই কঙ্কালে প্রাণ আসে হৃদয় থেকে। প্রাণের মূল্যেই সৃষ্টির মূল্য, কঙ্কালের মূল্যে নয়। যখন আমরা সৃজনশীল হয়ে উঠি তখন বিরক্তি কেটে যায়, তখন ব্যর্থতাবোধের বিষণœতাও আর থাকে না। কিন্তু কি সৃষ্টি করবো; সকলেই তো আর শিল্পী নই? আসলে সকলেই শিল্পী, অন্যকিছুর না হোক নিজের জীবনের তো বটেই। কিন্তু শুধু সৃষ্টি নয়, হৃদয়ের চর্চার মধ্য দিয়ে একাকিত্বের বোধ কেটে যায় মানুষের। এক হৃদয়ের সঙ্গে অন্য হৃদয়ের মমত্ব যখন গড়ে ওঠে তখন আর আমরা ক্ষুদ্র থাকি না, সামান্য থাকি নাÑ তখন ব্যাপ্ত, বিস্তৃত, বৃহৎ হয়ে পড়ি। তখন শুধু মানুষ নয়, যুক্ত হই প্রতিপার্শ্বের সঙ্গেও। যখন বুঝি আমরা একা নই তখন হতাশা আসে না সহজে, বিষণœতা আসে না স্বল্পসুযোগে। মানুষ স্বার্থপর প্রাণী; তদুপরি শিক্ষিত মানুষ মানেই বিচ্ছিন্ন মানুষ, কেননা শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি পায় ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবোধ। বুদ্ধি যত সূক্ষ্ম হয় মানুষে মানুষে দূরত্বটাও তত প্রবল হয়ে ওঠে। (আমরা যখন অসন্তুষ্ট হই কারো ভাবগতিক দেখে তখন দেখা যায় ঠিক চিনেছি বুদ্ধির কাজকে। আমরা বলি ‘কে বুদ্ধি দিয়েছে শুনি?’ বলে চেপে ধরতে চাই বুদ্ধির কুটিলতাকে)। এই বাংলাদেশে মানুষে মানুষে দূরত্ব সৃষ্টির কাজে যত কায়দাকৌশল চালু আছে, অন্য কোনোকিছু সৃষ্টির ক্ষেত্রে তেমন আছে বলে মনে হয় না। বিচ্ছিন্নতার জায়গায় মিলনকে প্রতিষ্ঠার জন্য হৃদয়ের পরিচর্যা করা খুব বেশি করে প্রয়োজন। যাকে আমরা বিবেক বলি তা অশরীরী কোনো বস্তু নয়। শোপেনহাওয়ারের কথাটা বার বার স্মরণযোগ্য, ‘মানব-হৃদয়ে গভীর রূপে প্রোথিত করুণাই হচ্ছে নৈতিকতার একমাত্র যথার্থ ভিত্তিভূমি।’ বিবেকের সত্যিকারের আশ্রয়কে পাওয়া যাবে না আধিদৈবিক অনুশাসনে অথবা নীতিজ্ঞানের হট্টগোলে, পাওয়া যাবে মানুষের প্রতি মানুষের মমত্ববোধে। ওয়েগনার ও হিটলার উভয়েই জার্মান ছিলেন, ছিলেন উভয়ে নিরামিষভোজী, কিন্তু একজন যে শিল্পী হলেন অন্যজন নিপীড়নকারী তার কারণ তাঁদের একজনের হৃদয়ে মমতা ছিল, অন্যজনের হৃদয়ে তা ছিল না। সমাজের মধ্যে যদি সাম্যের প্রতিষ্ঠা চাই আমরা তবে সে-সাম্য আনতে পারবো না পুলিশের লাঠির সাহায্যে, তাকে আনতে হবে বিবেকের নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে। রাষ্ট্রের স্বাধীনতা বিশেষভাবে প্রয়োজন ছিল বিবেকের নিয়ন্ত্রণকে সমাজের সর্বত্র প্রতিষ্ঠা করবার জন্য। এই নিয়ন্ত্রণকে কার্যকর করবার ব্যাপারে উদ্যমশীল হওয়া প্রয়োজন আজ ভীষণভাবে। বিদ্বেষ ও ঈর্ষার সাহায্যে মানুষকে উত্তেজিত করা কঠিন নয়, হিংসা থেকে হিংস্র হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা; কিন্তু শুধু উত্তেজনা ও হিংসার মধ্য দিয়ে মহৎ কাজ সংগঠিত করা সহজ নয়, সমাজবিপ্লবও নয়। সমাজবিপ্লব কেন চাই? চাই মানুষকে ভালবাসি বলে। ভালবাসার কারণে, ভালবাসার মধ্য দিয়ে এমন বিপ্লব চাই আমরা যার প্লাবনে সব রকমের শোষণ ও অত্যাচার অপসারিত হতে পারে সমাজ থেকে।

সভ্যতার অগ্রগতির কথা ধরা যাক। এই অগ্রগতির জন্য আমাদের প্রতীক্ষা দীর্ঘদিনের। কিন্তু অগ্রগতির অর্থ কি? সভ্যতার অগ্রগতির সুখসুবিধার বস্তুগত উপকরণ বুদ্ধির উপর নির্ভর করে না, নির্ভর করে মানুষের প্রতি মানুষের মমত্ববোধের বিবেকের, তথা হৃদয়ের বিকাশের ওপর। হেরডেটাস এক বর্বর উপজাতির কথা উল্লেখ করেছেন, যে-উপজাতির লোকেরা নিজেদের পিতা ষাট বছর পার হলে আর দেরি করতো না, পাছে তারা সমাজের বোঝা হয়ে পড়ে এই ভয়ে নিজেদের পিতামাতাকে নিজেরাই ভক্ষণ করে ফেলতো। বিবেক ও নীতিজ্ঞানের এই স্তর আমরা পার হয়ে এসেছি বলেই আমাদের বিশ্বাস। কিন্তু কতটা এসেছি? যতটা এসেছি সভ্যতার ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রগতিও ঠিক ততটাই। সমাজের বোঝা- এই বোধ কি এখনও চালু নেই? সমাজের বোঝা যারা তাদের নীরবে নিঃশব্দে ভক্ষণ করার কাজ কি এখনো চলছে না সমাজে? চোখের সামনে একটা লোক গাড়িচাপা পড়লে আমরা হৈ হৈ করি, চালককে ধরে এনে শাস্তি দেই, কিন্তু সমাজের গাড়ি চালু রাখতে বিস্তর লোক চাপা পড়ছে অহরহ; তফাৎ এই যে হৈ-চৈ-টা হচ্ছে না, তফাৎ এই যে চালকদের প্রহার না করে আমরা সমাজের মাথায় তুলে বসাচ্ছি। সভ্যতা প্রতিদিন পরীক্ষা দিচ্ছে- দিচ্ছে মানুষের প্রতি মানুষের কর্তব্যবোধের মধ্যে, পরীক্ষা দিচ্ছে সাধারণ, সুযোগবঞ্চিত মানুষের জীবনে প্রতিষ্ঠিত অবিচারে।

লাভ-লোকসানের চেয়ে ভালোমন্দের প্রশ্নকে বড় করে দেখার মধ্যে বিবেকের পরিচয় আছে। তবু নীতিবোধ জিনিসটা দেখতে যতটা সরল আসলে ততটা নয়। বৃদ্ধ পিতামাতার মাংস ভক্ষণ করাটা যদি নীতি হয় তবে সেই নীতিবোধ না-থাকাটাই বাঞ্ছনীয়- নিঃসন্দেহে। তাই ভালোমন্দের প্রখর জ্ঞান আছে- এই খবরটা যথেষ্ট নয়, খবর করতে হবে কোনটাকে ভালো জ্ঞান করা হচ্ছে, আর কোনটাকে মন্দ মনে করা হচ্ছে তারও। নীতির নৈতিক উৎকর্ষও স্বতঃসিদ্ধ কিছু নয়, একটি বিচার্য প্রশ্ন বটে। সমাজের নেতৃত্বে যাঁরা থাকবেন তাঁদের প্রধান শক্তি হবে নৈতিক শক্তি। এই সত্যটিকে পরিষ্কার করে বোঝা দরকার যে, নৈতিক শক্তি ভিন্ন অন্য কোনো শক্তির যদি ক্ষমতা থাকতো শাসন করবার তাহলে মানুষের ইতিহাসে নিপীড়নকারীরা পরাভূত হতো না বার বার।

বিবেকের তো বটেই, হৃদয়ের চর্চা উদ্বোধন ঘটায় সেই সকল মানবিক গুণেরও যুগযুগান্তের পরীক্ষায় যারা টিকে আছে। যাদের কথা সেই কনফুসিয়াসের কাল থেকে মানুষ বলে আসছে, বলে বলে ক্লান্ত হয়নি। উদ্বোধন ঘটে সততার, ঔদার্যের মহানুভবতার। ঘটে সামাজিক শিষ্টাচারের। শিষ্টাচার ব্যাপারটা হৃদয়ের ব্যাপার নয়। সামাজিকতার ব্যাপার, অধিকাংশ সময় ব্যাপার আনুষ্ঠানিকতার, কখনো কখনো স্বার্থবুদ্ধির। অধিকসজ্জিতা মেয়েদের প্রসাধনের মতো সামাজিক শিষ্টাচার বেশিরভাগ সময়ই প্রাণকে উন্মোচিত করে না, প্রাণের অভাবকেই শুধু ঢেকে চেপে রাখে। শিষ্টাচারীমাত্রই বিনয়ী- এমন কোনো কথা নেই, শিষ্টাচার দুর্বিনয়কে আচ্ছাদিত করে; প্রতারণার উদ্দেশ্যে। সেই জন্য শিষ্টাচারে বিশেষভাবে প্রয়োজন হৃদয়ের স্পর্শের। ভদ্রতা যাতে সত্যিকারের ভদ্রতা হয়, বিনয়ের প্রকাশ যাতে বিনয় হয় যথার্থ, অপরের প্রতি সম্মান যাতে আত্মিক কারণেই ঘটে, উদ্দেশ্যসিদ্ধির কারণের পরিবর্তে- তার জন্য উষ্ণ হৃদয়ের তাপ অত্যাবশ্যক।

সৌন্দর্যজ্ঞান- সুন্দরকে চিনবার ক্ষমতা, জীবনকে এবং জীবনের জন্য সমাজকে, সুন্দর করবার আগ্রহ- জীবনের একটি মূল্যবান সম্পদ। এই জ্ঞানেরও বিকাশ সম্ভব হৃদয়ের পরিকর্ষণার মধ্য দিয়ে।

সরল হৃদয়ের অভ্যন্তরে জীবনদায়িনী ক্ষমতা আছে বলেই টলস্টয় বার বার বলেছেন কৃষকের জীবনে ফিরে যাবার কথা। গন্তব্যের এমন সরল স্থিরনির্দিষ্টতাকে সন্দেহের চোখে দেখবার অবকাশ হয়তোবা আছে, কিন্তু অবকাশ নেই টলস্টয়ের বক্তব্যের অন্তর্নিহিত সত্যকে সন্দেহ করবার। শুষ্ক বা স্বার্থ-বুদ্ধিসর্বস্বতার ভেতর জীবন নেই, জীবন নেই সেখানে যেখানে বিত্তের প্রাচুর্য আছে কিন্তু সম্পদ নেই চিত্তের, যেখানে ক্ষমতা আছে কিন্তু সুখ নেই। আনন্দহীনতা শিক্ষা দেওয়া কিছুতেই উদ্দেশ্য হতে পারে না শিক্ষার। আনন্দের মধ্য দিয়ে আনন্দবৃদ্ধিকারক শিক্ষা দেওয়া আবশ্যক।

২. প্রশ্ন হতে পারে যে, আমরা কি বুদ্ধির অথবা জাগতিক উন্নতির দিকে দিয়ে এতোটা এগিয়ে গেছি যে হৃদয়ের জন্য উদ্বিগ্ন হবো? এগিয়ে নিশ্চয়ই যাইনি, কিন্তু উন্নতির লক্ষ্য যখন স্থির করছি তখন নিশ্চয়ই খেয়াল রাখতে হবে যাতে লক্ষ্যপথে সামগ্রিক উন্নতির পূর্ণ চিত্রটি থাকে, ভারসাম্যের অভাব যেন কিছুতেই না ঘটে। প্রশ্ন এও হতে পারে যে হৃদয়ের দেশ বলে প্রসিদ্ধি যে- দেশের সে- দেশে হৃদয়চর্চার কথা এতো জোর দিয়ে কেন বলা? এর জবাব কিছুটা বিস্তৃত করে দেওয়া আবশ্যক।

প্রথম কথা এই যে, লোকশ্রুতি যাই হোক আমাদের দেশ মাত্রাতিরিক্ত রূপে হৃদয়বান এমন দাবি করা যাবে না। কেননা সামাজিক নিষ্ঠুরতার কোনো অভাব নেই এদেশে, অভাব নেই মানুষের ওপর মানুষের অত্যাচারের। ওদিকে শত শত বছর ধরে যেভাবে আমরা দারিদ্র্যকে সহ্য করে আসছি সেই সহ্যশক্তির ভেতর হৃদয়ের ইচ্ছাশক্তির অভাবটা বড় বেশি প্রকট।

বাংলা নাটকে বাস্তবতা সৃষ্টির সমস্যার কথা বলতে গিয়ে মধুসূদন মন্তব্য করেছিলেন, ‘আমরা বাস্তবকে ভুলিয়া পরীর রাজ্যের স্বপ্নে বিভোর।’ বাস্তবে এই অবজ্ঞা ও সপ্নে এই বিভোরতা শুধু আমাদের সাহিত্যের নাটকে নয়, জীবনের নাটকেও সত্য। এই অর্থে আমরা হৃদয়বান বটে। কিন্তু এ হৃদয় কোন হৃদয়? নিশ্চয়ই শিক্ষিত, মার্জিত, পরিশীলিত হৃদয় নয়। অকারণ ভাবাবেগ, অতিরিক্ত অন্যমনস্কতা বা উদাসীনতা- এরা হৃদয়ের অশিক্ষার লক্ষণ, অন্য কিছু নয়। প্লীহা রোগীর অতিকায় প্লীহা যেমন স্বাস্থ্যের প্রমাণ দেয় না, অকারণে উত্তেজিত বা অহেতুক অস্থির হৃদয় তেমনি দুর্বলতা ছাড়া আর কিছু বোঝায় না। বিবেকবান ও সৃজনশীল মানুষ সৃষ্টির জন্য প্রয়োজন মানুষকে তার পুরাতন বন্ধন থেকে মুক্ত করা। যে হৃদয় পুষ্ট নয়, সে হৃদয় পুষ্ট করে শুধু বন্ধনকে। বন্ধন কিসের? বন্ধন কুসংস্কারের, অন্ধবিশ্বাসের, বন্ধনভয়ের। আবদ্ধ হৃদয় পঙ্গু হয়ে পড়ে, আপনা থেকেই। আশঙ্কা থাকে আবদ্ধ অবস্থাতেই তার স্পন্দন বন্ধ হয়ে যাবে হঠাৎ একদিন। অশিক্ষিত হৃদয় অতিসহজে উত্তেজিত হয়Ñ প্রচ-রূপে। তার অশ্রুপাতে সৃজনের উপাদানেরা ভিজে ভিজে ওঠে, ফলে বিঘœ ঘটে সৃষ্টিতে। অশিক্ষিত হৃদয় ক্রীড়নক হয়ে পড়ে অন্যের হাতের, প্রবল কোনো বায়ুপ্রবাহের আয়োজন ঘটলে সে মাথা নুইয়ে দেয়, এপাশে-ওপাশে। পেছনের ইতিহাসের দিকে তাকাই যদি, পাকিস্তান সৃষ্টির ইতিহাসের দিকেওÑ দেখবো কত সহজে প্রতারিত হয়েছে আমাদের হৃদয়, স্বীয়স্বার্থসিদ্ধকারী মানুষদের হাতে। হৃদয়কে তাই শক্ত হতে জানতে হবে, কোমল হতে জানার সঙ্গে সঙ্গে। ভাগ্য পরিবর্তনের দুর্বার ইচ্ছাশক্তির উৎসমুখ একটাই, শিক্ষিত হৃদয়। অশিক্ষার কর্দমে ক্ষতি আছে, লাভ নেই।

অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারের বন্ধন থেকে মুক্তি চাই, চাই ভাগ্য পরিবর্তনের বিপুল প্রবল উদ্যম, আর সেই জন্যই হৃদয়ের শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে চাই বুদ্ধির শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে, যাতে করে অনুভব ও ধারণা, আবেগ ও জ্ঞান, কল্পনা ও বুদ্ধি একত্র কাজ করতে পারে, যাতে করে হৃদয় ও মস্তিষ্কের সুবর্ণ সংযোগে আমরা নতুন জীবনের পথে অগ্রসর হতে পারি সবল ও সমর্থ পদক্ষেপে। পানির প্রবল স্রোতকে বশ করে যেমন আমরা বিদ্যুৎশক্তি এনেছি, তেমনি করে আবেগ থেকে অনুপ্রেরণা ও উদ্দীপনা আনতে হবে, নইলে বন্যা আসবে দুর্গতিকে মাথায় নিয়ে।

তুকভিল আমেরিকার গণতন্ত্রের উপর তাঁর কালজয়ী গ্রন্থে দেখিয়েছেন যে, ঊনবিংশ শতাব্দীর আমেরিকায় আলোচনার স্বাধীনতা যত ছিল, চিত্তের স্বাধীনতা তত ছিল না। আলোচনার স্বাধীনতা ও চিত্তের স্বাধীনতা এক বস্তু নয়। ঠিক তেমনি বুদ্ধির বয়ঃপ্রাপ্তি ও হৃদয়ের বয়ঃপ্রাপ্তি ভিন্ন ভিন্ন ব্যাপার। বুদ্ধিতে পক্ব মানুষ আবেগের দুর্বলতায় শিশুর মতো আচরণ করতে পারে। বৈজ্ঞানিক রমোন্যাসের যন্ত্রদানবদের উদাহরণ নেয়া যায়। বুদ্ধিতে তারা টসটসে পাকা, কিন্তু যেহেতু হৃদয় নেই ভেতরে তাই তারা নিতান্তই অমানুষ। তুকভিল দেখিয়েছেন যে, গণতান্ত্রিক আমেরিকায় আমেরিকার সমালোচনা সহ্য করবার শক্তির অভাব ছিল, অথচ ফরাসী দেশের অভিজাত শ্রেণী তাদের নিজেদের উপর লেখা ব্যঙ্গ-বিদ্রƒপাত্মক নাটক উপভোগ করতে পারতো অতিসহজে এবং এর কারণ এই যে, অভিজাত শ্রেণী অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিল না হৃদয়ের দিক থেকে। উত্তেজনার মধ্যে ধৈর্য, ভয়ের মধ্যে সাহস, বিপর্যয়ের মধ্যে বিজ্ঞতা বজায় রাখার শিক্ষা হৃদয়ের শিক্ষা, বুদ্ধির নয়।

বয়ঃপ্রাপ্তির পরও আমাদের শৈশব অক্ষুণœ থাকবার আরো একটি প্রমাণ আছে, আছে স্বর্গকে পেছনে-দেখার রোগের মধ্যে। শিশু যেমন বার বার খেলা ফেলে কেঁদে ওঠে, কারণে-অকারণে আমরাও তেমনি ফিরে ফিরে যেতে চাই অতীতের স্বর্গে, শুধু যেতে চাই না একে অপরকে জোর প্ররোচনা দিই যাবার জন্য সেই গোলাভরা ধান ও পুকুরভরা মাছের পশ্চাদস্বর্গে। আমরা ঐতিহ্যের বড়াই করি, জাত্যাভিমানে বড় বড় ধ্বনি তুলি, আমরা আত্মপ্রবঞ্চনা করি। স্বর্গকে যদি দেখতেই হয় তবে দেখতে হবে সামনে, সেই স্বর্গকে যে স্বর্গ উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া যায় না, যাকে তৈরি করে নিতে হয় স্বকীয় শ্রম ও স্বেদের বিনিময়ে।

আমরা ভাবছি আমাদের অভাব নেই হৃদয়ের, তাই হৃদয়ের অভাব আমাদের ঘুচতে চায় না। তাছাড়া হৃদয় যেটুকু আছে সেটুকুও যেহেতু অপরিশীলিত ও রুগ্ন তাই হৃদয়ের শিক্ষা প্রয়োজন বিশেষভাবে। আমরা কথায় বলি ‘বিদ্যাবুদ্ধি’, বুদ্ধির বিদ্যা তো দরকারই, তার চেয়েও বেশি দরকার আমাদের হৃদয়ের বিদ্যা। এই বিদ্যাদানের জন্য যোগ্য শিক্ষক চাই।

একাত্তরের গণহত্যা যখন চলছিল প্রবল বিক্রমে তখন পাঞ্জাবী দস্যুদের সমর্থক লোকদের বলতে শুনেছি শিক্ষকরাই নাকি আসল শয়তান, তারাই ভুলে পথে চালিয়েছে ছাত্রদের, ভুল পথে অর্থ যথার্থ পথে। তাঁরা বলেছেন, বিজ্ঞানের শিক্ষকদের ওপর তত রাগ নেই সামরিক কর্তৃপক্ষের, যত আছে কলাশাস্ত্রের শিক্ষকদের ওপর। কেননা কলাবিভাগীয় শিক্ষকরা হট্টগোল করে বেশি, বড় বড় কথার তারাই প্রধান সওদাগর। অর্থাৎ কিনা তাঁরা বিবেকের কথা বলেন, তাঁরা পরিচর্যা করেন সংবেদনশীল হৃদয়ের। যদিও নিরীহ তাঁরা আপাত, জাগতিক-বিচারে-অপ্রয়োজনীয় বিষয়সমূহের পঠনপাঠনে লিপ্ত, তবু তাঁরাই, ঐ বাহুল্যেরই, ভীষণ শক্ত ভেতরে ভেতরে। এই কথাটা কোনো একজন মানুষের কথা নয়, এটা সব অত্যাচারী মানুষের ভয়ের কথা-আসলে।

কিন্তু শিক্ষকদের ঢালাই প্রশংসা খুবই অযথার্থ। শিক্ষকদের ভেতর দুষ্টবুদ্ধির লোকের অভাব ছিল না। বিশ্বদ্যালয় শিক্ষকদের মধ্যে যত তাঁবেদার ছিলেন শতকরা হিসাবে অন্য কোনো ব্যবসায় কি পেশায় তত ছিল না বলেই মনে হয়। শিক্ষকরা ভুল তথ্য শিখিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে, শান্তি কমিটিতে নাম লিখিয়েছেন বিদ্যালয়ের বাইরে। যাঁরা তাঁবেদার ছিলেন না তারাও ভীত ছিলেন ভীষণভাবে। নিজেদের বিবেককে নিয়ে যাঁরা ভীত-বিহ্বল বিবেকের শিক্ষক হিসাবে তাঁরা অবশ্যই ব্যর্থ।

ব্যর্থতার একটা কারণ নিরাপত্তাবোধের অভাব। অন্য কারণ আত্মবিশ্বাসের অভাব। তাঁদের অভাব যত তাঁর চেয়ে বেশি অভাববোধ। লোকের আস্থা নেই তাঁদের শিক্ষার প্রতি; তাঁরা শিক্ষা দেন সততাই শ্রেষ্ঠ পন্থা, বাইরে দেখা যায় অসৎপন্থীদের জয়জয়কার। তাঁদের নিজেদেরও আস্থা নেই নিজেদের ওপর। এমনকি যে ত্রুটিবহুল শিক্ষা তাঁরা প্রদান করেন সেই শিক্ষাব্যবস্থাতেও তাঁদের নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব নেই। শিক্ষককে তাই তাঁর আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দেয়া প্রয়োজন, প্রয়োজন তাঁকে প্রতিষ্ঠা করা নেতৃত্ব ও মর্যাদার আসনে। শুধু শিক্ষাব্যবস্থাতে নয়, সমাজব্যবস্থাতেও। আমাদের সমাজে নেতৃত্ব ও মর্যাদা কাদের? আর যাদেরই হোক শিক্ষকদের নয়। শিক্ষককে সামাজিক নেতৃত্ব ও মর্যাদার আসনে আনা আবশ্যক আজ বিশেষভাবে।

শিক্ষা তো শুধু বিদ্যালয়ের ব্যাপার নয়, ব্যাপার পরিবার ও সমাজেরও। সমাজই শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রিত করে সবকিছুকে। শিক্ষক যখন পড়াতে বাধ্য হন যে, রাজনীতি মহাপাপ, তখন দেখা যায় যে সমাজে কল্যাণকর পরিবর্তন যা আসছে তা ওই মহাপাপের পথ ধরেই। শিক্ষা ও সমাজের মাঝখানে ওই রকমের ফাঁক থাকলে সেই ফাঁকে শিক্ষাদানের সদুদ্দেশ্য তলিয়ে যেতে বাধ্য। অন্যদিকে আবার এও সত্য যে বিদ্যালয়ের শিক্ষাকে ফলপ্রসূ করার জন্য সমাজের শিক্ষাকে ভুলে যাওয়া আবশ্যক। সমাজ যদি মানুষে মানুষে অসাম্য শেখায় তাহলে বিদ্যালয়ে সাম্যের শিক্ষা পত্তনের আগে প্রয়োজন হবে সামাজিক কুশিক্ষার দুষ্ট চারা উপড়ে ফেলা। এটা একটা অতিরিক্ত কর্তব্য। চারুকলা বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষককে একবার তাঁর দায়িত্বের কথা জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বললেন, ছাত্রদের আঁকতে শেখানোর আগে তাঁর কাজ হয় যে ভুল আঁকা তারা বাইরে থেকে শিখেছে সেটা ভুলতে শেখানো। এই দায়িত্বটা সকল শিক্ষকেরই। সমাজ প্রতিনিয়ত ভুল শিক্ষা দিচ্ছে, বিশেষ করে হৃদয়কে-শিক্ষা দিচ্ছে স্বার্থপরতা, সঙ্কীর্ণতা, ঈর্ষা, ভীতি।

আমরা বলি শিক্ষকরা আদর্শ নাগরিক তৈরি করবেন। কথাটার তাৎপর্য বিবেচনা করে দেখবার মতো। আদর্শ নাগরিক বলতে আমরা বুঝি যোগ্য, দক্ষ, প্রশংসাভাজন মানুষ। অর্থাৎ কিনা এমন মানুষ যার সঙ্গে সমাজের কোন বিরোধ বাঁধবে না, সমাজের ব্যবস্থাটাকে যে মেনে নেবে, মেনে নিয়ে খারাপ স্কুলের ভাল ছাত্রের মতো দেদীপ্যমান হয়ে উঠবে। তাই এ কথা বলা দরকার যে এটা পর্যাপ্ত। নয়। আমরা শুধু আদর্শ নাগরিক চাই না, চাই উপযুক্ত মানুষও। (মানুষ কথাটা বাংলায় খুব চালু। আমরা বলি ভাল মানুষ, ছেলে মানুষ, বড় মানুষ, মেয়ে মানুষ। এই হাঁকডাকে বোঝা যায় মানুষের বড়ই অভাব এই দেশে। যখন বলি কাজের মানুষ- অর্থাৎ গৃহভৃত্য- তখন কাজের প্রতি কোন আগ্রহ প্রকাশ পায় না, পায় না শ্রমের তথাকথিত মর্যাদায় মর্যাদাবান হবার লোভ। এ কথা তর্কাতীত যে আমরা শ্রমবিমুখ। জবংঁষঃ ও ভৎঁরঃ- এর মধ্যে আমরা কোন পার্থক্য করি না; দুটোই ফল, আপন স্বভাবে ফলেছে তারা, এখন আমাদের দায়িত্ব শুধু নিচ থেকে সত্ত্বর কুড়িয়ে নেয়া।) মানুষের অভাব বলেই কেবল নাগরিকদের দিয়ে কাজ হবে না। এমন মানুষ চাই যার বুদ্ধির বিকাশের সঙ্গে সুশিক্ষা ঘটেছে হৃদয়ের, যার জ্ঞান আছে আর আছে প্রয়োজন হলে সাহস- একা দাঁড়াবার।

মস্তিষ্কের কথা, বুদ্ধির কথা অনেক শোনা গেছে, আরও শোনা যাবে, যাবেই; সেই জন্যই অবহেলিত ও অশিক্ষায় জর্জরিত হৃদয়ের কথা বলতে হবে, জোর দিয়ে।

শীর্ষ সংবাদ:
‘বিএনপি আন্দোলন-সংগ্রামের লক্ষ্য নির্ধারণেই ব্যর্থ, আন্দোলন তো সুদূর পরাহত’         ফাঁসির রায় ॥ পুলিশ হেফাজতে মিন্নি         রিফাত হত্যা ॥ মিন্নি সহ ছয় জন আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত         এইচএসসি-সমমানের তারিখ জানা যাবে আগামী সপ্তাহে         সৌদি অরব রুটে প্রতি সপ্তাহে চলবে ২০ ফ্লাইট ॥ পররাষ্ট্রমন্ত্রী         করোনা ভাইরাসে আরও ৩২ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১৪৩৬         বাবরি মসজিদ মামলার সব আসামি বেকসুর খালাস         'বাংলাদেশে পানি জীবন-মরণের বিষয়'         ঢাকা-১৮ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবীব হাসান, সিরাজগঞ্জে জয়         শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটির বিষয়ে জানা যাবে বৃহস্পতিবার         বাংলাদেশ থেকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে বিমান চলাচলে চুক্তি স্বাক্ষর         ফের পেছালো ডিআইজি মিজানসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের শুনানি         মাধ্যমিক স্কুল কমিটির সভাপতি হতে শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণে আইনি নোটিশ         এমসি কলেজে গণধর্ষণ ॥ আসামি মাসুমও ৫ দিনের রিমান্ডে         বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা         শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি এমপি আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ         আক্রান্ত ৩ কোটি ৩৫ লাখ, মৃত্যু ১০ লাখ ৫ হাজার         ট্রাম্পকে পুতিনের ‘পোষা কুকুর’ বললেন বাইডেন         মঙ্গলে পানির উৎস পেল নাসা         মেহবুবাকে আর কতদিন আটকে রাখা হবে- জানতে চান আদালত