ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

আজ শেষ টি২০

ভারতের সামনে ৩-০’র হাতছানি

প্রকাশিত: ০৫:৩৮, ৩১ জানুয়ারি ২০১৬

ভারতের সামনে ৩-০’র হাতছানি

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ যে কোন ফরমেটের ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে ‘হোয়াইটওয়াশ’ করার হাতছানি ভারতের সামনে। এ জন্য মহেন্দ্র সিং ধোনির দলকে কেবল ‘ছোট্ট’ একটা কাজই করতে হবে। ২-০তে টি২০ সিরিজ জয়ে ইতোমধ্যে ওয়ানডে হারের বদলা নেয়া হয়ে গেছে, দুই ম্যাচের দুরন্ত ওই পারফর্মেন্সের ধারা আজও বয়ে আনতে হবে। শুরু থেকে ব্যাটিং ভাল হচ্ছে, বাইশ গজে রানের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলিরা, সঙ্গে টি২০তে বোলিংয়ে জ্বলে উঠেছে সফরকারীরা। ধোনির খুশির জায়গা এটাই। তবু প্রতিপক্ষকে ‘হোয়াইটওয়াশের’ প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে নিজেদের চাপ বাড়াননি তিনি। মাঠের বাইরে থেকে যেটা চাইছেন গ্রেট শচীন টেন্ডুলকর। ভারতীয়দের ক্রিকেট-ঈশ্বর বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়াকে ৩-০তে হোয়াইটওয়াশের স্বাদটা দারুণ মিষ্টি, আমার বিশ্বাস ওরা তা পেতে চাইবে।’ টানা তিন হারে দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই ওয়ানডে সিরিজ খোয়ায় ভারত। চতুর্থ ম্যাচেও পাত্তা পায়নি সফরকারীরা। কিন্তু পঞ্চম ওয়ানডে থেকে আচমকাই বদলে যায় দৃশ্যপট। সেদিন ৩৩০ রান টপকে ৬ উইকেটে জয় পায় ধোনির দল। টি২০তেও অব্যাহত থাকে সেই ধারা। ৩৭ ও ২৭ রানের বড় জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতে ওয়ানডের বদলা নেয় অতিথিরা। এ্যাডিলেডে ভারতের ১৮৮ রানের জবাবে ১৫১তে গুটিয়ে যায় অসিরা। মেলবোর্নের দ্বিতীয়টিতে ১৮৫ রানের লক্ষ্যে নামা অস্ট্রেলিয়া থামে ১৫৭তে। ৯০* ও ৫৯* রানের চমৎকার ইনিংস উপহার দিয়ে দু’টি জয়েই ‘নায়ক’ বিরাট কোহলি। ধোনি বারবারই বলে আসছিলেন ব্যাটিং নিয়ে তাদের একদমই চিন্তা নেই, ঘুরে দাঁড়াতে মূল ভূমিকাটা রাখতে হবে বোলারদেরই। দু’টি টি২০তে বোলাররা দারুণ করেছে। ‘টি২০তে আমাদের বোলারদের পরিকল্পনা ঠিকঠাক প্রয়োগ করতে পারাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজটাকে আট ম্যাচের (৫ ওয়ানডে ও ৩ টি২০ বোঝাতে) হিসেবে দেখা উচিত। কারণ ওয়ানডের আগে মানিয়ে নিতে আমরা খুব বেশি সময় পাইনি।’ বলেন ধোনি। আগামী মার্চ-এপ্রিলে ঘরের মাটিতে টি২০ বিশ্বকাপের আগে এই সাফল্য ভারতকে উজ্জীবিত করবে। এ বিষয়ে ভারতের প্রথম টি২০ (২০০৭) বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়কের বক্তব্যে বিচক্ষণতার সুর। ধোনি বলেন, ‘হয়ত এটাই টি২০ বিশ্বকাপের জন্য সঠিক কম্বিনেশন হতে পারে। কিন্তু নিশ্চিত হতে আমাদের আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে। কেননা আমরা অস্ট্রেলিয়ায় খেলছি, সেটা মাথায় রাখতে হবে। বিশ্বকাপ কোন দিপক্ষীয় সিরিজ নয়। তার আগে বাংলাদেশে এশিয়া কাপ রয়েছে।’ টপ-অর্ডার নিয়মিত ভাল করায় দুই বছর পর দলে ফেরা যুবরাজ সিং এখনও ব্যাটিংয়ের সুযোগই পাননি! সেটিও উল্লেখ করেন ধোনি। অন্যদিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সিরিজে কঠিন চাপে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। বাঁপায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে ছিটকে গেছেন নিয়মিত অধিনায়ক এ্যারন ফিঞ্চ। তার পরিবর্তে আজ সুযোগ পাচ্ছেন উসমান খাজা। আর নেতৃত্ব দেবেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার শেন ওয়াটসন। টি২০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দল সাজাতেই এই সিরিজে ব্যাপক পরীক্ষা চালাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। দু’টি ম্যাচে ভারত যেখানে একই একাদশ নিয়ে মাঠে নামে, সেখানে ইতোমধ্যে ১৭ জনকে খেলিয়ে ফেলেছে অসি ম্যানেজমেন্ট, আজকের দুই পরিবর্তনে যেটি ১৯-এ উন্নীত হবে! সম্প্রতি দলের হয়ে টেস্টে দারুণ খেলেছেন খাজা। ঘরোয়া বিগ ব্যাশেও ছিলেন দুরন্ত। বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে দলে ডাকায় নির্বাচকদের অভিবাদন জানিয়েছেন ওয়াটসন। এদিকে টেস্ট-ওয়ানডে অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ এবং মারকাটারি ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নেয়ায় আজকের ম্যাচে নেই। বিশ্রামে নিয়মিত উইকেটরক্ষক ম্যাথু ওয়েড, আজ তাই উইকেটের পেছনে দাঁড়াবেন তরুণ ক্যামেরন ব্যানক্রফট। ২০১৪ সালের ৯ নবেম্বরের পর অস্ট্রেলিয়া টি২০ ম্যাচ জেতেনি! সব মিলিয়ে কঠিন চাপে ওয়ানডের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। যে কোন ভার্সনে নিজেদের মাটিতে প্রথমবারের মতো ‘হোয়াইটওয়াশ’ ঠেকানোর চ্যালেঞ্জ ওয়াটসন-গ্লেন ম্যাক্সওয়েলদের সামনে। বিদায় বললেন ভিদিচ স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ অবশেষে বিদায় বলে দিলেন নেমাঞ্জা ভিদিচ। দীর্ঘদিন ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করার পর শুক্রবার অবসরের সিদ্ধান্ত নেন ৩৪ বছর বয়সী ইন্টার মিলানের এই সার্বিয়ান তারকা। দীর্ঘ ১৬ বছরের ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টানার সময় আবেগাপ্লুত ভিদিচ। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ওয়েবসাইটে বিদায়ী এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমার বুটজোড়া তুলে রাখার সময় চলে এসেছে। তবে এ জন্য ইনজুরিটাই আসলে বড় কারণ। কেননা চোটের কারণে গত কয়েক মৌসুমেই মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে আমাকে।’ এ সময় ভক্ত-অনুরাগী, সতীর্থ, কোচ এবং ক্লাব র্কমকর্তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ভিদিচ। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যে সকল খেয়োড়ের সঙ্গে আমি খেলেছি তাদের সকলের প্রতিই আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই। তাছাড়া একসঙ্গে খেলা সকল কোচ এবং স্টাফদেরও ধন্যবাদ। সর্বোপরি অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই আমার ভক্ত-অনুরাগীদের। যারা বছরের পর বছর আমাকে দারুণভাবে সমর্থন এবং অনুপ্রেরণা দিয়ে গেছে।’ ১৯৮৯ সালে যুব ক্যারিয়ার শুরু করছিলেন নেমাঞ্জা ভিদিচ। ইংলিশ জায়ান্ট রেড ডেভিলদের হয়ে খেলেছেন দীর্ঘ আট বছর। ২০০৬ সালে তিনি ম্যানইউতে যোগ দেন। এ সময় ক্লাবটির দলপতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও পালন করতে হয় তাকে। রেড ডেভিলদের জার্সিতে খেলেছেন ২১১ ম্যাচ। ২০১৪ সালে ম্যানইউ ছেড়ে নেমাঞ্জা পাড়ি জমান ইন্টার মিলানে।