ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা

প্রকাশিত: ০৫:৫১, ৯ অক্টোবর ২০১৫

জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা

বছরের প্রথম মাসটিতে জিডিপির আকার ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের বেশি এমন সব দেশকে নিয়ে সিএনএন একটি মানি টাইমলাইন প্রকাশ করে। এতে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বৈশ্বিক জিডিপির পূর্বাভাস দেয়া হয়। তাতে বলা হয়, ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিন বছর বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ হবে। জুনে ঘোষিত বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ অর্জনকে যৌক্তিক বলে মনে করেছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদরা। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে হলে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ ছাড়া বিকল্প নেই। সেজন্য কর সংস্কার ও কর আদায়ের সাহসী পথে হাঁটতেই হবে। অর্থমন্ত্রী সে পথেই যেতে চাচ্ছেন। চলতি (২০১৫-১৬) অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ); যা উদীয়মান ও উন্নয়নশীল এশিয়ার ২৯টি দেশের গড় প্রবৃদ্ধির সমান। যদিও গত মাসে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের প্রতিবেদনে জিডিপি প্রবৃদ্ধি চলতি অর্থবছরে ৬ দশমিক ৭ হবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়। বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল সাড়ে ৭ শতাংশ। কিন্তু ৭ শতাংশের কাছাকাছিও অর্জন করা সম্ভব হয়নি। অবশ্য স্বাভাবিকভাবে যদি চলে দেশ তবে ৭ শতাংশ অর্জন করা যেতে পারে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সূচকগুলো ভাল। বিশ্বের চারটি দেশ ৬ বছর টানা ছয় শতাংশের বেশি জিডিপি অর্জন করেছে, বাংলাদেশ তার মধ্যে একটি। জিডিপি পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ বিশ্বের ৫৮তম অর্থনীতির দেশ। জাতীয় অর্থনৈতিক নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় দেশজ উৎপাদনের ৭ শতাংশের যে লক্ষ্য স্থির করেছে তা কারও কারও মতে খুব সহজ হবে বলে মনে হয় না। দেশী-বিদেশী নানা চক্রান্তসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ডিঙ্গিয়ে সরকার চলেছে অভীষ্ট লক্ষ্যে। চলতি অর্থবছরের নয় মাসে প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ। মাথাপিছু আয় বেড়ে এখন ১৩১৪ মার্কিন ডলার। যা গত অর্থবছর থেকে ১২৪ ডলার বেশি। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি বাড়েনি, যা অবশ্যই ইতিবাচক। গ্রামীণ অর্থনীতিতে আগের চেয়ে আয় বৈষম্য কমেছে। সব মিলিয়ে জিডিপি ৭ শতাংশ পূরণের স্বপ্ন মোটেও দুরাশা নয়। গ্রামীণ অর্থনৈতিক অবকাঠামোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিলে এ সম্ভাবনা এগিয়ে যাবে। প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নেই। সেইসঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রমের ওপর জোর দিতে হবে। বাজেটে যেসব সংস্কারের কথা বলা হয়েছে সেগুলোর সফল বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে। পাশাপাশি শিল্প খাতকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে পোশাক শিল্পের সম্প্রসারণ ও সঙ্কট নিরসনে যথাযথ পদক্ষেপ সময়ের দাবি। কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি হার হ্রাস রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, আগের তুলনায় জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান কমে গেলেও এখনও কৃষি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি। সবচেয়ে জরুরী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। তা না থাকলে উন্নয়ন যে সম্ভব নয় সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম সে প্রমাণ দেশবাসী দেখেছে। অতএব, এ কথা বলা যায়- জিডিপি ৭ শতাংশ পূরণের লক্ষ্যে যে দৃঢ় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা অর্জন অসম্ভব নয়। সরকারের পক্ষে এটি অবশ্যই বাস্তবায়নযোগ্য।
ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২২
ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২২