ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২

নিষেধাজ্ঞায় কর্মহীন জেলেরা, পিরোজপুরে ঈদহীন কয়েক হাজার পরিবার

নাছরুল্লাহ আল-কাফী, পিরোজপুর

প্রকাশিত: ১৬:৩৫, ২০ মার্চ ২০২৬

নিষেধাজ্ঞায় কর্মহীন জেলেরা, পিরোজপুরে ঈদহীন কয়েক হাজার পরিবার

ছবি: দৈনিক জনকণ্ঠ।

ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি। সবার মনে ঈদের আনন্দ থাকলেও পিরোজপুরের জেলে পল্লীর কয়েক হাজার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নেই ঈদের কোন আনন্দ। ধার দেনা করে কোন মতে জীবন চললেও ঈদ উদযাপন করতে সেমাই চিনি কেনার  সামর্থ্যটুকুও নেই অনেক জেলের। পরিবারের ছোট ছোট বাচ্চাদের কিনে দিতে পারেনি  ঈদের কোন নতুন পোশাক। জেলে পল্লীতে নেই কোন ঈদের প্রস্তুতি। সরকারি সহায়তার প্রত্যাশা কয়েক হাজার জেলে পরিবারের।

ঈদুল ফিতর মুসলমানদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসবে সব শ্রেনী পেশার মানুষ ছেলে মেয়ে থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবার মনে বইছে ঈদের আনন্দ। পরিবারের জন্য নতুন পোশাক ও সেমাই ক্রয়-করা ঈদের আনন্দের একটি অংশ কিন্তু এই ঈদের আমেজ পিরোজপুরের মৎস্য পল্লীর কয়েক হাজার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দেখা মিলছে না।

পিরোজপুর জেলার পাড়েরহাট মৎস্য পল্লীতে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ পরিবারের সদস্যদের জন্য ঈদের জন্য কেনা হয়নি নতুন কোন কাপড়। এমনকি কেনা হয়নি সেমাই, চিনি, দুধসহ অন্যান্য জিনিসপত্র। পহেলা মার্চ থেকে দুই মাসব্যাপী জাটকা সংরক্ষণ অভিযান শুরু হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছে কয়েক হাজার জেলে। অবরোধ শুরু হওয়ায় কয়েক হাজার জেলে কর্মহীন হয়ে পড়ায় ঈদের আনন্দ অর্থহীন হয়ে গিয়েছে তাদের।

জেলে পল্লীর কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, অবরোধের কারণে তারা কর্মহীন থাকায় তাদের হাতে কোন অর্থ নেই। তাই তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য নতুন জামা কাপড় কিংবা চিনি সেমাইসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পারেনি জেলেরা।

পিরোজপুর সদর উপজেলার ৭ নং শংকরপাশা ইউনিয়নের বাদুরা গ্রামের জেলে পল্লীর অধিকাংশ জেলে বেকার সময় পার করছেন। কেউ কেউ জাল সেলাই, কেউবা নৌকা মেরামতের কাজে ব্যস্ত। আবার অনেকেই অন্য কাজের সন্ধানে শহরে পাড়ি জমিয়েছেন। সরকারি উদ্যোগে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় নিবন্ধিত জেলেদের চার মাসের প্রতি মাসে ৪০ কেজি চাল সরবরাহ করা হচ্ছে যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।

জেলে পরিবারের সদস্য সুমাইয়া আক্তার বলেন, একে তো অবরোধ তারপরে ঈদ। আমাদের পরিবারের দুইজন পুরুষ মাছ ধরে। দুইজনেই বর্তমানে অলস সময় কাটায়। মাছ ধরতে না পারায় হাতে কোন টাকা নেই, তাই বাচ্চাদের জন্য ঈদে কোন জামা কাপড় কিনে দিতে পারি নাই। ঈদের দিনে একটু যে সেমাই রান্না করমু সেই টাকাও নাই। 

জেলে আউয়াল শেখ বলেন, মাছ ধরতে সাগরে যেতে পারি না। একটু নদীতে মাছ ধরতাম তাও সরকার দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। অন্য কোন কাজ না থাকায় হাতে কোন টাকা নেই। বাচ্চাকাচ্চার জামা কাপড় কিনে দেবো ঈদে সেই টাকাও নাই। জামা কাপড় কেনার টাকা তো দূরের কথা ঈদের দিন যে একটু নুডুলস কিনবো বা মাংস কিনবো সেই টাকাও নাই। সরকার যদি আমাদের সহযোগিতা করতো তাহলে ভালো হতো।

জেলে মাসুম হোসেনের স্ত্রী উর্মি বলেন, বাচ্চাকাচ্চা খাবারের জন্য চিল্লাপাল্লা করে কিন্তু তাদের ঠিকমতো খাওয়াতে পারিনা। ঘরে চাল নাই, ঈদের জামা কাপড় আসবে কোথা থেকে। সরকার যে ৪০ কেজি চাল দেয় তা দিয়ে কয়দিন যায়। ঈদের দিন দরজা দিয়ে ঘরে বসে থাকা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। আমাদের সেমাই কেনার সামর্থ্য নেই, বাচ্চাদের জন্য কিছু কিনতে পারিনি।

পিরোজপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্নামত বলেন, পিরোজপুরে জাটকা সংরক্ষণ এবং অবৈধ জাল নির্মূল কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জেলায় ১৮ হাজার ২ শত ৫০ জন জেলেকে ২৯ শত ২০ মেট্রিক টন চাল বিতরণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

কর্মহীন জেলেদের সরকারি সহায়তায় ঈদ পণ্য সামগ্রী বিতরণের দাবি জানিয়েছেন কয়েক হাজার জেলে পরিবার।

এম.কে

×