ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২

তিস্তায় হামলাকারীদের ধরতে যৌথ অভিযান

স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী

প্রকাশিত: ১৭:৩৯, ২০ মার্চ ২০২৬

তিস্তায় হামলাকারীদের ধরতে যৌথ অভিযান

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদী থেকে বোমা মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে গিয়ে পুলিশ ও ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি পাথর উত্তোলন কাজে ব্যবহৃত বোমা মেশিনসহ সকল সরঞ্জাম জব্দ করে বিনষ্ট করেছে  উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে যৌথবাহিনীর একটি দল।

আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ডিমলার তিস্তাপাড়ের বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। 

এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো ইমরানুজ্জানের নেতৃত্বে ৫১ বিজিবির ৬৩ জন, পুলিশের ৪০ জন ও আনসার বাহিনীর ১০ জন সদস্য অংশ নেয়।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদী থেকে একটি চক্র অবৈধভাবে সিক্স সিলিন্ডার বোমা মেশিন বসিয়ে পাথর উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছিলেন। সেটি বন্ধে উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করলেও প্রভাবশালী চক্রটি তা বন্ধ করেনি। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন গ্রাম পুলিশদের সঙ্গে নিয়ে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে যায়। এ সময় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকারী বোমা মেশিনের মালিকদের সন্ত্রাসী বাহিনী তাদের ওপর হামলা চালায়। সেখানে ডিমলা থানা পুলিশ এবং সাংবাদিক গেলে তাদেরও ওপর হামলা করে সন্ত্রাসীবাহিনীরা। এমন কি পুলিশের গাড়ী ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান,৭ জন পুলিশ সদস্য সহ  ১৭ জন আহত হয় । আহতদের মধ্যে ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন সহ ৭ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত পুলিশ সদস্যরা ডিমলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় রাতে ডিমলা থানায় চারটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। অভিযানে হামলার সাথে জড়িত এমন ৬ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

অপর দিকে শুক্রবার  সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তিস্তা নদীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬ টি বোমা মেশিন, ৬ টি পাইপ, ৩০০ টি প্লাস্টিক ড্রাম এবং ১৯ টি পাথর উত্তোলনের লোহার ছাকনিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করে বিনষ্ট করে প্রশাসনের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী। অভিযানের নেতৃত্ব দেন ডিমলা ইউএনও মোঃ ইমরানুজ্জামান, ৫১ বিজিবির উপ অধিনায়ক এ এফ এম জুলকার নাঈম,ডিমলা থানার ওসি শওকত আলী।
ডিমলা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী বলেন, চেয়ারম্যান পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে গেলে, গ্রাম পুলিশ, থানা পুলিশের সদস্য, সাংবাদিক  সবার ওপর পাথর উত্তোলনকারীরা  হামলা চালায়। পুলিশের গাড়ী ভাঙচুর করে এতে ১৭ জন আহত হয়৷ পরে ঘটনার  রাতে থানায় পৃথক ৪ টি মামলা হয়েছে এবং ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা বাকি আসামীদের গ্রেপ্তার করতে চেষ্টা করছি।

৫১ বিজিবির উপ অধিনায়ক মেজর এ এফ এম জুলকার নাঈম জানান, নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান ও ৫১ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোঃ সেলিম আলদীন   এর যৌথ আলোচনার সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা অনুযায়ী  অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্য ও ডিমলা নির্বাহী কর্মকর্তার সমন্বয়ে যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করে তিস্তা নদীতে অবৈধ বোমা মেশিন ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি ধ্বংস করা হয়। এমন অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।

এবিষয়ে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো ইমরানুজ্জান বলেন, গতকালের ঘটনার পর আজকে বিজিবি, , পুলিশ সবার সহায়তায় তিস্তার চরের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে পাথর উত্তোলনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। তিস্তা নদী হতে পাথর উত্তোলন বন্ধে সকল ধরনের ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এছাড়াও ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা পাথর উত্তোলনকারীদের আইনের আওতায় আনতে সহায়তা করছেন।

রাজু

×