ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

সৈয়দপুরে জ্বালানি তেল সংকটে বিপাকে ফিলিং স্টেশন মালিকরা

নিজস্ব সংবাদদাতা, সৈয়দপুর, নীলফামারী

প্রকাশিত: ২০:২১, ১৫ মার্চ ২০২৬

সৈয়দপুরে জ্বালানি তেল সংকটে বিপাকে ফিলিং স্টেশন মালিকরা

ছবি: জনকণ্ঠ

জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সৈয়দপুরের ফিলিং স্টেশন মালিকরা। এর প্রভাবে গ্রাহকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডাসহ হয়রানির ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ শহরে ইকু, মিথুন, খাদিজা, খালেক, আইয়ুব, চৌমুহনী, রাজা ও নিশাতসহ মোট ১০টি পেট্রোল পাম্প বা ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এসব স্টেশনে আগে নিয়মিতভাবে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা নামে তিনটি ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হতো।

জলপথে আসা তেল পাবনার বাঘাবাড়ি ডিপো এবং পার্বতীপুর তেলের ডিপো ও পাইপলাইনের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সরবরাহ করা হতো। তবে বাঘাবাড়ির পাশ্ববর্তী জেলাগুলোতে সরবরাহ ঠিক রাখতে রংপুর বিভাগের জেলাগুলোতে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়। এতে সৈয়দপুরসহ আশপাশের এলাকায় পার্বতীপুর ডিপোর ওপর নির্ভরতা বেড়ে যায়।

স্থানীয় পাম্প মালিকদের তথ্য অনুযায়ী, সৈয়দপুরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে প্রতিদিন প্রায় ৬০ হাজার লিটার পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন সরবরাহ করা হতো। এসব জ্বালানি বিভিন্ন যানবাহন এবং ডিজেলচালিত কৃষি সেচ পাম্পের চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হতো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে দেশের তেলের বাজারেও।

বর্তমানে পার্বতীপুরের পাইপলাইন ও জলপথে আসা তেলের সরবরাহ মিলিয়ে সৈয়দপুরের পাম্পগুলোতে বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে যেখানে একটি পাম্পে প্রায় ১০ হাজার লিটার পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন প্রয়োজন হতো, সেখানে এখন আগের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।

সরবরাহ কমে যাওয়ায় মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন জ্বালানিচালিত যানবাহনের মালিক এবং খোলা বাজারের বিক্রেতারা তেল সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

রবিবার বিভিন্ন পাম্পে ঘুরে দেখা গেছে, তেলের অভাবে ৯টি পাম্প বন্ধ। খোলা ছিল ওয়াবদা মহাসড়ক এলাকার খাদিজা ফিলিং স্টেশন। সেখানে মোটরসাইকেল চালক ও কৃষকরা স্যালো মেশিনের জন্য সারিবদ্ধভাবে তেল কিনছেন।

তবে প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া নিয়মে প্রতিজনকে দেওয়া হচ্ছে মাত্র একশত টাকার তেল। এ নিয়ে মোটরসাইকেল চালকরা পাম্পের কর্মচারীদের সঙ্গে তর্ক করছেন।

তেল গ্রাহকদের অভিযোগ, সামান্য এ তেলে মোটরসাইকেল চালিয়ে চাকরি, ব্যবসা বা মার্কেটিং কাজ করা সম্ভব নয়। আকিব নামে এক কাপড় ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, আমাকে মোটরসাইকেলে দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড় ও রংপুরে যেতে হয়। এই সামান্য তেল দিয়ে অর্ধেক রাস্তায় তেল ফুরিয়ে যাবে। তখন কী হবে?

মাসুদরানা নামে ওই ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী অভিযোগ করেন, এই সংকটকালে অসাধুরা বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন থেকে প্রতিদিন তেল নিয়ে মজুদ করছেন। তারা গ্রামের খোলা বাজারে দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছে। এতে সাধারণ গ্রাহকরা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।

আতঙ্কে অনেকে প্রতিদিন বিভিন্ন পাম্প থেকে তেল নিচ্ছেন। এতে অপারগতা জানালে অনেক সময় গ্রাহকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হচ্ছে। আবার ওই গ্রাহকরা ফিলিং স্টেশন মালিকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়ে অভিযান চালাচ্ছেন। এ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সৈয়দপুরের জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা।

খাদিজা ফিলিং স্টেশনের মালিক আব্দুস সামাদ বলেন, “তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় আমাদের প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে। তার ওপর কিছু গ্রাহক উল্টাপাল্টা অভিযোগ করে প্রশাসনের কাছে নালিশ করছেন, এতে আমরা হয়রানির শিকার হচ্ছি। মাপ ও মান ঠিক থাকার পরেও শুধু ক্যালিব্রেশন চার্ট দেখাতে দেরি হওয়ায় আমাদের জরিমানা করা হয়েছে। এটা কোনো অপরাধ নয়। তারপরও জরিমানা করা হয়েছে। এতে আমার সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, পরিস্থিতির প্রতিবাদে ফিলিং স্টেশন মালিকরা কঠোর কর্মসূচির কথা ভাবলেও দেশের বর্তমান অবস্থা ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আপাতত আন্দোলন থেকে সরে এসেছেন।

শহীদ

×