ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

বাঙলা কলেজ ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে সীরাত প্রতিযোগিতা: বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট ও নগদ পুরস্কার

‎বাঙলা কলেজ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩:১৫, ১১ মার্চ ২০২৬; আপডেট: ২৩:১৫, ১১ মার্চ ২০২৬

বাঙলা কলেজ ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে সীরাত প্রতিযোগিতা: বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট ও নগদ পুরস্কার

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর আগ্রহ সৃষ্টি এবং সীরাত চর্চাকে উৎসাহিত করতে রাজধানীর সরকারি বাঙলা কলেজ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে সীরাত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় দুটি ক্যাটাগরিতে বিজয়ী ১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মোট ৩০ হাজার টাকা নগদ অর্থ ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়েছে।

‎বুধবার সকালে রাজধানীর মিরপুরের পাইকপাড়ায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর পশ্চিম ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবু তাহের, সেক্রেটারি মুহিবুল্লাহ আল হুসাইনী এবং মিডিয়া সম্পাদক ওসামা বিন মাহফুজ।

‎অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সরকারি বাঙলা কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুর রহমান সাকিব। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কলেজ শাখার সেক্রেটারি আরিফ বিল্লাহ। এ সময় সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ রায়হান হোসাইন, আবু রায়হান, মোতাসিম বিল্লাহ, জাহিদুল ইসলাম ও দেলোয়ার হোসেনসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

‎কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে পরিবেশিত হয় ইসলামী সংগীত। এরপর মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা করেন ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবু তাহের ও সেক্রেটারি ‌ মুহিবুল্লাহ আল হুসাইনী।

‎মহানগর পশ্চিমের সভাপতি আবু তাহের বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন শুধু মুসলমানদের জন্য নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্য এক অনন্য আদর্শ। তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে রয়েছে মানবতা, ন্যায়বিচার ও নৈতিকতার শিক্ষা। তরুণ প্রজন্ম যদি সীরাত অধ্যয়নের মাধ্যমে এই শিক্ষা নিজেদের জীবনে ধারণ করতে পারে, তাহলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে

‎তিনি আরও বলেন এই ধরনের উদ্যোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের আয়োজন করা হলে আরও বেশি শিক্ষার্থী মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে।

‎উচ্চমাধ্যমিক (একাদশ-দ্বাদশ) বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন মানবিক বিভাগের আব্দুল্লাহ আল মামুন। দ্বিতীয় হন বিজ্ঞান বিভাগের হানিফ মিয়া। তৃতীয় হন বিজ্ঞান বিভাগের সোহানুর রহমান। চতুর্থ হন মানবিক বিভাগের সালমান ফারসি জিম এবং পঞ্চম হন ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের মো. সিহাম দেওয়ান।

‎অন্যদিকে স্নাতক বিভাগে প্রথম হন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের রাফসান। দ্বিতীয় হন একই বিভাগের কায়কোবাদ। তৃতীয় স্থান অর্জন করেন গণিত বিভাগের সিদ্দিকুর রহমান। চতুর্থ হন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের নুর আলম এবং পঞ্চম হন ইসলামী ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের তাকিয়া নুজহাত।

‎বিজয়ী শিক্ষার্থীরা জানান, সীরাত নিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে তারা মহানবী (সা.) এর জীবন ও আদর্শ থেকে গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক ও মানবিক শিক্ষা লাভ করেছেন, যা তাদের ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব ফেলবে।

‎বিজয়ী শিক্ষার্থী ইসলামী ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের তাকিয়া নুজহাত বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানব। তাঁর জীবন ও আদর্শ মানবতার জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত। আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা এবং সেই আদর্শ নিজেদের জীবনে ধারণ করা। বাঙলা কলেজে ইসলামী ছাত্রশিবিরকে ধন্যবাদ জানাই এমন একটি জ্ঞানভিত্তিক ও অনুপ্রেরণামূলক আয়োজন করার জন্য। এ ধরনের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রিয় নবীজি (স.)‌ এর জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে আমাদের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পায়।

‎বিজয়ী শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিকের বিভাগের আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সীরাত প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গিয়ে আমরা মহানবী (সা.)-এর জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ দিক সম্পর্কে জানতে পেরেছি। তাঁর জীবন থেকে আমরা নৈতিকতা, সততা ও মানবিকতার শিক্ষা পাই। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের শুধু জ্ঞানই বাড়ায় না, বরং তাদের নৈতিক ও মানসিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

‎সভাপতির বক্তব্যে বাঙলা কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুর রহমান সাকিব বলেন,‌ আমরা চেষ্টা করি শিক্ষার্থীদের জন্য এমন কার্যক্রম নিয়মিত আয়োজন করতে, যাতে তারা নৈতিক ও আদর্শিক চেতনা নিয়ে গড়ে উঠতে পারে। এ ধরনের প্রতিযোগিতা শুধু মেধার পরীক্ষা নয়, বরং একটি শিক্ষণীয় এবং অনুপ্রেরণামূলক প্ল্যাটফর্ম। সীমিত সামর্থ্যের কারণে সবাইকে পুরস্কৃত করা সম্ভব না হলেও আমরা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চাই।

‎উল্লেখ্য যে, এর আগে মহানবী (সা.) এর জীবন সম্পর্কে ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। এতে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। সেখান থেকে নির্বাচিত বিজয়ীদের মধ্যে উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক এই দুই বিভাগে মোট ১০ জন শিক্ষার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

‎অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে নগদ অর্থ ও ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিরা।

×