ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

মরা গাছে কুয়াকাটা সৈকত সয়লাব

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া, পটুয়াখালী

প্রকাশিত: ২২:৩৮, ২০ মে ২০২৪

মরা গাছে কুয়াকাটা সৈকত সয়লাব

কুয়াকাটায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির সংরক্ষিত বনাঞ্চল

সুপার সাইক্লোন সিডর থেকে পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের অস্বাভাবিক জোয়ারের তা-বে কুয়াকাটায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ম্যানগ্রোভ প্রজাতির প্রাচীন গাছগুলোতে যেন মড়ক লেগেছে। সৈকতের কুয়াকাটা এবং গঙ্গামতি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের হাজারো মৃত গাছ বিবর্ণ হয়ে কঙ্কালের মতো দাঁড়িয়ে আছে। এসব গাছ আবার কেটে নিয়ে যাচ্ছে এক শ্রেণির মানুষ। কেউ কেউ মরা গাছে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে ফেলছে।

সাগরে ভেসে গেছে হাজারো গাছ। বন বিভাগের উদাসীনতা আর নানামুখী প্রাকৃতিক সমস্যায় কুয়াকাটা-গঙ্গামতির সংরক্ষিত বনাঞ্চল এখন হুমকির মুখে পড়েছে। আর এ কারণে এখানকার উপকূলীয় মানুষের জলোচ্ছ্বাসকালীন সবুজ দেওয়াল বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এই ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে জলোচ্ছ্বাসকে প্রাথমিকভাবে বাধাগ্রস্ত করে আসছে।
স্থানীয় বাসিন্দাসহ সাগরপারের জেলেরা বলেছে ঢেউয়ের তা-বে গাছের শেকড় উপড়ে মরে যাচ্ছে। প্রবীণ জেলে ও স্থানীয়রা বলছেন শ^াসমূল বালিতে চাপা পড়ায়ও মারা পড়ছে গাছগুলো। আর বনদস্যুদের তা-ব তো আছেই। বহুমুখী সমস্যায় কুয়াকাটা-গঙ্গামতির সংরক্ষিত গোটা বনাঞ্চলটি এখন হুমকির মুখে পড়েছে। পরিবেশ প্রতিবেশের বিরূপ প্রভাবের পাশাপাশি বন বিভাগের উদাসীনতায় সবচেয়ে বেশি বনাঞ্চল ধ্বংস হয়ে গেছে বলে সেখানকার সাধারণ মানুষের দাবি।

কুয়াকাটা বিট থেকে গঙ্গামতি লেকের দুই দিকে প্রায় ছয় কিলোমিটারজুড়ে হাজারো মরা গাছে সয়লাব হয়ে আছে। এসব গাছগুলো আবার এখন এক শ্রেণির বনদস্যুরা কেটে সাবাড় করছে। যে হারে সংরক্ষিত বনের ম্যানগ্রোভ প্রজাতির প্রাচীন গাছগুলো মারা পড়ছে তাতে আগামী দশ বছরে গোটা এলাকা বিরাণভূমিতে পরিণত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কলাপাড়া উপজেলায় বন বিভাগের মোট আয়তন ১০ হাজার ১৭৭ দশমিক ১১ একর।

এর মধ্যে সংরক্ষিত বনাঞ্চল রয়েছে তিন হাজার নয় শ’ ৭৮ দশমিক ৩৩ একর। যার মধ্যে কুয়াকাটা বিটে ১৯৩ একর। কুয়াকাটা ক্যাম্পের অধীন ১৮১৮ দশমিক ৯৩ একর। গঙ্গামতি ক্যাম্পে ১১২৮ একর। খাজুরা ক্যাম্পে ৩৪৬ দশমিক ৮৭ একর এবং ধুলাসার ক্যাম্পের অধীন ৪৬১ দশমিক ৫৩ একর সংরক্ষিত বনাঞ্চল থাকার কথা। এ ছাড়াও ফুলবুনিয়া, বালিয়াতলী ও লালুয়া বাগান কেন্দ্র করা হয়, যেখানে বনায়ন করা হয়।

বর্তমানে সত্যিকারে কী পরিমাণ বনাঞ্চল আছে, আর কী পরিমাণ সাগরে বিলীন হয়েছে এর বাস্তব কোনো তথ্য বন বিভাগের এখানকার কোনো রেঞ্জ কর্মকর্তা কিংবা বিট কর্মকর্তা সঠিকভাবে জানাতে পারেননি। আর মরা গাছ কেন কাটা রোধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না তাও যেন এসব কর্মকর্তার জানা নেই। তবে গঙ্গামতির বিট কর্মকর্তা জানান তারা প্রায় ৮৫ একর বেলাভূমে ম্যানগ্রোভ-নন-ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনাঞ্চল সৃজন করেছেন। চারাগুলো বেড়ে উঠেছে।

×