ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১

প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির বিরুদ্ধে স্কুলের গাছ বিক্রির অভিযোগ!

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাকেরগঞ্জ 

প্রকাশিত: ১৯:৪৪, ১৯ মে ২০২৪

প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির বিরুদ্ধে স্কুলের গাছ বিক্রির অভিযোগ!

কেটে ফেলা হয়েছে স্কুলের গাছ। 

বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরাদি ইউনিয়নের ফজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির বিরুদ্ধে স্কুলের গাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্তরা হলেন- প্রধান শিক্ষক মো. আনিসুর রহমান ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মো. ফারুক হোসেন মল্লিক, সদস্য মো. আবু জাফর ও সদস্য হাবিবুর রহমান মৃধা। সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করেই বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রি করে পকেটস্থ করেছেন তারা। 

প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি দেশের বাহিরে অবস্থান করার সুযোগে গত ১৪ ও ১৫ মে বিদ্যালয়ের লক্ষাধিক টাকা মূল্যের মেহগনি ও রেইনট্রি গাছ স্থানীয় নাসির ব্যাপারি নামের এক কাঠ ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেন। বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রি সংক্রান্ত কোন তথ্যই জানেন না কমিটির সভাপতি আমেরিকায় অবস্থানরত শফিকুল ইসলাম। এ বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয় ও আশপাশ এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

প্রতক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসীন্দারা জানান, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম দেশের বাহিরে অবস্থান করায় সেই সুযোগে প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির কয়েকজন সদস্যরা বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের পুকুরপাড় সংলগ্ন বিশালাকার বেশ কিছু রেইনট্রি গাছ ও ১২টি মেহগনি গাছ বিক্রি করে দেন। বিক্রয় করা গাছ থেকে একটি রেইনট্রির অর্ধেক অংশ কেটে ফেলেছে ও ১২টি মেহগনি পুরোপুরি কেটে ফেলা হয়েছে। কাটা গাছগুলি এখন পুকুরপাড়ে পড়ে রয়েছে। 

স্থানীয় বারেক হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, ‘ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ফারুক হোসেন মল্লিক করোনা কালীন সময়ে ১২নং হলতা বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি দায়িত্বে থেকে ১৩টি মেহগনি গাছ বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করে। তখন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাইনুল ইসলাম বাকেরগঞ্জ থানায় তার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এখন আবার ফজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রি করেছে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমি গাছ বিক্রি করিনি গাছ বিক্রি করেছে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা।’ 

এ বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের কাছে মুঠোফোনে ফোন করলেও তারা ফোন রিসিভ করেনি। 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তপন কুমার জানান, বিদ্যালয়ের গাছপালা বিক্রি বিষয়ে আমার কোনো তদারকি নেই এটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেখবেন। 

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা গাছ বিক্রি করেছে এ রকম একটি তথ্য পাবার পর প্রধান শিক্ষকের নির্দেশ প্রদান করেছি, যেন একটি গাছও কাটা না হয়। সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করেই বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রি করার ঘটনার তদন্ত করে আইন অনুগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এম হাসান

×