ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ০২ অক্টোবর ২০২৩, ১৭ আশ্বিন ১৪৩০

আজ তফসিল

ঢাকা-১৭ আসনে উপনির্বাচন ১৭ জুলাই

শরীফুল ইসলাম

প্রকাশিত: ২৩:০৯, ৩১ মে ২০২৩

ঢাকা-১৭ আসনে উপনির্বাচন ১৭ জুলাই

ওয়াকিল উদ্দিন, কাদের খান, পরশ, জসিম উদ্দিন নিচে- শেখ ফাহিম, অন্তরা হুদা, আলমগীর, ফেরদৌস

চিত্রনায়ক আকবর হোসেন খান পাঠান (ফারুক)-এর মৃত্যুতে শূন্য হওয়া ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচন ১৭ জুলাই। নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে জানানো হয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার এ উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হচ্ছে। এদিকে রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান, বারিধারা, বনানী, ক্যান্টনমেন্ট নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের এ আসনটিতে নির্বাচন করতে ইতোমধ্যেই দেড় ডজন সম্ভাব্য প্রার্থী দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। 
ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে অংশ নিতে ইতোমধ্যেই যারা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের দুই সহ-সভাপতি ওয়াকিল উদ্দিন আহমেদ ও কাদের খান, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের বর্তমান সভাপতি জসিম উদ্দিন, সাবেক সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, চিত্রনায়ক আলমগীর, ফেরদৌস ও প্রয়াত ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার মেয়ে তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান অন্তরা হুদা, সাবেক এমপি এইচ বি এম ইকবাল, দেশের সেরা ক্রিকেট তারকা সাকিব আল হাসান, এই আসন থেকে ২০১৪ সালে নির্বাচিত এমপি ন্যাশনালিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ।

এ ছাড়াও এ আসনে আরও যারা নির্বাচন করতে আগ্রহী বলে শোনা যাচ্ছে তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ, যদিও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেননি। বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান শাহ আলমেরও এ আসনে নির্বাচন করার আগ্রহ রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানায়। তবে তিনি নিজে এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রহ প্রকাশ করেননি। এ ছাড়াও অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমানসহ আরও অন্তত পাঁচজন দৌড়ঝাঁপ করছেন বলে জানা যায়। 
১৫ মে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান চিত্রনায়ক আকবর হোসেন খান পাঠান (ফারুক)। মারা যাওয়ার পর ঢাকা-১৭ আসন শূন্য হয়। নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয় ১৭ জুলাই ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর আজ বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দুই-একদিনের মধ্যেই এই আসনের উপনির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহীদের মধ্যে দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু করবে। তবে রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এ নির্বাচনে অংশ নেবে না। তবে ভালো কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী অংশ নিলে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের মতো এখানেও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে বলে সূত্র জানায়। 
এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ফজলে ফাহিম অন্যতম। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ছেলে। তাঁর চাচাত ভাই যুবলীগের চেয়ারম্যান এবং শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশও রাজধানীর অভিজাত এলাকার এই সংসদীয় আসনে নির্বাচন করতে চান। তার পক্ষে গুলশান-বনানী এলাকায় পোস্টারও সাঁটানো হয়েছে। এফবিসিসিআইয়ের বর্তমান সভাপতি জসিম উদ্দিন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে লবিং চালাচ্ছেন বলে জানা যায়। তবে তাঁর ভাই মোরশেদ আলম নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য। ফলে একই পরিবারে আরেকজনকে রাজধানীর এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছে।
ঢাকা-১৭ আসনে মনোনয়ন পেতে সবচেয়ে বেশি দৌড়ঝাঁপ করছেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ওয়াকিল উদ্দিন আহমেদ ও কাদের খান। এর মধ্যে ওয়াকিল উদ্দিন গত দেড় দশকে পরপর তিনবার চেষ্টা করেও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পাওয়ায় নির্বাচন করেননি। এরপরও তিনি থেমে থাকেননি। দলীয় কর্মসূচি পালনে নিয়মিত রাজপথে থাকার পাশাপাশি এই সংসদীয় এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশগ্রহণ করেছেন। নিজ অর্থায়নে এই এলাকায় তিনি স্থাপন করেছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াকিল উদ্দিনের পূর্বপুরুষরা গুলশান এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ায় জন্মসূত্রেই তিনি এই এলাকার এক প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান।

এ ছাড়া ছাত্রজীবন থেকে গুলশান এলাকায় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৭৪ সালে বৃহত্তর গুলশান থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ও ১৯৭৫ সালে এই থানা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। এক সময় ছিলেন গুলশান থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এরপর ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বও পালন করেন। এ কারণে পুরো সংসদীয় এলাকার প্রতিটি মহল্লায় তার বিপুল সংখ্যক অনুসারী রয়েছে। ওয়াকিল উদ্দিন আহমেদ স্বদেশ প্রপার্র্টিস লিমিটেড ও স্বদেশ গ্লোবাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বারিধারা অ্যাগ্রো অ্যান্ড ফুড প্রসেসিং লিমিটেডের চেয়ারম্যান। তিনি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান পরিচালক।
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের আরেক সহ-সভাপতি কাদের খানও দীর্ঘদিন স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় এলাকার সর্বস্তরের মানুষের কাছে তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। তাই তিনি ঢাকা-১৭ আসনে প্রার্থী হতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। অন্য যারা প্রার্থী রয়েছেন তাদেরও নিজ নিজ অবস্থানে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তাই বিএনপি এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বিধায় আওয়ামী লীগ থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে তিনিই নির্বাচিত হবেন বলে এলাকাবাসী মনে করছেন। তবে বর্তমান সংসদের আর মাত্র পাঁচ মাস সময় বাকি থাকায় পরবর্তী নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে প্রার্থী দেওয়া হলে যে প্রার্থীর পুরো এলাকায় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ আছে এমন প্রার্থীকে প্রাধান্য দেওয়াই উত্তম হবে বলে ঢাকা-১৭ আসন এলাকার ভোটাররা মনে করছেন। 
উল্লেখ্য, গুলশান, বনানী, ক্যান্টনমেন্ট ও ভাষানটেক থানা এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৭ আসনটিতে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের বর্তমান সহ-সভাপতি ওয়াকিল উদ্দিন ও কাদের খানসহ আরও ক’জন। তখন মহাজোট থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয় জাতীয় পার্টির তৎকালীন চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদকে। এরশাদ বিএনপির প্রার্থী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হান্নান শাহকে হারিয়ে নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে আবারও এরশাদ এই আসন দাবি করেন। তখনও ওয়াকিল উদ্দিন ও কাদের খান আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চান। কিন্তু ২০১৪ সালের নির্বাচনে ন্যাশনালিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদকে মহাজোট থেকে এ আসনটি দেওয়া হয় এবং তিনি এমপি নির্বাচিত হন।

২০১৮ সালের নির্বাচনে আবারও ওয়াকিল উদ্দিন ও কাদের খান ঢাকা-১৭ আসন থেকে মনোনয়ন চান। কিন্তু নানা সমীকরণে শেষ পর্যন্ত এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান নায়ক আকবর হোসেন খান পাঠান (ফারুক)। তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার কিছুদিন পর থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যান। সেখানে দেড় বছর চিকিৎসা নেওয়ার পর এ বছর ১৫ মে মারা যান।