ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১

স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন ইকবাল 

নিজস্ব সংবাদদাতা,দাউদকান্দি,কুমিল্লা

প্রকাশিত: ১১:৫২, ৫ মে ২০২৩

স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন ইকবাল 

তিতির খামারে ইকবাল হোসেন

কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে তিতির পাখি পালন করা হচ্ছে ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের চুনারচর গ্রামের একটি খামারে। খামারে তিতির পাখিকে কোর্ট পরা পেঙ্গুইনের মতো ঘুরতে দেখা যায়। তিতির পাখির ডাকে মুখর চারপাশ। 

উপজেলার মধ্যে এটি দ্বিতীয় খামার। আত্মপ্রত্যয় ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সেই একজোড়া তিতি পাখি এখন হয়ে উঠেছে দুই'শ তিতি পাখির একটি খামার। আর এক সময়ের বেকার যুবক ইকবাল হোসেন হয়ে উঠেছেন একজন সফল খামারী।

তিতির পাখি ও ডিম কিনতে এবং দেখতে ওই খামারে মানুষের পদচারণা দেখে উৎফুল্ল খামারি ইকবাল হোসেন৷

তরুণ উদ্যোক্তা মো. ইকবাল হোসেন সে উপজেলার ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের চুনারচর গ্রামের কামাল হোসেনের চার ছেলের মধ্যে তিনি চতুর্থ। সৌদি আরব ৪ বছর পারি জমিয়ে দেশে ফিরে ইউটিউব থেকে দেখে তার নিজ গ্রাম চুনারচর কবরস্থানের পাশে পরিবারের সহযোগিতায় তিতি পাখির খামার করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন ইকবাল হোসেন।

উদ্যোক্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ২০২১ সালে একজোড়া পাখি এনে আর কিছু ডিম ক্রয় করে তা নিজ খামারে বাচ্চা ফুটিয়ে লালন পালন শুরু করেন। অনেকে তিতির খাওয়ার জন্য কেনেন। মাংসের স্বাদ ভালো ও শৌখিন মানুষজন পালন করে থাকেন। প্রতি জোড়া দুই থেকে তিন হাজার টাকা। তার খামারে বর্তমানে দুইশত'র বেশি তিতির পাখি রয়েছে বর্তমানে ডিমও দিচ্ছে।

তিনি বলেন, তিতি আসলে পাখি নয় এটি চীনা মুরগী। তাই বনমোরগের মতো তিতি মুরগীও উড়তে পারে। তিতির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুব বেশি বিধায় তেমন রোগ বালাই হয় না। ডিম থেকে বাচ্চা হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে তিতি ডিম দিতে শুরু করে। ৬ মাসে একটি পুরুষ তিতির ওজন হয় দুই কেজি এবং স্ত্রী তিতির ওজন দেড় কেজি হয়। 

তিনি আরোও বলেন, আমাদের দেশের অনুকূল আবহাওয়া ও পরিবেশে তিতি পাখি পালন অন্যান্য দেশের তুলনায় সহজ।তিতির খাবারের জন্য কোনো সমস্যা হয় না। গম ধান দানাদার থেকে কলমির শাক বাঁধাকপি বেশি পছন্দ করে এবং মাংস উৎপাদনের জন্য দানাদার খাবার দিতে হয়। 

উপজেলা ভেটেনারি ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হেলাল উদ্দিনের পরামর্শ নিয়ে তিনি এই খামার পরিচর্যা করছেন বলে জানায়৷

এসআর

×