ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৩ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

রাবির ৩ শিক্ষার্থীকে উন্নত চিকিৎসার্থে ঢাকায় স্থানান্তর

রাবি সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০০:৪৫, ১৫ মার্চ ২০২৩

রাবির ৩ শিক্ষার্থীকে উন্নত চিকিৎসার্থে ঢাকায় স্থানান্তর

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর ‘স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের হামলার’ প্রতিবাদে খালি পায়ে দাঁড়িয়ে কর্মসূচি পালন করেন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আহত তিন শিক্ষার্থীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। চোখের রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মঙ্গলবার সকালে তাদের ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হামলা ও পুলিশের গুলি চালানোর প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিশ^বিদ্যালয়ের জোহা চত্বরে নীরব প্রতিবাদ করেন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন খান। এর আগে, সোমবার রাতে শিক্ষার্থীদের রেললাইনের অবরোধের ঘটনায় চুরির মামলা দেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, সংঘর্ষের চতুর্থ দিনে মঙ্গলবার বিশ^বিদ্যালয়ে যথারীতি ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন কোনো ঘটনা ঘটতে দেখা যায়নি। সংঘর্ষস্থল বিনোদপুরেও দোকানপাট খুলতে শুরু করেছে। এই এলাকার আবাসিক মেসগুলোতে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরাও সকাল থেকে ক্যাম্পাসে যাতায়াত করেছেন। এছাড়া বিশ^বিদ্যালয় সংলগ্ন ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে স্বাভাবিক হয়েছে গাড়ি চলাচল। তবে মঙ্গলবারও ক্যাম্পাসের আশপাশে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি দেখা গেছে।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১১ মার্চ সংঘর্ষের পর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৯২ শিক্ষার্থীর অধিকাংশই রবি ও সোমবার ছাড়পত্র পায়। এদের মধ্যে রাকিবুল হাসান নামে এক শিক্ষার্থীকে গুরুতর অবস্থায় আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। পরে তার অবস্থা শঙ্কামুক্ত হওয়ায় সাধারণ ওয়ার্ডে আনা হয়। সংঘর্ষের রাতেই ছয় শিক্ষার্থীকে চক্ষু বিভাগে ভর্তি করে চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়।

এদের মধ্যে তিন শিক্ষার্থীকে মঙ্গলবার সকালে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়। তারা হলেন ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী মেসবাহুল ইসলাম সায়েম, আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আল আমিন ও মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আলিমুল সাকিব।
রামেকের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফএম শামীম আহাম্মদ জানান, তিন ছাত্রের চোখের ‘ভিট্রিয়ল রেটিনাল ইনজুরি’ হয়েছে। রাজশাহীতে এর চিকিৎসা সম্ভব না হওয়ায় তাদের ঢাকায় জাতীয় চক্ষু ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা এম. তারেক নূর জানান, শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসার ব্যয়ভারও বহন করা হবে।

×