ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০

পঞ্চগড়ে স্বল্প খরচে মিলছে সেচের পানি

স্টাফ রিপোর্টার, পঞ্চগড়

প্রকাশিত: ২২:২৫, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

পঞ্চগড়ে স্বল্প খরচে মিলছে সেচের পানি

মাঠে মাঠে ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত কৃষক

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বেংহারী বনগ্রাম ইউনিয়নের করতোয়া নদী পাড়ের গ্রাম ফুলতলা। এই গ্রামে অন্তত দুই হাজার মানুষের বসবাস। যাদের বেশিরভাগই কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তবে কৃষি জমিতে সেচের পানির সংকট ছিল তাদের অন্যতম প্রধান সমস্যা। একসময় সেচের অভাবে এ গ্রামের বেশিরভাগ জমিতে ফসল ফলানো ছিল কষ্টসাধ্য ব্যাপার। প্রায় সময় কৃষিকাজ ব্যাহত হতো। যা এই গ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছিল।

এ সমস্যা সমাধানে কৃষকদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। সেচ প্রকল্পের আওতায় স্থাপন করেছে ৩টি হাল্কা সেচ পাম্প। স্বল্প খরচে প্রকল্পের সেচের পানি পেয়ে কৃষকেরা নদীর উভয় পাড়ের জমিতে আলু, সরিষা, শিম, পিঁয়াজ, বেগুনসহ নানা ধরনের সবজি ও  বোরো ধানের চাষাবাদ শুরু করেন। সুদিন ফিরতে শুরু করে এলাকার মানুষের। বদলে যায় গ্রামের মানুষজনের জীবনধারা। পেয়ে খুশি কৃষকরা। প্রকল্পে বদলে যাচ্ছে এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা। এই সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে এই অঞ্চলের কৃষিতে এনেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। ১১০ হেক্টর জমিতে সেচ প্রদান করা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে শতভাগ জমি সেচের আওতায় এসেছে। যার সুফল সরাসরি পাচ্ছেন কৃষকরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠাকুরগাঁও এর উপপ্রধান সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রফিউল বারী বলেন, কৃষিকে আরও লাভজনক ও আধুনিকীকরণে সেচ সুবিধার বিকল্প নেই। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এ কাজে এগিয়ে এসেছে। আমরা কৃষকের সেচ সুবিধায় সেচ প্রকল্পের তিনটি ইউনিটের পাম্পগুলো চালু করেছি। ফলে স্বল্প খরচে সেচ সুবিধা পাচ্ছে চাষিরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বোরো চাষে ব্যস্ত কৃষক
নিজস্ব সংবাদদাতা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে জানান, একযোগে শুরু হয়েছে বোরে চাষ। ভোরে শীত উপেক্ষা করে বাড়ছে কৃষকদের কর্মব্যস্ততা। জমি তৈরি, হালচাষ, বোরো ধানের চারা বীজতলা থেকে ওঠানো শেষে চারা জমিতে রোপণের মতো কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার কৃষক। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বোরো আবাদে তেমন সমস্যা হবে না বলে মনে করছেন স্থানীয় কৃষক।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার বেশিরভাগ ফসলি জমিতে কেউ কেউ ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করছেন। কেউ কেউ স্যালো মেশিন দিয়ে জমিতে পানি দিচ্ছেন, আবার কেউবা ধানের চারা বীজতলা থেকে ওঠাচ্ছেন। বেশকিছু জমিতে আবার অনেকে চারা রোপণ করেছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ দফতর সূত্রে জানা গেছে, এবার বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫১ হাজার ১শ’ ৫০ হেক্টর এবং ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার ৩৬৩ মেট্রিক টন। তবে গত বছর এ মৌসুমে ৫০ হাজার ২শ’ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছিল। এর মধ্যে সদর উপজেলার ১২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমির বিপরীতে চাষাবাদ হয়েছে ৩ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে, গোমস্তাপুরে ১৫ হাজার ৪২০ হেক্টরের বিপরীতে ৩ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে, নাচোলে ৯ হাজার ৯৭০ হেক্টরের বিপরীতে ৫ হাজার ৬০ হেক্টর, শিবগঞ্জে ৭ হাজার হেক্টরের বিপরীতে ২ হাজার ৭৪০ হেক্টর ও ভোলাহাটে ৫ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমির বিপরীতে ৩ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে। 
সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গার কৃষক শরিফ ও গোবরাতলার দুলাল হোসেন জানান, আমন ধানের ফলন এবং ধানের দাম ভাল হওয়ায় এবার তারা বোরো ধানের আবাদ শুরু করেছে। বিঘাপ্রতি জমি কাদা করতে ট্রলির ভাড়া ১ হাজার ২০০ টাকা এবং গভীর নলকূপে সেচের খরচ ১৬শ’ টাকা করে নিচ্ছে। চারা রোপণে একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি দিতে হচ্ছে ৫শ’ টাকা এবং সেই সাথে খাবারও দিতে হয়। 
সারের দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানিয়েছেন কৃষক। তারা বলছেন, এ ধান আবাদে কোনো সমস্যা নেই। তবে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবারে বোরো ধানের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপ-পরিচালক ড. পলাশ সরকার জানান, বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬ হাজার হেক্টর বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূলে থাকলে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে এবার। এজন্য কৃষি বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

×