ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯

কয়রার চরামুখার বাঁধ ভেঙ্গে ৪ গ্রাম প্লাবিত

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা অফিস 

প্রকাশিত: ২০:২৭, ১৪ আগস্ট ২০২২

কয়রার চরামুখার বাঁধ ভেঙ্গে ৪ গ্রাম প্লাবিত

নোনা পানিতে ৪ গ্রাম প্লাবিত

খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চরামুখা গ্রামের রিংবাঁধটির শেষ রক্ষা হলো না। নদীতে অস্বাভিক পানি বৃদ্ধি পাওয়াতে রবিবার (১৪ আগস্ট) বেলা আড়াইটার দিকে ১৫০ মিটার এলাকা ভেঙ্গে যায়। 

এতে নদীর নোনা পানিতে ৪টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া এদিকে মহারাজপুর ইউনিয়নের পবনা, সুতিবাজার, বাগালী ইউনিয়নের শ্যাওড়া পাড়া গুচ্ছগ্রাম, হোগলাসহ কয়রা সদর ইউনিয়ন ও উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের কয়েকটি স্থানের বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে।

স্থানীয়রা জানায়, এর আগে কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধ গত ১৭ জুলাই ভোর রাতে ভাটার টানে ভেঙে যায়। ১৮ জুলাই হাজার হাজার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে রিংবাঁধ দিয়ে পানি আটকাতে সক্ষম হন। কিন্তু এক মাস অতিবাহিত হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড ওই স্থানে তেমন কোন কাজ না করায় জোয়ারের পানির চাপে গত শনিবার দুপুরে রিংবাঁধ ভেঙে পুনরায় প্লাবিত হয় বিস্তীর্ণ জনপদ। 

এলাকবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে ফের পানি আটকাতে সক্ষম হলেও পরের দিন রবিবার রিংবাধ ভেঙ্গে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

স্থানয়ীরা আরও জানায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) গাফিলতির কারণে এ রিংবাঁধ আবারও ভেঙে গেছে। দক্ষিণ বেদকাশীর চরামুখা এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৫০ মিটার রিংবাঁধ শনিবার দুপুরের জোয়ারে ভেঙে যায়। পরে স্বোচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে রিংবাধটি আটকানো হলেও ১৪ আগস্ট দুপুরে আবারও ভেঙ্গে ৪টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে দুই হাজার পরিবার।

দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আছের আলী মোড়ল বলেন, গত কয়েক দিনের বৃষ্টি ফলে রিংবাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ে। যার ফলে জোয়ারের চাপে রিংবাঁধটি ভেঙে যায়। এলাকাবাসী পানি উন্নয়ন বোর্ডের দিকে না তাকিয়ে নিজেদের রক্ষার্থে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গত শনিবার দুই ঘন্টার স্বেচ্ছাশ্রমে পানি আটকাতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু রোববার নদীতে অস্বাভাবিক ভাবে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শেষ রক্ষা করা গেলো না।

সাতক্ষীরা (কয়রার দায়িত্বপ্রাপ্ত) পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শাহনেওয়াজ তালুকদার মুঠোফোনের বলেন, নিম্নচাপের ফলে কপোতাক্ষ নদীতে জোয়ারের পানি অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। 

সে কারণে রিংবাঁধটি ভেঙে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা সে উপস্থিত আছে। ভাটার সময়ে পুনারায় কাজ করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।