২৯ মার্চ ২০২০, ১৫ চৈত্র ১৪২৬, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

মটরশুঁটি, চাল, সমুদ্র-শৈবাল এবং অন্যান্য উপাদান ব্যবহার করে মাংস তৈরি হচ্ছে

প্রকাশিত : ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০১:২৬ পি. এম.
মটরশুঁটি, চাল, সমুদ্র-শৈবাল এবং অন্যান্য উপাদান ব্যবহার করে মাংস তৈরি হচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক ॥ আপনি যদি হিয়ারিং এইড বা কানে শোনার যন্ত্র ব্যবহার করেন, তাহলে আপনার অজান্তেই আপনি থ্রিডি প্রিন্টিংয়ে বিশ্বব্যাপী যে বিপ্লব সাধন হয়েছে, ইতিমধ্যেই তার অংশ হয়ে গেছেন। পৃথিবীতে এখন যত ধরণের হিয়ারিং এইড তৈরি হয়, তার সবই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে। থ্রিডি প্রিন্টিংয়ে প্লাস্টিক, মেটাল বা ধাতব পদার্থ বা রেসিনসহ কয়েক স্তরের জিনিস ব্যবহার করা হয়, যা সবগুলোকে জোড়া দিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ জিনিসের রূপ ধারণ করে। সনোভা নামে হিয়ারিং এইড প্রস্তুতকারী একটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার স্টেফান লনার বলেন, আগে এই হিয়ারিং এইড বানানোর কাজটি হাতে করা হত, যার ফলে অনেক সময় লাগত এবং খরচও বেশি হত।

"কিন্তু এখন অর্ডার পাবার পর একটি পণ্য তৈরি ও সরবারহ করতে কয়েকদিন মাত্র সময় লাগে। আর এটা সম্ভব হচ্ছে থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের কারণে।"

২০ বছর আগে যখন থ্রিডি প্রিন্টিং শুরু হয়, তখনই অনুমান করা হয়েছিল আরো অনেক ক্ষেত্রে এটি বিপ্লব আনতে সক্ষম হবে, বাস্তবে এবং হয়েছেও তাই। যে কারণে ২০১৮ সালে বিশ্বব্যাপী ১৪ লাখ থ্রিডি প্রিন্টার বিক্রি হয়েছে, ২০২৭ সাল নাগাদ এই বিক্রির হার বেড়ে দাঁড়াবে ৮০ লাখে। যেমন দাঁতের চিকিৎসায় বিপ্লব এনেছে এই প্রযুক্তি। ভাঙ্গা দাঁতের মধ্যে সংযোগ জুড়তে এবং ভাঙ্গা দাঁতের ওপর যে ক্যাপ লাগানো হয় এই দুই ক্ষেত্রেই থ্রিডি প্রিন্টিং দারুণভাবে কাজে লাগে। আবার বোয়িং মহাকাশযান, বাণিজ্যিক ও প্রতিরক্ষা বিমানে থ্রিডি প্রিন্ট করা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে। এমনকি ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে একটি থ্রিডি প্রিন্টার আছে, যা দিয়ে খুচরা যন্ত্রাংশ বানানো হয়।

কিন্তু থ্রিডি প্রিন্টার ব্যবহার করে করা অনেক কাজই এত বড় আকারে হয় না। যেমন ধরুন খাবারও থ্রিডি প্রিন্ট করা হতে পারে। বার্সেলোনা ভিত্তিক মাংস ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান নোভা মিট সম্প্রতি একটি নতুন কারখানা চালু করেছে, যেখানে মটরশুঁটি, চাল, সমুদ্র-শৈবাল এবং অন্যান্য উপাদান ব্যবহার করে মাংস তৈরি করা হয়। থ্রিডি প্রিন্টিং এর মাধ্যমে উপাদানগুলোকে আড়াআড়িভাবে জোড়া দেয়া হয়, যা আসল মাংসের কোষের মধ্যে থাকা আভ্যন্তরীণ প্রোটিনের মত করে বানিয়ে ফেলতে পারে। নোভার প্রতিষ্ঠাতা গুইসেপ্পি সিয়ন্তি বলেন, "এর ফলে মাংস চিবানো এবং তার স্বাদ দুটোই অবিকল আসল মাংস ও সামুদ্রিক খাবারের মত করে তৈরি করা সম্ভব।"

সামনের বছর থেকে রেস্তরাঁয় এই মাংস তৈরি করা সম্ভব হবে।

থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের আরেকটি গুরুত্ব পূর্ণ খাত হচ্ছে ওষুধ শিল্প। বেশ কিছুদিন ধরে চিকিৎসকেরা থ্রিডি প্রিন্ট করা প্রস্থেটিকস ব্যবহার করছেন, যা স্বাভাবিক খরচের চেয়ে অনেক কমে উৎপাদন করা সম্ভব।

আবার ব্যক্তি নির্দিষ্ট সেবাও দেয়া যায় এর মাধ্যমে। যেমন এ বছরের শুরুতে রাশিয়ায় ফ্রস্টবাইট হয়ে অর্থাৎ বরফে জমে গিয়ে পা হারানো এক বিড়ালের পায়ের মাপে থ্রিডি প্রিন্টিং এর মাধ্যমে টাইটানিয়ামের পা তৈরি করা হয়েছে।

ওষুধও থ্রিডি প্রিন্টেড হতে পারে, ছোট বাচ্চাদের চিকিৎসায় যা বিশেষ করে কাজে লাগতে পারে, যাদেরকে একেবারে অল্প পরিমাণে ওষুধ দিতে হয়।

নিরীক্ষা-ধর্মী ওষুধ গবেষক অধ্যাপক ম্যাথিউ পিক বলেন, "বেশির ভাগ সময় শিশুদের জন্য যে ওষুধ বানানো হয় তা নির্দিষ্ট কোন শিশুর কথা মাথায় রেখে বা গবেষণা চালানো হয়েছে এমন কোন শিশুর জন্য তৈরি করা হয়। কিন্তু থ্রিডি প্রিন্টিং এর মাধ্যমে একেবারে প্রয়োজন অনুসারে ওষুধ বানানো যাবে।"

গত বছর প্রথমবারের মত তার নেতৃত্বাধীন গবেষণা দল এক বাচ্চার জন্য থ্রিডি প্রিন্টেড পিল বানিয়েছিল। অন্যদিকে গবেষকেরা এখন নির্দিষ্ট রোগীর জন্য আলাদা আলাদা ডোজ ও উপসর্গ হিসাব করে ওষুধ বানাচ্ছেন।

তবে এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে থ্রিডি প্রিন্ট করা মানব প্রত্যঙ্গ। যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে তারা থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের মাধ্যমে জীবন্ত চামড়া তৈরি করেছে, যাতে রক্তনালী আছে। আগুনে পুড়ে চামড়া হারানো মানুষের জীবন রক্ষায় বিরাট ভূমিকা রাখবে এ প্রযুক্তি। তবে এখনো এ খাতে বড় বড় বাধা রয়েছে, যেমন এখনো পর্যন্ত পরীক্ষাটি করা হয়েছে ইঁদুরের ওপর। তাছাড়া চামড়া লাগানোর পর সেটি শরীরের অন্য প্রত্যঙ্গের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে কিনা তা এখনো পরীক্ষিত নয়।

এদিকে, এই প্রযুক্তি ব্যবহার ভবন বানানোর মত কাজও শুরু হয়েছে। এ বছরের শুরুতে মাত্র আট দিনে ১৯০০ স্কয়ার-ফুটের একটি বাড়ি বানানো হয়েছে থ্রিডি প্রিন্টিং ব্যবহার করে। এতে একটি রোবট দেয়ালের স্তরগুলো নির্মাণ করেছে। যদিও ঐ বাড়িটির ছাদ নির্মাণ শ্রমিকদের দিয়ে বানাতে হচ্ছে। এর ফলে শ্রমিকের বেতন এবং অন্যান্য উপকরণের দাম বাবদ খরচ অনেক কমে গেছে, বলা হচ্ছে প্রায় ৭০ শতাংশ খরচ বেঁচে গেছে।

এর বাইরে গাড়ী বানাতে থ্রিডি প্রিন্টিং ব্যবহার করা হয়, যেখানে কোন গাড়ীর আদি রূপে বহু সংখ্যায় পুনরুৎপাদন এবং যন্ত্রাংশ বানানোর কাজটি সহজ হয়ে গেছে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

প্রকাশিত : ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০১:২৬ পি. এম.

২৬/০২/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: