২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ও সিলেটে যাতায়াতে ৪ লেনের নয়া রুট হচ্ছে

প্রকাশিত : ২৯ জানুয়ারী ২০২০
  • একনেকে চার হাজার ৩২৪ কোটি ৬১ লাখ টাকার ৯ প্রকল্প অনুমোদন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনার পাশাপাশি তা ব্যবহারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোতে দক্ষ জনশক্তি তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থারও নির্দেশ দেন তিনি। মঙ্গলবার শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভায় সভাপতিত্বকালে এ নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় দেশের পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে অর্থাৎ চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের সব যানবাহনের রাজধানীতে প্রবেশ ও বের হওয়ার বিকল্প পথ হিসেবে চারলেনের একটি নতুন রুটের প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়।

সভায় মোট নয়টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৩২৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারী তহবিল থেকে ৪ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৬৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা খরচ করা হবে।

সভা শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাসহ প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। ব্রিফিংয়ের পরিকল্পনামন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা সচিব নুরুল আমিন, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম এবং ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গিস।

সভায় অনুমোদন পাওয়া অন্যতম প্রকল্প হলো রংপুর সিটি কর্পোরেশনের জন্য যানবাহন ও যন্ত্রপাতি কেনা। প্রকল্পের আওতায় বেশকিছু আধুনিক যন্ত্রপাতিও কেনা হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু যন্ত্রপাতি কিনলেই হবে না, এগুলো পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল থাকতে হবে। যন্ত্রপাতি কিনে ফেলে রাখা যাবে না। সভায় রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়নে শীঘ্রই একজন প্রকৌশলীর নেতৃত্বে একটি টিম রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে প্রশিক্ষণ নিতে যাচ্ছে। এ প্রকল্পে যেসব যন্ত্রপাতি কেনা হবে সেগুলো ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের। সেসব ব্যাপারেই তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন শুধু যন্ত্রপাতি কিনলেই হবে না, সেসব পরিচালনায় দক্ষ জনবল থাকতে হবে। টাকা দিয়ে যন্ত্রপাতি কিনে যত্রতত্র ফেলে রাখা যাবে না। প্রধানমন্ত্রীর সংশয় ছিল- আধুনিক যন্ত্রপাতি কিনে ব্যবহারের লোক পাওয়া যায় কি না এ নিয়ে। এম এ মান্নান বলেন, সেখানে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট সচিবরা প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছেন যে, তাদের কিছু লোক আগে থেকেই ছিল। আরও কিছু প্রশিক্ষণ দেবেন তারা। প্রশিক্ষণের কাজ দ্রুত করা হবে, যেন যন্ত্রপাতি আমদানির পর যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত না থাকে। একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও কিছু সাধারণ নির্দেশনা দেন। সেগুলো তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, বেশি করে ড্রেজিং (নদ-নদী খনন) করবেন। পানি যেন আমরা অপচয় না করি সেজন্য সবার প্রতি নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খরচ ধরা হয়েছে, সরকারী-বেসরকারী অংশীদারিত্বের (পিপিপি) হাতিরঝিল-রামপুরা টু ডেমরা মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করার প্রকল্পে। এটি বাস্তবায়নে খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ২০৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা। দেশের পূর্বাঞ্চল অর্থাৎ চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের সব যানবাহন রাজধানীতে প্রবেশ এবং বের হওয়ার মূল পথ যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদ। তবে এ দুই বিভাগ থেকে রাজধানীতে প্রবেশ ও বের হতে বিকল্প পথ সৃষ্টিতে প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয় একনেক সভায়। বিকল্প পথ হিসেবে হাতিরঝিল-রামপুরা সেতু-বনশ্রী-শেখেরজায়গা-আমুলিয়া-ডেমরা মহাসড়ক (চিটাগাং রোড মোড় এবং তারাব লিংক মহাসড়ক) চারলেনে উন্নীত করা হবে। এটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতর। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

হাতিরঝিল সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবিত এ সড়কটি ফোরলেনে উন্নীত হলে প্রতিদিন এটি দিয়ে ১১ হাজার যানবাহন চলাচল করতে পারবে। মহাসড়কটি রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বন্দরনগর চট্টগ্রাম, সিলেট, নারায়ণগঞ্জসহ অন্য জেলার সংযোগ ঘটাবে। প্রকল্পের যৌক্তিকতায় বলা হয়, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে রাজধানীর তেজগাঁও, রামপুরা, হাতিরঝিল, গুলশান, বাড্ডা অঞ্চলের মানুষ অল্প সময়ে ঢাকা থেকে সিলেট মহাসড়ক এবং চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাতায়াত করতে পারবে। এ ছাড়া মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভার ব্যবহার না করেও রাজধানীর অভ্যন্তরে স্বল্প সময়ে প্রবেশ করতে পারবে।

যানজট নিরসনে বিকল্প পথ তৈরির জন্য রামপুরা-আমুলিয়া-ডেমরা-চিটাগাং রোড পিপিপি ভিত্তিতে চারলেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সড়কটি ঢাকা শহরের সঙ্গে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নেটওয়ার্ক জাতীয় মহাসড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম (এন-১) এবং ঢাকা-সিলেট (এন-২) যুক্ত করবে।

মন্ত্রী জানান, অর্থ দিয়ে প্রকল্প এলাকার জমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন করা হবে। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী পরামর্শক ও স্বাধীন প্রকৌশল পরামর্শক সেবার মাধ্যমে নির্মাণ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রম তদারকি করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটার সামগ্রী, ভাড়াভিত্তিক যানবাহন ব্যবহার করা হবে। প্রস্তাবিত সড়কের মূল প্রকল্পের অংশ রয়েছে ৩টি। প্রথমটি হচ্ছে রামপুরা ব্রিজ থেকে ডেমরা সার্কেল, দ্বিতীয়টি ডেমরা সার্কেল থেকে চিটাগাং রোড ও তৃতীয়টি ডেমরা থেকে তারাবো মোড় পর্যন্ত। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বাইপাস এ সড়কটি হবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কোন জটলা ছাড়াই ঢাকা থেকে সিলেট ও চট্টগ্রামে যাতায়াত করতে পারব আমরা।

এছাড়াও অন্যান্য প্রকল্প হলো রংপুর সিটি কর্পোরেশনের জন্য যানবাহন ও যন্ত্রপাতি ক্রয় প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১১৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। রাজশাহী ওয়াসা ভবন নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৬৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। ভান্ডাল জুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৯৫৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

প্রকাশিত : ২৯ জানুয়ারী ২০২০

২৯/০১/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: