২৯ জানুয়ারী ২০২০, ১৬ মাঘ ১৪২৬, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে আজ রাজপথে মমতা

প্রকাশিত : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:৫৫ এ. এম.
নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে আজ রাজপথে মমতা

অনলাইন ডেস্ক ॥ নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ২০১৯ ও এনআরসি-র বিরোধীতায় আজ পথে নামছেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকালই রাজ্যের সব জেলায় প্রতিবাদ মিছিল করেছে তৃণমূল। আজ, সোমবার কলকাতার বি আর আম্বেদকর মূর্তি থেকে জোড়াসাঁকো পর্যন্ত মিছিল করবে রাজ্যের শাসক দল। মিছিলের নেতৃত্বে থাকবেন স্বয়ং দলনেত্রী।

নতুন নাগরিকত্ব আইনের মাধ্যমে বিজেপি ধর্মের ভিত্তিতে দেশ বিভাগের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে জোড়া-ফুল শিবির। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ২০১৯ ও এনআরসির প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই রাজ্যে হিংসার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গত বুধবার থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ চলছে। স্টেশনে ভাঙচুর, ট্রেন ও বাসে অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে পথ অবরোধ করা হচ্ছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। রাজ্যের ছয় জেলায় বন্ধ করা হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা। এই পরিস্থিতিতে বাংলায় শান্তি বজায় রাখতে আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শান্তিপূর্ণ পথে আন্দোলনের আর্জি জানানো হয়েছে। হিংসা ছড়ালে তা কড়া হাতে মোকাবিলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে। প্রতিবাদ মিছিলের সঙ্গেই এদিন তাই রাজ্যে শান্তির দাবিতেও পদযাত্রা হবে বলে জানিয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব।

আজ, দুপুর ১টায় রেড রোডে আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশ প্রথমে জমায়েত করবেন জোড়া-ফুল শিবিরের নেতা,কর্মীরা। সেখান থেকে মেয়ো রোড, ধর্মতলা, সেন্ট্রাল এ্যাভিনিউ হয়ে মিছিল পৌছবে জোড়াসাঁকো ঠাকুর বাড়িতে। মিছিলের নেতৃত্বে থাকবেন তৃণমূল সুপ্রিমো। লালবাজার সূত্রে খবর, দুপুরে য়ান নিয়ন্ত্রণ করা হবে রেড রোড ও সংলগ্ন রাস্তাগুলোতে। মিছিল যে পথে এগোবে সেখানেই যান নিয়ন্ত্রিত হবে।

আগামিকাল, মঙ্গলবারও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ২০১৯ ও এনআরসি-র বিরোধীতায় প্রতিবাদ মিছিল করবে রাজ্যের শাসক দল। মমতার নেতৃত্বে সেই মিছিল হবে এইট-বি বাসস্ট্যান্ড থেকে গান্ধীমূর্তির পাদদেশ পর্যন্ত। জানা গিয়েছে, বুধবার হাওড়া ময়দান থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত মিছিল করবে তৃণমূল কংগ্রেস।

এনআরসি-ক্যাবের প্রথম থেকেই তীব্র বিরোধিতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার রাজপথে প্রতিবাদ মিছিলে এর আগেও হেঁটেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ব্যাখ্যা, এনআরসি-ক্যাব ইস্যুকে হাতিয়ার করেই বাংলার ৩ কেন্দ্রে উপনির্বাচনে জয়ের হাসিল করেছে ঘাস-ফুল শিবির। তাই আগামী বছর পুরসভা ভোট ও ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের কথা বিবেচনা করে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ২০১৯ ও এনআরসি-র বিরোধীতায় সুর আরও তীব্র করতে মরিয়া তৃণমূল নেত্রী।

এদিকে রবিবারও মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা সহ রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলায় এনআরসি ও সিএএ-এর বিরোধীতায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। আমডাঙা, অশোকনগর, মধ্যমগ্রামে রাস্তায় গাছের গুড়ি ফেলে, টায়ার জ্বালিয়ে চলছে আন্দোলন। কোথাও আবার বিক্ষোভকারীদের জন্য রাস্তার উপরেই চলল রান্নাবান্না। ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের উপরে টায়ার জ্বালিয়ে গাছের গুড়ি ফেলে চলছে অবরোধ। মুর্শিদাবাদের সরাগাছি স্টেশন থেকে শুরু করে,রেজিনগর,সাগড়দিঘির মনিগ্রাম স্টেশন,জেলার উত্তরের শেষ প্রান্তে অবস্থিত ফারাক্কা স্টেশনে চলে ট্রেন অবরোধ। আরপিএফের গাড়িতে অগ্নি সংযোগ করাহয়। অভিযোগ, সুতি থানার দফাহাট এলাকায় একাধিক বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।পুলিশ টিয়ার গ্যাসের সেল ফটিয়েও তাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খায় বলে জানা গিয়েছে। এইদিকে আগুন নেভাতে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের রোষে মুখে পড়তে হয় এক আরপিএফ কর্মীকে। এই ধরনের আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়।

প্রকাশিত : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:৫৫ এ. এম.

১৬/১২/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

বিদেশের খবর



শীর্ষ সংবাদ: